দৃষ্টি আকর্ষণবাংলাদেশ

তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নপূরণের প্ল্যাটফর্ম

গত বছর ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সভায় গিয়ে পরিচয় হয়েছিল এক চীনা উদ্যোক্তার সঙ্গে। অবশ্য তাঁকে উদ্যোক্তা না বলে উদ্যোক্তাদের রোল মডেল বলাই ভালো। এই ভদ্রলোককে ফোর্বস ম্যাগাজিন পৃথিবীর সবচেয়ে ক্ষমতাধর মানুষদের একজন বলে ঘোষণা করেছে। তাঁর নাম জ্যাক মা। গোটা চীনে তিনিই সর্বপ্রথম ব্যক্তি যিনি ইন্টারনেটের ক্ষমতা সম্পর্কে বুঝতে পেরেছিলেন। তিনি বর্তমানে আলিবাবা গ্রুপের নির্বাহী চেয়ার।

প্রিয় পাঠক আমাদের পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম ২০১৬ সালে আমাকে ‘ইয়ং গ্লোবাল লিডার’ হিসেবে মনোনীত করে। এর ফলে প্রতিবছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মনোনীত তরুণ বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে জেনেভায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সভাগুলোতে আমার অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ২০০১ সালে তিনিও ‘ইয়ং গ্লোবাল লিডার’ হিসেবে মনোনীত হয়েই এখানে এসেছিলেন। বর্তমানে তিনি এই ফোরামটির বোর্ড মেম্বার হিসেবে কাজ করছেন। গত বছর তিনি এসেছিলেন লিডারশিপ নিয়ে বক্তব্য দিতে। তাঁর কাছ থেকে একটা আশ্চর্য বিষয় জেনেছিলাম। তিনি বলেন, ‘যা কিছু নিয়ে অধিকাংশ মানুষ অভিযোগ করে, এই সকল অভিযোগের পাশেই হাত ধরাধরি হাঁটছে উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ’।

জ্যাক মার কথাটাকে আমাদের দেশের পরিপ্রেক্ষিতে বিবেচনা করে দেখা যাক। ঢাকা শহরের যানজট নিয়ে মানুষের অভিযোগের অন্ত ছিল না। এখন মানুষ যানজটকে পাশ কাটিয়ে ‘উবার’ বা ‘পাঠাও’ এর মতো সেবা ব্যবহারের সুযোগ পেয়েছে। এর ফলে বিপুল পরিমাণ মানুষের জন্য তাদের দৈনন্দিন যাত্রাপথের স্থবিরতা কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ফলে এই ধরনের সার্ভিসের জনপ্রিয়তা প্রতিদিনই বাড়ছে। দেখা যাচ্ছে, যা নিয়ে অধিকাংশ মানুষের অভিযোগ, আসলে সেখানেই রয়েছে সুযোগ।

অনেকটা ছাইয়ের নিচে থাকা অমূল্য রতনের মতো। একজন উদ্যোক্তাকে সেই রতনটি চেনার ক্ষমতা থাকতে হবে। একই সঙ্গে তাঁকে অন্তত ১০ বছর পরের পৃথিবীটা কিভাবে চলবে, সেটাও বোঝার চেষ্টা করতে হবে। জ্যাক মা আমেরিকায় ইন্টারনেটের ব্যবহার দেখে ১৯৯৬ সালে চীনে ফিরে যখন এর সুযোগের কথা মানুষকে বলতে শুরু করেন। তখন চীনরা বিশ্বাসই করেনি যে এমন কিছু থাকতে পারে। জ্যাক মার কোনো উচ্চশিক্ষার ডিগ্রি ছিল না। কোনো টাকা-পয়সাও ছিল না। কিন্তু জ্যাক মা বুঝেছিলেন, পৃথিবীতে যেহেতু ইন্টারনেট আছে, এর দ্রুত বিস্তার ঘটবে এবং আগামী ৩০ বছরের মধ্যে ৯০ শতাংশ বাণিজ্য অনলাইনে চলে আসবে। দেখার এই ক্ষমতাটাই উদ্যোক্তা হিসেবে জ্যাক মার শুধু অর্থনৈতিক অবস্থাটাই নয়, পৃথিবীর অনেক মানুষের জীবনকেই বদলে দিয়েছে।

পৃথিবীতে নতুন উদ্যোগ বা স্টার্টআপ বিজনেসগুলোর ওপর চালানো সমীক্ষা থেকে জানা যায়, প্রথম দুই বছরের মধ্যে ৮০ শতাংশ স্টার্টআপ ঝরে পড়ে বা বন্ধ হয়ে যায় এবং ৫০ শতাংশ উদ্যোগ ব্যর্থ হয় প্রথম পাঁচ বছরে। এসব স্টার্টআপের অনেকই কিন্তু ভালো আইডিয়া এবং চলার মতো ফান্ড নিয়ে শুরু হয়েও দাঁড়াতে পারে না। তাহলে একটা ভালো আইডিয়া থাকাই কি একটা সফল স্টার্টআপের প্রথম ও প্রধান শর্ত নয়? এসব উদ্যোগের পেছনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগই বা একটা স্টার্টআপকে সফল করে তোলার জন্য কততম শর্ত?

আমেরিকান প্রযুক্তিবিদ বিল টি গ্রস ১৯৯৬ সাল থেকেই বিজনেস ইনকিউবেটরের মাধ্যমে স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করছেন। যিনি ওহপ. বা ড়েঞড়.পড়স এর মতো সার্চ ইঞ্জিন সৃষ্টি করেছিলেন, যা পরবর্তী সময় ইয়াহু কিনে নেয় এবং ‘ইয়াহু! সার্চ, মার্কেটিং’ এ পরিণত করে। টুইটারের সার্চ ইঞ্জিন টুইট-আপসহ অসংখ্য স্টার্টআপ তাঁর হাতে সৃষ্টি হয়েছে। বিল টি গ্রস ১০০ কম্পানির ডাটা সংগ্রহ ও পর্যালোচনার মাধ্যমে স্টার্টআপের সফলতা ও ব্যর্থতার যে তথ্য আমাদের সামনে হাজির করেছেন, তা ছিল বিস্ময়কর। তার গবেষণা বলছে, একটি স্টার্টআপের সফলতার অন্যতম প্রধান শর্ত একটি ভালো বিজনেস আইডিয়া হলেও, এটি ১ নম্বর শর্ত নয় বরং পাঁচটি প্রধান শর্তের মধ্যে এর অবস্থান তৃতীয়। এ গবেষণায় বিনিয়োগের বিষয়টি পঞ্চম এবং বাকি চারটি শর্তের চেয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ। তাহলে প্রধান শর্তটি কী? গ্রসের গবেষণা বলছে, এটি হচ্ছে টাইমিং। অর্থাৎ একজন উদ্যোক্তার এমন একটি আইডিয়া নিয়ে কাজ করতে হবে, যেটাকে অবশ্যই সময়োপযোগী হতে হবে। একজন উদ্যোক্তাকে ভাবতে হবে, তার আইডিয়াটি বাস্তবায়নের সময় কি এখনো আসেনি? বা মানুষ কি এই মুহূর্তে প্রস্তুত এই ধরনের সেবা নিতে?

‘উবার’-এর মতো রাইড শেয়ারিং উদ্যোগগুলোর সফলতার অন্যতম কারণ হচ্ছে এর সময়োপযোগিতা। ঢাকা শহরে ক্রমবর্ধমান মানুষ, যানজট, গণপরিবহনগুলোতে গাদাগাদি ভিড় এবং সিএনজি অটোরিকশাচালকদের দৌরাত্ম্যের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে এই সার্ভিসের জন্য চাহিদা তৈরি হয়েছে। আবার ২০১২ সালে ও ২০১৮ সালে চালু হওয়া যথাক্রমে থ্রিজি ও ফোরজি নেটওয়ার্কও এই ধরনের সেবার জনপ্রিয় হয়ে ওঠার পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু ‘উবার’ এর উদ্যোক্তারা যদি ২০০৫ সালে একই উদ্যোগ নিয়ে এ দেশে কাজ শুরু করতেন, তাহলে সফলতার মুখ দেখতে তাঁদের পাঁচ-সাত বছরের বেশি সময় লাগত এবং এই পুরো সময়টা ধরে বিনিয়োগ করার প্রয়োজন হতো। এই দীর্ঘ সময়ে বিনিয়োগকারীরা হতাশ হয়ে পড়তে পারতেন। অথবা দেখা যেত, ইন্টারনেটের ধীরগতির কারণে এমন চমৎকার উদ্যোগটি দাঁড়াতেই পারেনি। তাই উদ্যোগ সফল হতে হলে তাকে সময়োপযোগী হতে হবে।

স্টার্টআপকে সফল করার দ্বিতীয় প্রধান শর্ত হচ্ছে টিম। উদ্যোক্তা হওয়ার জন্য উচ্চশিক্ষা বা প্রচুর অর্থকড়ি থাকাটা কোনো আবশ্যিক শর্ত নয়। কিন্তু উদ্যোক্তা যদি তার বন্ধু বা পরিচিতদের ভেতর থেকে অথবা পৃথিবীর যেকোনো প্রান্ত থেকে উপযুক্ত মানুষদের নিয়ে প্রয়োজনীয় টিম সৃষ্টি করতে পারে, তাহলে উদ্যোগটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় অনেকাংশে। উদ্যোক্তাকে শুধু এই মানুষগুলোকে তার লিডারশিপের মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে। এই ধরনের টিম তৈরির জন্য তরুণদের সুযোগ সবচেয়ে বেশি। পেপ্যালের কো ফাউন্ডার ম্যাক্স লেভচিন যখন অনলাইন মানির সিকিউরিটি বাড়ানোর এলগোরিদম নিয়ে কাজ করছেন, তখন তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।

ফলে তাঁর জানা ছিল, একই ধরনের এলগোরিদম নিয়ে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ে আরো কারা কাজ করছে। ম্যাক্স নিজে ছিলেন দক্ষ কোডার, কিন্তু তিনি নিজের ভেতরে স্টার্টআপ পরিচালনা করার মতো দক্ষতার অভাব বোধ করতেন। বন্ধুদের অনেককেই তিনি পেপ্যালের সিইও হওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। পরে তাঁর অনুরোধে সাড়া দিয়ে পিটার থেইল এগিয়ে আসেন। যিনি পেপ্যালের প্রথম বিনিয়োগকারীও ছিলেন। ম্যাক্স অধিকার করলেন কম্পানির সিটিও পদ।

ভালোভাবে টিম পরিচালনার জন্য একজন উদ্যোক্তাকে নিজের স্বপ্নগুলোকে তাঁর সহকর্মীদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। এ কারণে একজন উদ্যোক্তার তাঁর উদ্যোগের সফলতা সম্পর্কে নিজের ভেতরে গভীর বিশ্বাস থাকা প্রয়োজন। কারণ তাঁকে পুরো সময়টায় অনেক ঘাত-প্রতিঘাতের ভেতর দিয়ে যেতে হবে। কখনো সমস্যাগুলো এত তীব্র হয়ে উঠবে, হার মেনে নিতে বা ব্যর্থতাকে স্বীকার করে নিতে মন চাইবে। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে তাঁকে তুলে ধরবে তাঁর নিজের আইডিয়া সম্পর্কে গভীর বিশ্বাস। এটিই একজন উদ্যোক্তার চালিকাশক্তি। তাঁর স্বপ্ন। জ্যাক মা বলেন, ‘আমরা ব্যর্থ হলে অন্য কেউ নিশ্চয়ই সফল হবে।’ আসলে একটা সমস্যা সমাধানের জন্য যে চ্যালেঞ্জটা রয়েছে, একটা সম্পূর্ণ নতুন উদ্যোগ সেই চ্যালেঞ্জটাকে গ্রহণ করেই দাঁড়ায়, বড় হয়।

গ্রসের গবেষণায় তৃতীয় শর্তটি হচ্ছে আইডিয়া। যেহেতু আইডিয়া নিয়ে এরই মধ্যে বলেছি, তাই সরাসরি চতুর্থ শর্তে চলে যাচ্ছি। একটা স্টার্টআপের সফল হওয়ার পেছনে একটি ভালো বিজনেস মডেলও জরুরি। কারণ একটা কম্পানিকে তাঁর আয় ও আয়ের উৎস সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা থাকতে হবে। একটা ভালো বিজনেস মডেল ভালো বিনিয়োগকারীকে আকৃষ্ট করার জন্য অপরিহার্য।

স্টার্টআপের পঞ্চম শর্তটি হচ্ছে বিনিয়োগ। বাংলাদেশের তরুণদের আমি একটা সুসংবাদ দিতে চাই চাই, আমাদের দেশের ভেঞ্চার ক্যাপিটালগুলো দেশের সম্ভাবনাময় স্টার্টআপে বিনিয়োগ করছে। তারা বড় ধরনের বিনিয়োগ পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছে। স্টার্টআপ বিকাশের জন্য যে সংস্কৃতি দরকার আমরা তা প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করছি।

এই সুযোগ কিন্তু এক দিনের মধ্যেই সৃষ্টি হয়নি। ২০০৯ সালের আগে বাংলাদেশের সরকারি পর্যায়ে উদ্যোক্তাদের সহায়ক কোনো প্রকল্প বা উদ্যোগ ছিল না। ২০১৬ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য সন্তান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় ভাইয়ের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রথমবারের মতো ‘কানেক্টিং স্টার্টআপ’ শুরু করে। এর ফলে দেশের তরুণদের সঙ্গে স্টার্টআপ নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রে সরকারি পর্যায়ে অনেক অভিজ্ঞতা সৃষ্টি করে। উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করতে হাইটেক পার্কে অফিস বরাদ্দ করা, তাদের জন্য ইনকিউবেটর সৃষ্টি করা, লজিস্টিক সহয়তা প্রদান করাসহ স্টার্টআপদের ৩৬০ ডিগ্রি সহযোগিতার মডেল নির্মাণ করার প্রয়োজনীয়তা বোধ হয়।

এসব প্রয়োজন মেটাতে আইডিয়া ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমির মতো প্রতিষ্ঠান নির্মাণের প্রয়োজনীয়তাও অনুভূত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে আইডিয়া ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমি প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। দেশীয় উদ্যোক্তাদের জন্য একটি ইকোসিস্টেম তৈরি এবং উদ্যোক্তাবান্ধব টেকসই সংস্কৃতি তৈরি করা এই প্রকল্পের লক্ষ্য। প্রকল্পের অধীনে এই একাডেমি থেকে দেশজুড়ে স্টার্টআপদের জন্য আমরা সব ধরনের সহায়তা প্রদান করার চেষ্টা করছি। এর মাধ্যমে শুধু ফান্ডিং নয় বরং মেন্টরিং, কো-ওয়ার্কিং স্পেস, বিজনেস ডেভেলপমেন্ট সাপোর্ট, লিগ্যাল ও ইন্টেলেকচুয়াল প্রপার্টি সাপোর্টের মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে তরুণদের। স্টার্টআপদের সন্ধানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে চলেছে। দেশে নির্মিতব্য ১২টি হাইটেক পার্কে বিজয়ী স্টার্টআপের জন্য জায়গা বরাদ্দসহ বিভিন্ন আয়োজন রাখা হয়েছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে, সবার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেওয়ার ব্যবস্থা, সবাইকে ইন্টারনেটে সংযুক্ত করা, শিক্ষার অধিকার, স্বাস্থ্যের অধিকার প্রভৃতি নিশ্চিত হয়েছে। তিনি বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের দাম কমিয়ে আনার নীতি গ্রহণ করেছেন। দেশের আইটি সেক্টরে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ইনফো সরকার থ্রিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। অপটিক্যাল ফাইবার ইউনিয়ন পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। প্রায় সাড়ে তিন হাজারের কানেকটিভিটি হয়ে গেছে এবং আরো নতুন ১৯০০ যুক্ত হয়েছে। আমরা বলতে পারি, ইনফ্রাস্ট্রাকচার ও কানেকটিভিটি এখন প্রস্তুত। এই সময়ে বাংলাদেশের যেকোনো একটা গ্রামের ছাত্র-ছাত্রী কিংবা তরুণ-তরুণী, সে যদি চায় তাহলে সে অনলাইন মার্কেটপ্লেসে গিয়ে স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ আইডিয়া প্রকল্পে কী আছে তা সে দেখতে পারবে এবং আবেদন সাবমিট করতে পারবে।

কোনো উদ্যোক্তা চাইলে সে গ্রামে বসেও একটা ই-কমার্স শুরু করতে পারবে। আগে প্যাটেন্ট নিয়ে চিন্তা-ভাবনা না করলেও চলত। এখন আমাদের পেটেন্ট রাইট রেজিস্ট্রেশনের মেকানিজম করতে হবে। কম্পানি রেজিস্ট্রেশন, আইপিওতে যাওয়া, স্টক মার্কেট পর্যন্ত যেতে পারে এমন কম্পানি বিল্ডআপ করা, কম্পানি উইন্ডআপ করার ব্যবস্থাও আমাদের করতে হবে। সেগুলোও কম চ্যালেঞ্জের নয়। কিন্তু আমরা সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করার প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, ২০২১ সালের মধ্যে দেশের ২০ লাখ তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে আইডিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২১ সাল নাগাদ এক হাজারের বেশি স্টার্টআপ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ দেশের উদ্যোক্তাদের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন।

এভাবেই এমন একটি তরুণসমাজ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছি আমরা, যে তরুণরা আর চাকরি খুঁজবে না, চাকরি দেওয়ার জন্য লোক খুঁজবে। সরকার তথ্য-প্রযুক্তি খাতের উদ্ভাবনীকে কাজে লাগিয়ে দেশে একটি আইসিটি ইনোভেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তুলতে চায়। এ জন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবনী ও গবেষণা প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য সব ধরনের সহযোগিতা প্রদানের ব্যবস্থা আমরা করেছি। এ দেশের তরুণরা পৃথিবীজুড়েই বিভিন্ন সেক্টরে নেতৃত্ব প্রদান করছে। শুধু স্বপ্নগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলেই তারা অসম্ভবকে সম্ভব করতে সক্ষম। তাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ তাদের নব নব উদ্যোগগুলোর পাশে থাকতে আগ্রহী। আমি তরুনদের বলতে চাই, আজই শুরু করুন আপনার স্টার্টআপ। এটাই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ। আপনার হাতেই যার নেতৃত্ব।

লেখক : প্রতিমন্ত্রী, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, ই-মেইল : palak@ictd.gov.bd

প্রিয় পাঠক আপনার মতামত জানান

এ বিভাগের আরো খবর

Close
Close