রাজনীতি

অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ আর নেই

উপমহাদেশের বাম রাজনীতির অন্যতম পুরোধা, মু‌জিবনগর সরকা‌রের উপ‌দেষ্টামণ্ডলীর মধ্যে বেঁচে থাকা সর্বশেষ সদস্য, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি (ন্যাপ) প্রধান অধ্যাপক মোজাফফর আহমদ মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৭ বছর।

প্রিয় পাঠক আমাদের পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন

শুক্রবার রাত পৌনে ৮টার দিকে তিনি রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালে মারা যান। ১৪ আগস্ট তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে আইসিইউতে রাখা হয়।অধ্যাপক মোজাফ্ফর আহমদ এর মৃত্যুতে শোক ও গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।এক শোকবার্তায় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও তার শোকসন্তপ্ত পরিবার সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান রাষ্ট্রপতি।

এক শোক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দেশের মহান স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ এবং বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, দেশের প্রগতিশীল রাজনীতিতে তার অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।শোক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মরহুমের পরিবারের শোকাহত সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান ও বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন।মোজাফফর আহমদের জন্ম ১৯২২ সালের ১৪ এপ্রিল কুমিল্লা জেলার দেবীদ্বার উপজেলার এলাহাবাদ গ্রামে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে সম্মানসহ এমএ পাস করার পর ইউনেসকো ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর যোগ দেন অধ্যাপনায়। তিনি চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ, ঢাকা কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন।১৯৫২ সালের ২৪ অক্টোবর আমিনা আহমেদকে বিয়ে করেন। ন্যাপের প্রেসিডিয়াম সদস্য স্ত্রী আমিনা আহমেদ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নবম সংসদের সংরক্ষিত আসনের সাংসদ ছিলেন।

তাদের একমাত্র মেয়ে আইভির জন্ম হয় ১৯৫৫ সালে।মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংগঠক হিসেবে একাত্তরে ন্যাপ ও কমিউনিস্ট পার্টি-ছাত্র ইউনিয়নের কর্মীদের নিয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে বিশেষ গেরিলা বাহিনী গড়ে তোলায় নেতৃত্ব দেন মোজাফফর আহমদ। প্রশিক্ষণ শেষে ওই বাহিনী ঢাকা, নরসিংদী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম, রংপুরসহ বিভিন্ন রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে বিশ্বজনমত গঠনেও ভূমিকা পালন করেন তিনি।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে ঢাকার কাকরাইলে মোজাফফর আহমদের বাবার বাড়ি লক্ষ্য করে গোলাগুলি শুরু হলে তিনি বাসা থেকে বেরিয়ে যান। তারপর সীমান্ত পেরিয়ে চলে যান ভারতের আগরতলায়। তাজউদ্দীন আহমদকে আহ্বাবায়ক করে ছয় সদস্যের মুক্তিযুদ্ধকালীন প্রবাসী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলী গঠন করা হলে তাতে অধ্যাপক মোজাফফর আহমদকেও সদস্য করা হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর মন্ত্রিত্ব নিতে অস্বীকার করা মোজাফফর আহমদ ২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকারের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা স্বাধীনতা পুরস্কারও নেননি।

প্রিয় পাঠক আপনার মতামত জানান

এ বিভাগের আরো খবর

Close
Close