সৌদী রাজ পরিবারে বিদ্রোহ : যুবরাজ সালমানের গন্তব্য কোথায় ?

প্রায় সাড়ে ২২ হাজার সদস্য বিশিষ্ট সৌদী রাজ পরিবারে বিদ্রোহ প্রকাশ্যে রুপ নিয়েছে । বাদশা সালমান পুত্র ও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নির্দেশে রাজ পরিবারের প্রভাবশালী সদস্যদের হত্যা ও আটক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে । তিনদিন পূর্বে প্রভাবশালী প্রিন্স তালাতসহ অন্তত ১২ যুবরাজকে আটক করা হয় । গত পরশু হেলিকপ্টার দূর্ঘটনায় এক যুবরাজসহ কয়েকজন পদস্থ কর্মকর্তা নিহত হন । গতকাল এক যুবরাজকে গুলী করে হত্যা করা হয় । ক্রাউন প্রিন্স সালমান এ যাত্রায় সফল হলে পরবর্তীতে রাজ পরিবারের অনান্য বিরুদ্ববাদীদের বিরুদ্বে ধরপাকড় ও সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে । এশিয়া সফররত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সৌদী রাজ পরিবারে চলমান সংকটে বাদশা সালমান ও তার পুত্র মোহাম্মদ বিন সালমানকে সমর্থন জানিয়েছে । যুবরাজ সালমান ইতিমধ্যে কয়েকটি মন্ত্রনালয় ও সশস্ত্র বাহিনী প্রধানকে বরখাস্ত ও গৃহবন্দী করেন । এর অাগেও বিদেশে দুই যুবরাজ গুপ্ত হত্যার শিকার হন। অন্তত ৮ জন যুবরাজ প্রাণের ভয়ে বিদেশে অাশ্রয় নিয়েছে।

ঐতিহাসিক বিভিন্ন তথ্যে জানা যায়, সৌদী ওহাবী রাজ পরিবারের পূর্ব পুরুষরা ছিল ইহুদী সম্প্রদায়ের । সে সুবাদে বিগত শত বছর পূর্ব থেকে সৌদী ওহাবী শাসকদের সাথে খ্রীস্টান ও ইহুদীদের গোপন আঁতাত বজায় রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ । মুসলমানদের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য এরা রাসুল পাক (সা.) এর বংশধর বলেও প্রচার করে থাকে । মূলত: ওহাবী, মুনাফেক ও মুশরিকরা রাসুল পাক (সা.) এর সাথেও প্রতারণা এবং মহান ইসলাম ধর্মের বিরুদ্বাচরণ করে । অভিশপ্ত এসব গোষ্ঠী রোজ কিয়ামত পর্য্যন্ত মুসলমানদের সাথে প্রতারণা এবং ইসলাম বিরোধীদের সাথে সন্ধি স্থাপন বজায় রাখবে । ইসলাম ধর্মে রাজতন্ত্রের স্থান নেই । কিন্তু সৌদী ওহাবী রাজ পরিবার সেটা আমলে নিচ্ছেনা । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্বের পর থেকে ওহাবি রাজ পরিবার বিশ্বে মুসলমানদের সীমাহীন ক্ষতিসাধন করেছে । স্বৈরাচার শাসকদের সাথে রাজ পরিবারের সখ্যতা সর্ব জনবিদিত । উদাহরনস্বরুপ উগান্ডার পতিত প্রেসিডেন্ট ইদি আমিন, মিশরের স্বৈশাসক যথাক্রমে আনোয়ার সাদাত, হোসনী মোবারক ও বর্তমান শাসক জেনারেল সিসি, তিউনিশিয়ার স্বৈশাসক বেন আলী, ইরানের এক নায়ক রেজা শাহ পাহলভীসহ অন্তত ত্রিশজন স্বৈরাচারের পৃষ্ঠপোষক হচ্ছে সৌদী রাজ পরিবার ।

পবিত্র ইসলাম ধর্মের ইতিহাস ঐতিহ্য রচিত হয়েছে আরব ভূখন্ড ঘিরে । অপরদিকে পবিত্র মক্কা, মদিনা শরীফ, হাজার হাজার সাহবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে তাবেঈন, ইমামে মোস্তাহেদীন, ইমামে তরিকত, গাউস, আবদাল, রাকিব, নাকিব, শরীফ, সাঈফ ও রাসুল পাক (সা.) এর বংশধরগণ পবিত্র আরব ভূমিতে এসেছেন । পবিত্র জান্নাতুল বাকীসহ অসংখ্য পবিত্র ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান আরবের বুকে বীরদর্পে অবস্থান করছে । অথচ সৌদী ওহাবী রাজ পরিবারের বিশ্বের মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করে আসছে । স্বাধীন ফিলিস্তিন আন্দোলন সৌদী চক্রান্তে স্তিমিত হয়েছে । মিশরের গনতান্ত্রিক ড. মুরসী সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে বর্তমান সৌদী বাদশা ও তার পুত্র । ইরাকের সাদ্দাম ও লিবিয়ার কর্ণেল গাদ্দাফির পতনে সৌদী সরকার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । আইএস নামক ভয়ঙ্কর সংগঠনটির তত্বাবধানে রয়েছে সৌদী রাজতান্ত্রিক সরকার । ইয়েমেনে এক তরফা যুদ্ব শুরু করে সৌদী আরব । যেহেতু কাতার গাজা উপত্যাকার হামাস ও লেবাননের হিজবুল্লাহর প্রতি দূর্বল – সেহেতু সৌদী আরব কাতারের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন ও দেশটি আক্রমনের অপচেষ্টা করে । বিশ্বের বিভিন্ন মুসলিম দেশে মুসলিম নামধারী সন্ত্রাসী ও জঙ্গীগোষ্ঠীর সাথে সৌদী সরকারের সম্পৃক্ততা উদঘাটন করেছে বৃটেন । এছাড়া আরো অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে – যেগুলো উপস্থাপন স্বল্প পরিসরে সম্ভবপর নয় ।

মূলত: যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান অলিখিতভাবে দেশ পরিচালনা করছে । তার পিতা বাদশা সালমানের উত্তরাধিকারী হিসেবে তিনি নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করছেন । তাই শুরুতে রাজ পরিবারে বিরুদ্ববাদীদের টার্গেট করে শুরু হয়েছে শুদ্বি অভিযান। গত দুই বছর যুবরাজ সালমান প্রকাশ্য ও গোপনে বেশ কয়েকবার বিদেশ সফর করেন । বিদেশ সফরকালীন যাবতীয় তথ্যাদি গোপন রাখা হয় । কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, রাজ পরিবারের দেড় শতাধিক যুবরাজের সম্পদের পরিমাণ আড়াই থেকে তিন ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার । দূর্নীতি ও অবৈধপথে আয়ের কারন দেখিয়ে এক সময় অর্থ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হবে । এরমধ্যে কিছু রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা দিয়ে বাকী সম্পদ তিনি নিজে কুক্ষিগত করতে পারেন । এক কথায় অর্থ বিত্ত, প্রভাব, প্রতিপত্তি ও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাবলে যুবরাজ সালমান মুসলিম বিশ্বের একজন পরাক্রমশালী শাসক হবার মনোবাসনা পূর্ণ পথে এগুচ্ছে । যেহেতু মার্কিন ও ইহুদি মদদ ব্যতীত ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা যাবেনা – সেহেতু উল্লেখিত দেশ দুটির সাথে আরো ঘনিষ্ট সম্পর্ক গড়ে তোলা হয়েছে । বিনিময়ে প্রভু রাষ্ট্রেদ্বয়ের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করে চলেছে ক্ষমতালোভী যুবরাজ সালমান । কথায় বলে, ”যে শসা হঠাৎ বড় হয় – তার ভিতরে কোন দল থাকেনা”। গত তিন বছর যুবরাজ সালমানের কর্মকান্ডে সেটাই প্রতীয়মান হচ্ছে । সৌদী রাজ পরিবারে ক্ষমতার দ্বন্ধ, দমন পীড়ন নীতি হয়ত আরো কিছুদিন চলবে । যুবরাজ সালমান অল্প সময়ে এসব সামাল দিতে পারবেন । কেননা ওয়াশিংটন ও তেলআবিবের সমর্থন রয়েছে যুবরাজের প্রতি । কিন্তু যুবরাজ সালমান বিন মোহাম্মদ যে ভয়ঙ্কর ফাঁদে পা দিয়েছে – এক সময় চরম খেসারত দিতে হবে সৌদী রাজ পরিবারকে । এতে করে আরব জাহানের পবিত্র ভূমি থেকে রাজতন্ত্র নিপাত হবার সম্ভাবনা বেশী ।

Loading...