হোম / দেশজুড়ে / ময়মনসিংহ / বোমা বিস্ফোরনের পর ভালুকায় নিহত জঙ্গীর স্ত্রী দুই শিশু সন্তানকে পালানোর পর আটক

বোমা বিস্ফোরনের পর ভালুকায় নিহত জঙ্গীর স্ত্রী দুই শিশু সন্তানকে পালানোর পর আটক

বোমা বিস্ফোরণে দুই হাতের কবজি উড়ে গিয়ে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর এলাকায় এক জঙ্গি নিহত হয়েছে। স্পিন্টারের আঘাতে তার শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে গেছে। অন্যদিকে, বোমা বিস্ফোরনের পর আহত দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে স্ত্রী হাসপাতালে যাবার কথা বলে পালিয়ে যাবার আড়াই ঘণ্টা পর রাত ৯টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের ভালুকার হবিরবাড়ি বাসস্ট্যান্ড থেকে আটক করেছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে বাড়ির মালিক আজিম উদ্দিনকেও।

পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নিহত জঙ্গি নব্য জেএমবি’র শীর্ষ পর্যায়ের একজন। ওই ঘরে আরো বোমা, বোমা তৈরীর ডিভাইস ও বেশ কয়েকটি কালো ব্যাগ রয়েছে। নিহত জঙ্গির বাড়ি কুষ্টিয়া। তবে বোমা বিস্ফোরণের সময় তার রক্তাক্ত দেহের ওপর একটি সাদা রঙের মোবাইল পড়ে ছিল। যা থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
ঘটনার পর থেকে ওই বাড়িটি ঘিরে রেখেছে র‌্যাব-পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে আছে ঘরের মেঝেতে। ঘরের ভিতরে আরো বোমা অথবা কেউ জীবিত আছে কিনা, তা পুলিশ নিশ্চিত নয়। রাত ৮টায় ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয় বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনার পর থেকে ওই এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।

রাতে ময়মনসিংহ রেঞ্জের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝি, পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলমসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ ঘটনাস্থল পৌঁছেন।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নূরে আলম প্রাথমিক তদন্ত ও তথ্যের বরাত দিয়ে জানান, ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কাশর এলাকায় আজিম উদ্দিনের বাড়িতে ২০/২৫টি টিনসেড ঘরে ভাড়াটিয়া রয়েছে। গত দু’দিন আগে নিহত ওই জঙ্গি গার্মেন্টেসে চাকরির কথা বলে টিনসেড একটি ঘর ভাড়া নেয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে ঘরের ভিতর বোমা বানানোর সময় আকস্মিক বিস্ফোরণ ঘটলে মারা যায় সে। এসময় তার স্ত্রী ঘরের বাইরে রান্না করছিল এবং দুই শিশু সন্তান খেলা করছিল। বোমায় স্পিন্টারে দুই সন্তানও আহত হয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে ওই নারী তার দুই শিশু সন্তানকে হাসপাতালে যাবার কথা বলে দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে ভালুকা মডেল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বাড়িটি ঘিরে রেখেছে।
স্থানীয়রা জানান, আজিম উদ্দিনের বাড়িতে ২০/২৫টি টিনসেড ঘরে বিভিন্ন গার্মেন্টের কর্মীরা ভাড়া থাকেন। সন্ধ্যার একটু আগে ওই বাড়ির একটি ঘর থেকে বিকট শব্দ হয়। তারা একজনের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন। বিস্ফোরণের সাথে সাথেই ওই জঙ্গির স্ত্রী তার ৭ বছর ও ৮ মাসের দুই পুত্র সন্তানকে নিয়ে নিজেই হাসপাতালের কথা বলে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বোমা বানাতে গিয়েই হয়তো বিস্ফোরণে নিহত জঙ্গির দুই হাতের কবজি উড়ে গেছে। বোমার আঘাতে রক্তাক্ত ক্ষতবিক্ষত দেহ পড়ে আছে ঘরের দরজার মেঝেতে।

আটকের পর বাড়ির মালিক আজিম উদ্দিন জানান, গত ২৩ আগস্ট নিহত ব্যাক্তি টিনসেড ঘরটি ভাড়া নেয়। তার বাড়ি কুষ্টিয়া বলে জানিয়েছিল। তিরি আর বিস্তারিত কিছু বলতে পারেননি। তবে বোমা বিস্ফোরণের সময় তার রক্তাক্ত দেহের উপর একটি সাদা রঙের মোবাইল পড়েছিল। যা থেকে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। এদিকে রাত ১২টা পর্যন্ত বাড়িটি ঘিরে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ঢাকা থেকে বোমা নিষ্ক্রিয় বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

Facebook Comments

About Kalam Khan

www.myhostit.com