বাংলাদেশ

মা-ইলিশ নিধনের দায়ে ৫৫ জেলেকে কারাদন্ড

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা-ইলিশ নিধনের দায়ে তিন জেলায় ৫৫ জেলাকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড ও জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চার, চাঁদপুরে ২০ ও ভোলায় ৩৫ জেলেকে এ দন্ড প্রদান করা হয়। প্রতিনিধি ও সংবাদদাতার পাঠানো খবর :

প্রিয় পাঠক আমাদের পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন

ভৈরব (কিশোরগঞ্জ) : নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ ও কারেন্টজাল দিয়ে মাছ শিকারের অপরাধে কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ৪ জেলেকে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় নদীতে পাতা অবস্থায় এক লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্টজাল এবং তিন কেজি ইলিশসহ ৩৫ কেজি মাছ জব্দ করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ

আদালতের নির্দেশে কারেন্টজালগুলো আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস এবং মাছগুলো উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ছনছাড়া এতিমখানায় দিয়ে দেওয়া হয়। গত ৯ অক্টোবর থেকে ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত দেশব্যাপী ইলিশ ধরা, বিক্রি, মজুত ও পরিবহণের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। এ ছাড়াও নদীতে কারেন্টজালের ব্যবহার দেশের মৎস্য আইনে দন্ডনীয় অপরাধ হওয়ায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. লতিফুর রহমান।

ভৈরব উপজেলা মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে উপজেলার আগানগর ইউনিয়নের শ্যামপুর, টুকচাঁনপুর এলাকার মেঘনা নদীতে অভিযান চালায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানার নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদীতে ইলিশ ধরা এবং নিষিদ্ধ কারেন্টজাল দিয়ে মাছ শিকারের অপরাধে বাদল মিয়া (৩০), মাসুদ মিয়া (৩৮), মাহতাব (২৫) এবং আরশ মিয়া (১৯) নামে ৪ জেলেকে আটক আর্থিক দন্ড প্রদান করে।

এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুবনা ফারজানা বলেন, এত প্রচার প্রচারণার পরও নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওরা ইলিশ শিকার এবং নিষিদ্ধ কারেন্টজাল ব্যবহার করে মাছ ধরার অপরাধে আটককৃতদের এই দন্ড প্রদান করা হয়। এ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়ে তিনি জানান, যারাই সরকারি আইন অমান্য করবে, তাদেরই শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

ভৈরব নৌ-পুলিশের সহযোগিতায় পরিচালিত ওই ভ্রাম্যমাণ আদালতে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. লতিফুর রহমান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেদি হাসান ও আগানগর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সেলিম আহমেদ।

এদিকে আটক ও দন্ডপ্রাপ্ত জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, প্রতিদিন মাছ শিকার না করলে তাদের পেটে ভাত জুটবে না। সরকার মাছ শিকার বন্ধ ঘোষণা করেছেন দীর্ঘ ২২ দিন। অথচ তাদের জন্য কোনো বরাদ্দ দেওয়া হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. লতিফুর রহমান জানান, ভৈরব উপজেলা ৩০৩৫ জেলে কার্ডধারী। এর মধ্যে ৬৯৯ জন ইলিশ মাছ শিকারি জেলে এ বছর নিষিদ্ধকালীন ২০ কেজি চাল করে পাবেন। জেলা প্রশাসক বরাবর বরাদ্দ প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। হয়তো আগামী ১৫ তারিখের দিকে সেই বরাদ্দের চাল পাওয়া যাবে।

চাঁদপুর : চাঁদপুরের মেঘনা নদীর অভয়াশ্রম এলাকায় মা- ইলিশ শিকারের দায়ে ১৬ জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড দিয়েছে পৃথক দু’টি ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার সকালে হাইমচরে আটক জেলেদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসী বেগম। তিনি ৬ জেলেকে ১ বছর করে কারাদন্ড প্রদান করেন।

এর আগে শুক্রবার রাতে মতলব উত্তর উপজেলায় আটক হয় ১০ জেলে। মতলব উত্তরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শারমিন আক্তার। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৩টি নৌকা ও ৬০ হাজার মিটার কারেন্টজাল জব্দ করা হয়। চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়, শুক্রবার দিনগত রাতে মতলব উত্তর উপজেলার মেঘনা নদীর ষাটনল ও মোহনপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১০ জেলেকে আটক করা হয়। তাদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদন্ড প্রদান করা হয়।

কারাদন্ডপ্রাপ্তরা হলেন-কিল (২২), মো. শিপন (১৯), আ. রহিম (৪০), মো. সাগর হোসেন (২৪), মীর হোসেন (১৮), মো. নাছির উদ্দিন (২২), মো. বাবু (২০), নজরুল ইসলাম (২৮), মো. মাসুদ (৩০), মো. দুলাল (২৫)।

অপরদিকে হাইমচর উপজেলার নীলকমল ইউনিয়নের ইশানবালা এলাকায় শুক্রবার গভীর রাত থেকে শনিবার সকাল ৭টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে মেঘনা নদীতে মা-ইলিশ আহরণ করে পালিয়ে যাওয়ার সময় আটক হয় ৬ জেলে। এ সময় ১৫০ কেজি মা-ইলিশ ও দুইটি মাছ ধরার নৌকা জব্দ করে টাস্কফোর্স।

হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌসী বেগম আটক ছয় জেলেকে এক বছর করে কারাদন্ড প্রাদন করেন।

কারাদন্ডপ্রাপ্ত জেলেরা হলেন-হাইমচর উপজেলার মজিবর রাঢ়ী (৪৫) ও মো. সাইফুল ইসলাম (২০)। সদর উপজেলার আক্কাছ খান (৪২), সুমন খান (৩৫), মো. আরিফ (২০) ও মো. রিপন গাজী (১৮)।

চাঁদপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুল বাকি জানান, দুই উপজেলায় কারাদন্ডপ্রাপ্ত জেলেদের শনিবার সকালে চাঁদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অভয়াশ্রম এলাকায় জেলা উপজেলা টাস্কফোর্সের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

ভোলা: ভোলা জেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা-ইলিশ শিকার করার অপরাধে গত ২ দিনে ৩৫ জেলেকে আটক করা হয়। শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার দুপুর পর্যন্ত অভিযানে মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন এলাকা থেকে কোস্টগার্ড, পুলিশ, মৎস্য বিভাগ যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। এ সময় একটি ফিসিং ট্রলার, প্রায় এক হাজার কেজি মা-ইলিশ ও ২০ হাজার মিটার জাল জব্দ করা হয়েছে। এদিকে আটককৃতদের মধ্যে ২৫ জেলেকে ১ বছর করে কারাদন্ড ও ৩ জনকে জরিমানা প্রদান করা হয়েছে।

ভোলা সদর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান জানান, ভোলা সদর উপজেলার পূর্ব ইলিশা এলাকার মেঘনা নদীতে শনিবার সকালে ৩ জেলেকে মা-ইলিশ ও কারেন্টজালসহ আটক করা হয়। প?রে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভোলা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামাল হো?সেন আটককৃত ২ জেলেকে ১ বছর ক?রে বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান ও ১ জনকে ৫ হাজার টাকা জ?রিমানা প্রদান ক?রেন।

অপর দিকে ভোলা জেল মৎস্য কর্মকর্তা আজাহারুল ইসলাম জানান, শুক্রবার ভোলা সদরে আরো ১০ জন, তজুমদ্দিনে ৯ জন, চরফ্যাসনে ৫ জন ও মনপুরায় ৮ জন জেলেকে একটি ফিসিং ট্রলার, ১ হাজার কেজি মা-ইলিশ ও ২০ হাজার মিটার জালসহ আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২৩ জনকে ১ বছর কারাদন্ড ও ২ জনকে জরিমানা করা হয়। এ ছাড়া ভোলা সদরের অপ্রাপ্ত বয়স হওয়ায় ৭ শিশুজেলেকে ছেড়ে দেয়া হয়। এ ছাড়া জব্দকৃত জাল পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে ও মাছ দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

প্রিয় পাঠক আপনার মতামত জানান

এ বিভাগের আরো খবর

Close
Close