English

জুয়েলারি ব্যবসার আড়ালে চলতো ডাকাতি, ৬ সদস্য আটক

গাজীপুরের টঙ্গী এলাকার একটি জুয়েলারি দোকান পরিচালনা করতেন প্রদীপ পোদ্দার (৪১)। এ ব্যবসায়ের আড়ালে তিনি গড়ে তুলেন একটি ডাকাত চক্র। ডাকাতি করে নিয়ে আসা স্বর্ণালঙ্কার আবার এ জুয়েলারি দোকানের মাধ্যমে বিক্রি করতেন। শুধু তা নয় চক্রের সদস্যদের আর্থিক সহায়তা করতেন। পাশাপাশি সদস্যরা কখনো গ্রেপ্তার হলে আইনি সহায়তার জন্য উকিলও ঠিক করে দিতেন পোদ্দার।শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম।সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব ডাকাত চক্রের মূল হোতা প্রদীপ পোদ্দার (৪১), দুলাল হোসেন (৩০), রাসেল (২২), জাকির হোসেন (২৬), কোকিলা বেগম ওরফে প্রেরণা ও হাজেরা বেগমকে হাজির করেন।বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতিকরা বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ উদ্ধার করা হয়।কর্নেল সারোয়ার বিন কাশেম বলেন, সম্প্রতি রাজধানীর উত্তরা ও গাজীপুর এলাকার বিভিন্ন বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এই চক্রের ৬ সদস্যকে আটক করা হয়। আটকদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।তিনি বলেন, ডাকাতির পাশাপাশি গত ১০ বছর ধরে প্রদীপ ইয়াবা সেবন ও এর ব্যবসাও চালিয়ে আসছিলেন।র‌্যাব-১ এর অধিনায়ক বলেন, ডাকাতদলের মূল হোতা প্রদীপ পোদ্দার ছাড়াও আটক দুলাল সক্রিয় সদস্য। সে গাজীপুর ও উত্তরার বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে বিক্রি করতো। এ সুযোগে বিভিন্ন বাসায় ঢুকে বাসার সদস্যদের গতিবিধি লক্ষ করতো। বাসার দরজা ভেঙে চক্রের অন্য সদস্যদের সহায়তায় ডাকাতি করতো এবং মালামাল লুট করে নিতো।তিনি বলেন,  টঙ্গীর একটি স্বর্ণের দোকানে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সেখানকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দুলালকে দেখা গেছে। দুলাল একাধিক বার গ্রেফতার হয়েছেন এবং প্রায় আড়াই বছর কারাভোগ করেছিলেন। এরপর জামিনে বের হয়ে আবার একই কাজ শুরু করেন।কর্নেল সারোয়ার বলেন, আটক নারী সদস্যরা দুলালের স্ত্রী কোকিলা এবং মা হাজেরা। নারী সদস্যরা ডাকাতিকরা মালামাল নিজেদের কাছে সংরক্ষণ করে রাখতেন। এ চক্রের আরও সদস্য আছে, তাদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

Close