মাছের আঁশ দিয়ে গয়না তৈরি

ফেলে দেয়া কোনো কিছুই ফেলনা নয়। তা সঠিকভাবে কাজে লাগাতে পারলে অনেক কিছুই করা সম্ভব। তেমনই এক উদাহরণ হলো মাছের আঁশের গয়না। ভাবতেই অবাক লাগছে নিশ্চয়!

শুধু গয়না নয় তৈরি হচ্ছে মূর্তি ও ঘর সাজানোর শো-পিসও। এসব পণ্য বিক্রিও হচ্ছে দেদারছে। এমনই অসম্ভবকে সম্ভব করেছে ভারতের পুরুলিয়ার কিছু বাসিন্দা। সেখানকার জয়পুর ব্লকের একটি স্বনির্ভর দল এমনই গয়না তৈরি করে বিশ্ববাসীকে চমকে দিয়েছেন। এতে তাদের উপার্জনও হচ্ছে প্রচুর। 

ইমিটেশনের গয়নায় যখন বাজার সয়লাব তখন হাল ফ্যাশনে খুব সহজেই জায়গা করে নিয়েছে এই আঁশের গয়না। মাত্র ২০ বা ৩০ টাকার মধ্যেই মিলছে মাছের আঁশ থেকে তৈরি করা কানের দুল, গলার মালাসহ বিভিন্ন গয়না। সেইসঙ্গে এমন ধাঁচের গয়না ও গৃহস্থালী সাজানোর পণ্যের প্রতি অনেকের আগ্রহও বেড়েছে। এই কাজের সঙ্গে যারা যুক্ত রয়েছে তারা সবাই আজ স্বাবলম্বী। তাদের দলের সঙ্গে প্রতিদিনই নতুনরা যোগ দিচ্ছেন উপার্জনের আশায়।

বিভিন্ন নকশা করেই প্রস্তুত করা হচ্ছে গয়না ও গৃহস্থালী পণ্য। 

এক একটি আঁশই যেন তাদের ক্যানভাস। নানা বৈচিত্রতায় তারা ফুটিয়ে তোলেন মাছের আঁশগুলো। এসব শিল্পকলা ফ্রেমবন্দি করেও ওয়ালমেট হিসেবে বিক্রি করা হয়। আবার সহজেই কেউ বুঝতে পারবেন না যে এই গয়না বা শিল্পকর্মগুলো আঁশ দিয়ে তৈরি। এজন্য বিক্রির সময় ক্রেতাদেরকে এ বিষয়ে বলে এমন পণ্যের প্রতি আরো আকৃষ্ট করছেন শিল্পীরা। 

স্বনির্ভর দলের মতে, এক একটি কানের দুল তৈরি করতে তাদের খরচ পড়ে অন্তত পাঁচ টাকা। এসব তারা বিক্রি করছেন ২০ থেকে ২৫ বা ৩০ টাকার মধ্যে। একইভাবে ফুল ও ঘর সাজানোর বিভিন্ন জিনিস তৈরিতে তাদের খরচ হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকা। আর সেগুলো তার বিক্রি করছে ৬০ থেকে ৭০ টাকায়। অল্প খরচে এমন ব্যবসার প্রতি সেই এলাকার মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। সেইসঙ্গে বদলেছে গ্রামীণ নারীর ভাগ্য।

মন্তব্যসমূহ (০)


লগইন করুন


Remember me Lost your password?

Don't have account. Register

Lost Password


মন্তব্য করতে নিবন্ধন করুন