চট্টগ্রাম

টেকনাফে যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা : রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্থানীয়দের ভাঙচুর

কক্সবাজারের টেকনাফে মোহাম্মদ ওমর ফারুক (৩০) নামের এক যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যার প্রতিবাদে স্থানীয়রা তিন ঘণ্টা কক্সবাজার-টেকনাফ সড়ক অবরোধ, অগ্নিসংযোগ ও রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভাঙচুর করেছেন। পরে পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।

প্রিয় পাঠক আমাদের পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন

গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমোরা এলাকায় ওই যুবলীগ নেতাকে গুলি করে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা।

ওই ঘটনার পর আজ শুক্রবার শতাধিক বিক্ষুব্ধ স্থানীয় জনতা একটি রোহিঙ্গা শিবিরে হামলা চালিয়ে অস্থায়ী ঘরবাড়ি ও এনজিও অফিসগুলোতে ভাঙচুর চালায়। তারা টায়ার এবং প্লাস্টিকের বক্স জ্বালিয়ে টেকনাফ পৌরসভা থেকে লেদা পয়েন্ট পর্যন্ত পাঁচ কিলোমিটার সড়ক তিন ঘণ্টা অবরোধ করে রাখেন। রোহিঙ্গা নেতা নূর মোহাম্মদের বাড়িও জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে।

টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাস বলেন, হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের আশ্বাস দিলে বিক্ষোভকারীরা বেলা ৩টার দিকে অবরোধ তুলে নেয়।

 

নিহত ওমর ফারুক উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। তিনি হ্নীলার জাদিমোরার বাসিন্দা মোহাম্মদ মোনাফ কোম্পানির ছেলে। ওমর ফারুক জাদিমোরা এম আর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিও ছিলেন।

নিহতের ভাই বড় আমির হামজা বলেন, ‘রাখাইনে রোহিঙ্গা নিপীড়ন শুরু হলে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের পাশে ছিলাম আমরা। অন্যান্যদের মতো আমাদের পরিবারও তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসে। ওই সময় রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ধরনের সহযোগিতা করে ওমর ফারুক। অথচ রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীরা তাকেই গুলি করে হত্যা করেছে।’

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মামলা করলে তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়েছে সন্ত্রাসীরা।

নিহতের বাবা মোহাম্মদ মোনাফ বলেন, ‘রোহিঙ্গা অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তাদের গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত শাস্তি দাবি করছি। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’

টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) এবিএমএস দোহা বলেন, ‘ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলে সন্ত্রাসীরা নিহতের লাশ ফেলে পালিয়ে যায়। পরে লাশটি উদ্ধার করা হয়। রাতেই ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।’

এবিএমএস দোহা বলেন, ‘কী কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটল, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী ও ডাকাত দল এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। অভিযুক্তরা পুলিশের তালিকাভুক্ত ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য এবং তাদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা চলছে।’

টেকনাফ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আলম বলেন, ‘এ হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

প্রিয় পাঠক আপনার মতামত জানান

এ বিভাগের আরো খবর

Close
Close