খুলনা

ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন সেই ইউপি চেয়ারম্যান

এক ব্যাক্তির কাছ থেকে ঘর দেয়ার কথা বলে ১০ হাজার ঘুষ নিয়েছিলেন খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার যোগীপোল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান।

প্রিয় পাঠক আমাদের পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন

ঘরও বানিয়ে দিয়েছিলেন ওই ব্যক্তিকে।

তবে ঘুষ নেয়ার কথা জানাজানি হওয়ায় এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে সে ঘুষের টাকা ফেরত দিয়েছেন ঘুষ গ্রহণকারী সেই চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) উপস্থিতিতে এই ঘুষের টাকা ফেরত দেন তিনি। এর আগে সেই ঘরটি ভেঙে দেয়া হয়।

ঘুষ নিয়ে প্রকল্পের নীতিমালা ভেঙে আলী হাওলাদার নামের ওই ব্যক্তিকে ঘর তৈরি করে দিয়েছিলেন চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান।

ভুক্তভোগী আলী হাওলাদার অভিযোগ করেন, ফিরোজা নামে একজন ইউপি সদস্য ঘর দেয়ার আগে চেয়ারম্যানের নাম করে তার কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন। ঘর নির্মাণের মালামাল পরিবহনের নামে এ টাকা নেয়া হয়। ঘর ভেঙে দেয়ার সময় চেয়ারম্যানের কাছে টাকা ফেরত চাইলে তিনি পরে দেবেন বলে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। পরে ইউএনও’র নির্দেশে টাকা ফেরত দেন তিনি।

ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের ‘জমি আছে, ঘর নাই’ প্রকল্পের আওতায় যোগীপোল ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকার আলী হাওলাদারকে ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে তার কাছ অগ্রিম ১০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করেন চেয়ারম্যান। ওই প্রকল্পের আওতায় আলীকে একটি ঘর তৈরি করে দেয়া হলে।এ নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। আলী হাওলাদার এ প্রকল্পের আওতায় ঘর পাওয়ার যোগ্য নন বলে কথা উঠে নানা মহলে।

এছাড়া ওই প্রকল্পের আওতায় ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ঘুষ নেয়ার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে এলাকায় ঝাড়ু মিছিল করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা।

টাকা দিয়ে ঘর পায়নি বলে আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে ওই এলাকার বাসিন্দারা খুলনা প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ আনা হয়, ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে প্রায় দুই শত লোকের কাছ থেকে মাথা পিছু ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন তিনি।

এক পর্যায়ে আলী হাওলাদার নিজেই ইউএনওর কাছে বলেন যে, তিনি ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘুষ দিয়ে এ ঘর পেয়েছেন।

এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে ইউএনও বৃহস্পতিবার ওই ঘরটি ভেঙে দেন এবং ঘুষ গ্রহণকারী ওই ইউপি চেয়ারম্যানকে ঘুষের টাকা ফেরত দেয়ার কথা বলেন।

এ বিষয়ে ভুক্তোভোগী আলী হাওলাদার বলেন, ঘর পাইয়ে দেয়ার কথা বলে ইউপি চেয়ারম্যান অনেকের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা নিয়েছেন। আমিও ১০ হাজার টাকা দিয়েছিলাম।

ইউএনও মো. হাফিজ আল আসাদ বলেন, প্রকল্পটি আমার যোগদানের আগেই শুরু হয়েছে। প্রকল্পের নীতিমালা অনুযায়ী ওই ব্যাক্তি ঘর পাওয়ার যোগ্য না হওয়ায় সেটি ভেঙে দেয়া হয়েছে।

ঘুষের টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষে স্থানীয় এক নারী মেম্বর ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেন। সেই টাকা তাকে ফেরত দেয়া হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান বলেন, নীতিমালা অনুযায়ী ওই ব্যক্তি ঘর পাওয়ার যোগ্য না হওয়ায় ঘরটি ভেঙে দেয়া হয়েছে। তবে টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

প্রিয় পাঠক আপনার মতামত জানান

এ বিভাগের আরো খবর

Close
Close