আমরা কোনও ত্রাণ বা সাহায্য চাইনা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

আমরা কোনও ত্রাণ বা সাহায্য চাইনা, চাই নদী ভাঙনের হাত থেকে রক্ষার ব্যবস্থা করাসহ মাথা গোঁজার জন্য একটু ঠাঁই; চাষের জন্য এক টুকরো জমি। ’ নদী ভাঙনের হাত থেকে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বাহাদুরপাড়া রক্ষার দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিআকর্ষণ করে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচি থেকে এসব দাবি জানানো হয়।

বুধবার(২৯ আগষ্ট) সকালে ১১টার দিকে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের বাহাদুরপাড়ায় তিস্তা নদীর তীরে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি কামনা করেন সহস্রাধিক নারী পুরুষ।

তিস্তায় সব কিছু হারিয়ে পথে বসা এসব মানুষ জানান, তিস্তার কড়াল গ্রাসে বিদ্ধস্থ হয়ে প্রতি মুহুর্তে বসতবাড়ি, ফসলি জমি হারিয়ে মানবেতর জিবন যাপন করছেন তারা। কয়েক বছরের ব্যবধানে এক একটি পরিবার ৮/১০ বার তিস্তার ভাঙ্গনের শিকার হন। মহিষখোচা ইউনিয়নের মানচিত্রটি ছোট হয়ে আসছে। গোবর্দ্ধন, বারঘড়িয়া, বাহাদুরপাড়া ইতোমধ্যে তিস্তায় বিলিন হয়েছে। তিস্তার ভাঙ্গনে নিশ্বঃপরিবারগুলো মাথা গোঁজার ঠাঁই ও তিস্তার ভাঙ্গন রোধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃষ্টি আকর্ষন করে মানববন্ধন করেন তারা।

মহিষখোচা ইউপি সদস্য আজাহার আলীর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, বাহাদুর পাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আলমগীর আলম, মহিষখোচা বহুমুখি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের সহকারী শিক্ষক নুর আলম সেফাউল, রংপুর কারমাইকেল কলেজ ছাত্রী জাকিয়া ফাহানা, কৃষক আনছার আলী, নজরুল মিয়া, ইচা মিয়া প্রমুখ।

মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী ইউপি সদস্য আজহার আলী জানান, গ্রামের বহু মানুষের জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙন আতঙ্কে রাতের বেলা নদী পাড়ের মানুষ নিরাপদে একটু ঘুমাতেও পারছে না। কখন যে তাদের শেষ সম্বলটুকু নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে সেই আতঙ্কে দিন পার করছেন তারা।

কৃষক আনছার আলী জানান, কয়েকদিন আগেও তার অনেক কিছু ছিল, আজ সেসব সম্পদ নদীতে। তিনি এখন নিঃস্ব। এই পর্যন্ত বেশ কয়েকবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছেন বলে তিনি জানান।

ফেসবুক মন্তব্য
Share.