দেশজুড়ে

নিখোঁজ ১৮ শ্রমিকের সন্ধান মিলেনি, পরিবারে মাতম

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবিতে পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার নিখোঁজ ১৮ মাটিকাটা শ্রমিকের গ্রামের বাড়িতে চলছে মাতম। এদিকে ঘটনার তিন দিন পার হয়ে গেলেও এখনও ট্রলারটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। সন্ধান মিলেনি নিখোঁজ ১৮ শ্রমিকের।গেল মঙ্গলবার ভোরে গজারিয়া উপজেলার ষোলয়ানি এলাকার মেঘনা নদীতে মালবাহী জাহাজের ধাক্কায় মাটিবোঝাই ট্রলারটি ডুবে যায়। এরপর ১৪ জন শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও ১৮ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। এই খবর নিখোঁজ শ্রমিকদের বাড়িতে পৌঁছার পর স্বজনরা বুকফাটা কান্নায় ভেঙে পড়েন। নিখোঁজ ১৮ শ্রমিক হলেন পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের মুন্ডুমালা গ্রামের গোলাই প্রামানিকের ছেলে ছোলেমান হোসেন, জব্বার ফকিরের ছেলে আলিফ হোসেন ও মোস্তফা ফকির, গোলবার হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন, আব্দুল মজিদের ছেলে জাহিদ হোসেন, নুর ইসলামের ছেলে মানিক হোসেন, ছায়দার আলীর ছেলে তুহিন হোসেন, আলতাব হোসেনের ছেলে নাজমুল হোসেন, লয়ান ফকিরের ছেলে রফিকুল ইসলাম, দাসমরিচ গ্রামের মোশারফ হোসেনের ছেলে ওমর আলী ও মান্নাফ আলী, তোজিম মোল্লার ছেলে মোশারফ হোসেন, আয়ান প্রামানিকের ছেলে ইসমাইল হোসেন, সমাজ আলীর ছেলে রুহুল আমিন, মাদারবাড়িয়া গ্রামের আজগর আলীর ছেলে আজাদ হোসেন, চন্ডিপুর গ্রামের আমির খান ও আব্দুল লতিফের ছেলে হাচেন আলী ও উল্লাপাড়া উপজেলার গজাইল গ্রামের তোফজ্জল হোসেনের ছেলে রহমত আলী।সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ভাঙ্গুড়া উপজেলার খানমরিচ ইউনিয়নের মুন্ডুমালা, মাদারবাড়িয়া, চন্ডিপুর ও দাসমরিচ গ্রাম পরিণত হয়েছে শোকের গ্রামে। নিখোঁজ শ্রমিকদের বাড়িতে চলছে মাতম। কেউ বা সংসারের উপার্জনক্ষম একমাত্র ব্যক্তিকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। আবার কেউবা স্বামীকে হারানোর সংবাদে আহাজারি করছেন। নিখোঁজ সন্তানের চিন্তায় বাবা-মায়ের আর্তনাদে ভারী হয়ে পড়েছে গ্রামের বাতাস। বাবা হারানো সন্তানদের সান্ত্বনা দেয়ার ভাষাও খুঁজে পাচ্ছেন না প্রতিবেশীরা। ভবিষ্যতের চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছে দরিদ্র পরিবারগুলো।

বিডিটাইপ

জানা যায়, ১০ দিন আগে দাদনের টাকা দিয়ে মাটিকাটার কাজ করতে নিখোঁজ শ্রমিকদের নিয়ে যান শ্রমিক সরদার আব্দুল হাই। মাঝেমধ্যে মোবাইল ফোনে কথা বললেও মঙ্গলবার রাত থেকে তাদের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।  নিখোঁজ দুই শ্রমিকের বাবা জব্বার ফকির জানান, দুই ছেলে ও মেয়ের জামাই এই ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ রয়েছেন। তিনি কী করবেন ভেবে পাচ্ছেন না। বারবার চোখ মুছছেন আর ছেলে ও মেয়ে জামাইর জন্য আহাজারি করছেন।রুমা খাতুন নামের এক নারী স্বামীকে হারিয়ে পাগলপ্রায়। তিনি কাঁদছেন আর বলছেন দুই সন্তানকে কে দেখবে কে খাওয়াবে।ছয় মাস আগে মুসলিমা খাতুনের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল নিখোঁজ তুহিনের। এলাকায় কাজ না থাকায় ১০ হাজার টাকা দাদন নিয়ে তিনি মাটি কাটার কাজের জন্য নারায়ণগঞ্জ যান। হাতের মেহেদী মুছতে না মুছতেই স্বামীকে হারিয়ে দুচোখে অন্ধকার দেখছেন মুসলিমা খাতুন। এদিকে গতকাল বুধবার বিকেলে জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারকে শুকনো খাবার ও কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। অসহায় পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে সব ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।ভাঙ্গুড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, নিখোঁজ শ্রমিকদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সার্বক্ষণিক উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে খোঁজ খবর নেয়া হচ্ছে। চাহিদানুযায়ী সহযোগিতাও করছে পাবনা জেলা প্রশাসন।

Meghna, trawler, killed, disappeared, arrow, bdtype.com

গেল মঙ্গলবার (১৫ জানুয়ারি) কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ট্রলারে মাটি নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বক্তারখালী এলাকায় যাচ্ছিলেন ৩০-৩২ জন শ্রমিক। ট্রলারে থাকা শ্রমিকের মধ্যে কেউ ঘুমিয়েছিলেন, কেউবা জেগে। রাত সাড়ে তিনটা থেকে চারটার মধ্যে ট্রলারটি মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী কালিয়াপুর এলাকার মেঘনা নদীতে পৌঁছার পর একটি মালবাহী জাহাজের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ট্রলারটি ডুবে যায়। ট্রলারে থাকা শ্রমিকদের মধ্যে ১৪ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও এখনও নিখোঁজ রয়েছেন ১৮ জন।

এ বিভাগের আরো খবর

Close