দেশজুড়ে

বিনা বিনামজুরিতে কৃষকের ধান কেটে দিচ্ছেন তারা

সারাদেশে যখন কৃষকরা ধানকাটা শ্রমিকের মজুরি বাড়ার কারণে ধান কাটতে পারছেন না ঠিক তখন শেরপুরে একদল শিক্ষার্থী এবং যুবকের উদ্যোগে এলাকার দরিদ্র কৃষকের পাকা ধান স্বেচ্ছায় কেটে দেয়া হচ্ছে। শেরপুর সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের মুন্সিরচর গ্রামের স্থানীয় হোসাইন মারুফ ক্রীড়াচক্রের উদ্যোগে স্বেচ্ছাশ্রমে এ ধান-কাটার কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়।
শুক্রবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তারা স্থানীয় দরিদ্র কৃষকদের ধান কেটে দেন। প্রায় অর্ধ-শতাধিক ছাত্র-যুবক মিলে এদিন ওই এলাকার ৫০ বিঘা জমির ধান কেটে দেন।

প্রিয় পাঠক আমাদের পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন

এদিকে স্বেচ্ছাশ্রমে কৃষকের ধান কেটে দেয়ার খবর পেয়ে সাবেক এক শিক্ষার্থীর আহ্বানে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী শেরপুরের ওই গ্রামে এসেছেন ধান কাটতে। তিনি জানান, শেরপুরে স্বেচ্ছাশ্রমে এই ধান কাটা কর্মসূচিটা হলো একটি দৃষ্টান্ত ও অনুকরণীয়। সারাদেশে এখন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ বন্ধ আছে। এখন যদি দেশের বিভিন্ন এলাকার ছাত্র-যুবকরা শেরপুরের এই যুবক-শিক্ষার্থীদের মতো অসহায় কৃষকের ধান কেটে দেয় তাহলে কৃষকরা উপকৃত হবে। এটা হবে কৃষকদের জন্য সবচেয়ে বড় ঈদ উপহার। কারণ কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।

স্থানীয়রাও খুশি এলাকার ছাত্র-যুব সমাজের এই স্বেচ্ছাশ্রমে ধানকাটা এবং দুর্দিনে কৃষকের পাশে থাকায়। অনেক কৃষকের ধান পাকলেও তারা উচ্চ মজুরির কারণে ধান কাটতে পারছিলেন না। এখন তারা বেশ আনন্দিত।

কৃষক সায়েদ আলী (৬৫) বলেন, আমার ৫৫ শতাংশ জমির ধান কাটতে প্রায় ৫ হাজার টাকা শ্রমিকের মজুরি লাগতো। কিন্তু এলাকার ছাত্র-যুবকরা ধান কেটে দেয়ায় আমার খুব উপকার হইছে। দোয়া করি আল্লায় তাগরে ভালো করুক।

আরেক কৃষক নুরু মিয়া (৫৫) বলেন, এক মণ ধানের দাম বাজারে অহন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। আর একজন ধানকাটা শ্রমিকের প্রতিদিনের মজুরি লাগে ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা। আবার একবেলা খাবার দেওয়ন লাগে। যে কারণে ক্ষেতের ধান পাকলেও কাটার উপায় ছিল না। এলাকার পুলাপানেরা মিল্লা আমার দুই বিঘা জমির ধান কাইট্টা দিয়া আমারে বাঁচাই দিছে।

স্থানীয় অনুরণ এক্সক্লুসিভ পাবলিক স্কুলের পরিচালক সাদেকুন নাঈম বলেন, আমরা সবাই কৃষকের সন্তান। কৃষকের দুঃসময়ে কৃষকের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য বলে মনে হয়েছে। এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ রয়েছে। তাই আমাদের স্কুলসহ এলাকার ছাত্র-যুবকদের সংগঠিত করে আমরা স্বেচ্ছাশ্রমে ধানকাটার জন্য মাঠে নেমেছি। এটা খুবই আনন্দের এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনের এক বিরাট সুযোগ বলে আমি মনে করি।

স্বেচ্ছাশ্রমে ধানকাটার মূল উদ্যোক্তা ও স্থানীয় হোসাইন মারুফ ক্রীড়াচক্রের সভাপতি হোসাইন মারুফ জানান, স্থানীয় প্রায় অর্ধশত শিক্ষার্থী ও যুবককে সঙ্গে নিয়ে এলাকার হতদরিদ্র কৃষকের ধান কেটে দেয়া হচ্ছে। প্রথম দিন প্রায় ৫০ বিঘা জমির ধান কাটা হয়। তিনি আরও জানান, এ ধারাবাহিকতায় যতদিন জমিতে পাকা ধান রয়েছে ততদিন পর্যন্ত তারা পর্যায়ক্রমে সকল কৃষকের ধান কেটে দেবেন।

শেরপুর খামারবাড়ির উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আশরাফ উদ্দিন বলেন, জেলায় এবার ৮৯ হাজার ৫৫৮ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয় ৯১ হাজার ৭২ হেক্টর জমিতে। মাঠে এবার ধানের ফলনও হয়েছে বাম্পার। সরকারিভাবে ধানের যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতিমণ এক হাজার ৪০ টাকা তা যুক্তিযুক্ত। কিন্তু বাজারে বর্তমানে ধানের দাম কম এবং ধানকাটা শ্রমিকের মূল্য বেশি। তাই কৃষকের মাঝে একটু হতাশা বিরাজ করছে

প্রিয় পাঠক আপনার মতামত জানান

এ বিভাগের আরো খবর

Close
Close