ইসলাম

আখেরী চাহার শোম্বাহ মুসলিম উম্মাহর মহা খুশির দিন

মাহমুদ আব্দুল কাদির

আখেরী’ শব্দটি আরবী | এর অর্থ- শেষ | আর ‘চাহার শোম্বাহ ফারসী শব্দ | এর অর্থ বুধবার | আরবী ও ফারসী শব্দের সংমিশ্রণে ‘আখেরী চাহার শোম্বাহ’ বলতে সফর মাসের শেষ বুধবারকে বুঝানো হয়ে থাকে | মূলত এ দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য মহা খুশির দিন |

প্রিয় পাঠক আমাদের পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন

হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের নীতি অনুসরণে মুসলমানগণ যুগ যুগ ধরে ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ’ পালন করে আসছেন | কালামুল্লাহ্ শরীফ-এ ইরশাদ হয়েছে, “যারা ছাহাবীগণ উনাদেরকে উত্তমভাবে অনুসরণ করে আল্লাহ্ পাক তিনি উনাদের প্রতি সন্তুষ্ট |” (সূরা তওবা: আয়াত শরীফ ১০০)

অনেকে ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ’ উদযাপন করাকে নাজায়িয ও বিদয়াত বলে আখ্যায়িত করে থাকে | নাঊযুবিল্লাহ! যা সম্পূর্ণ অশুদ্ধ ও ভুল | বরং হযরত ছাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুমগণ উনাদের অনুসরণে ‘আখিরী চাহার শোম্বাহ’ উপলক্ষে সাধ্যমত গরিব-মিসকীনদেরকে দান-ছদকা করা, রসূলে পাক সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উনার প্রতি অধিক পরিমাণে ছলাত-সালাম, মীলাদ শরীফ, ক্বিয়াম শরীফ ও দুরূদ শরীফ পাঠ করা অত্যন্ত ফযীলত ও মর্যদা লাভের কারণ |

★★আর রাহিকুল মাখতুম্’ আরবী সীরাত গ্রন্থে সফিউর রহমান মোবারকপুরী বর্ণনা করেন-
ويوم الاربعاء قبل خمسة ايام من الوفاة اثقلت حرارة العلة فى بدنه فاشتد به الوجع وغمى فقال هريقوا علّى سبع قرب من ابارتشى حتى اخرج الى الناس فاعهد اليهم فافعدوه فى مخضب وصبوا عليه الماء حتى طفق يقوله حسبكم حسبكم وعند ذالك احس بخفةٍ فدخل المسجد وهو معصوب الرأس حتى جلس على المنبر وخطب الناس والناس مجتمعون حوله الخــ الرحيق المختوم لصفى الرحمن المباركفورى ـ الصف ……….৪৬৫
অর্থাৎ হুজুর নবী করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম ইনতিকাল শরীফের পাঁচদিন পূর্বে (প্রিয় নবীর দুনিয়াবী হায়াতের শেষ বুধবারে (চার শম্বাহ্ দিবসে) প্রিয় নবীর নূরানী শরীর মোবারকের উত্তাপ অত্যন্ত বেড়ে গেল। এতে তাঁর কষ্ট বেশী হয়ে গেল। বেঁহুশের মত হয়ে গেলেন। এ সময় তিনি বললেন, তোমরা বিভিন্ন কূপের সাত মশক পানি আমার উপর ঢাল, যাতে আমি সাহাবায়ে কেরামের নিকট যেতে পারি এবং প্রতিশ্র“তি নিতে পারি।

অতঃপর উপস্থিত সাহাবায়ে কেরাম তাঁকে (প্রিয় রাসূলকে) বসালেন এবং তাঁরা তাঁর শরীর মোবারকে পানি প্রবাহিত করলেন। তিনি বলতে লাগলেন, যথেষ্ট, যথেষ্ট। তিনি সুস্থতা বোধ করলেন এবং মসজিদে নববী শরীফে মাথা মোবারকে পট্টি বাঁধাবস্থায় তাশরীফ নিলেন, তারপর মিম্বর শরীফে বসে উপস্থিত সাহাবায়ে কেরামের সম্মুখে বক্তব্য পেশ করলেন, তখন সাহাবায়ে কেরাম তাঁর চতুর্পার্শে সমবেত ছিলেন। [আর রাহিকুল মাখতুম, পৃ. ৪৬৫]

উপরিউক্ত বর্ণনা মতে স্পষ্ট হয়ে যায় যে, রাসূলে করীম সাল্লাল্লাহু তা‘আলা আলায়হি ওয়াসাল্লাম দুনিয়াবী হায়াতের শেষ বুধবার সাত মশক পানি দ্বারা গোসল করেছেন এবং সুস্থতা অনুভব করে মসজিদে নববী শরীফে প্রবেশ করেছেন এবং খুতবা (বয়ান) প্রদান করেছেন।

লেখক: মাহমুদ আব্দুল কাদির, নির্বাহী পরিচালক
ইসলামী সাংস্কৃতিক সংগঠন রিসালাহ্

প্রিয় পাঠক আপনার মতামত জানান

এ বিভাগের আরো খবর

Close
Close