শিরোনাম
হোম / অপরাধ / তৃতীয় বিয়ে করতে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নির্মম কায়দায় হত্যার গাঁ শিউরে উঠা জবানবন্দী দিলেন স্বামী

তৃতীয় বিয়ে করতে দ্বিতীয় স্ত্রীকে নির্মম কায়দায় হত্যার গাঁ শিউরে উঠা জবানবন্দী দিলেন স্বামী

নেত্রকোনা প্রতিনিধি- : নেত্রকোনা শহরতলির হোসেনপুর এলাকার ধান ক্ষেত থেকে উদ্ধার করা তরুণীর গলকাটা লাশের পরিচয় মিলেছে। তার নাম নাসরিন আক্তার(২৭)। সে নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার তেলিয়া গ্রামের নাজিম উদ্দিনের মেয়ে। নাসরিনের বেপরোয়া জীবনযাপন, বনিবনার অভাব এবং তৃতীয় বিয়ের পথ পরিস্কার করতেই স্বামী মিলন মিয়া(৩২) তাকে জবাই করে হত্যা করে। বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ মিলন মিয়াকে গ্রেফতার করেছে। মিলন মিয়ার বাড়ি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বৃকালিকা গ্রামে। তার বাবার নাম লুৎফর মিয়া। প্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ ঘটনাটির ক্লু উদ্ধার করে।

শুক্রবার সকালে নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে এ তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ছানোয়ার হোসেন। নিহত নাসরিন নেত্রকোনা বারহাট্টা উপজেলার ব্রিকালিকা গ্রামের মিলন মিয়ার স্ত্রী।

ছানোয়ার হোসেন জানান, রোববার (২০ আগস্ট) সকালে শহরের হোসেনপুর গ্রামে একটি ধান খেত থেকে গালা কাটা অজ্ঞাতপরিচয় এক নারীর মরদেহ উদ্ধার
করে পুলিশ।

পরে তদন্ত করে বৃহস্পতিবার (২৪ আগস্ট) ভোরে মিলনকে আটকের পর তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে জানা যায়, শনিবার (১৯ আগস্ট) দিনগত রাত ১১টার দিকে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মিলন নাসরিনকে তার সাতপাই ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকা থেকে নেত্রকোনায় আনেন। শহরে আসার পর হোসেনপুর গ্রামে ঢুকে ধান খেতের আল ধরে দু’জন হাঁটতে থাকেন। কিছুদূর যাওয়ার পর মিলন পেছন থেকে নাসরিনের গলায় ছুরি চালিয়ে তার শ্বাসনালী কেটে দেন। নাসরিন কাদামাটিতে লুটিয়ে পড়লে মিলন তার বুকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

এদিকে মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ নিহতের পরিচয় শনাক্ত করতে পারছিল না। নাসরিনের কাছে পাওয়া একটি কাগজে লেখা বিভিন্ন মোবাইল নম্বর ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে পরিচয় শনাক্ত করা হয়।

আটকের পর মিলন পুলিশকে জানায়, ৭/৮ বছর আগে টঙ্গি এলাকায় একটি টেলিভিশন শো-রুমে চাকরি করাকালে নাসরিনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে দু’জন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।

দাম্পত্য জীবন শুরুর বছর পার না হতেই নাসরিনের অনৈতিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড মিলনের কাছে ধরা পড়ে। স্ত্রীর স্বভাব পরিবর্তন করার জন্য মিলন তাকে নিয়ে বিভিন্ন জেলায় বসবাস করেন। কিন্তু ফলাফল শূন্য। পরিবর্তন দূরে থাক, টাকার লোভে বরং নাসরিন দিনদিন আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন, দাবি মিলনের।

এসব নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তারা আলাদা থাকতে শুরু করেন। মিলন চলে আসে নেত্রকোনা শহরের সাতপাই এলাকায় তালুকদার বাড়িতে আর টঙ্গিতে মা-বাবার সঙ্গে থেকে যায় নাসরিন।

আলাদা থাকলেও মিলনের স্ত্রীর অধিকার নিয়েই থাকতে চাচ্ছিলো নাসরিন। আবার মিলনও নাসরিনের কারণে পারছিল না পুনরায় বিয়ে করে নতুন সংসার সাজাতে।

নাসরিনের মা-বাবা বলেন, নাসরিন রেপরোয়া ছিল, সে আমাদের আওতার বাইরে চলে গিয়েছিল। সে স্বাধীন মতো জীবনযাপন করতো। তবে তার হত্যাকারীর শাস্তির দাবি করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন-নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু তাহের দেওয়ান, শাহ নূর এ আলম (তদন্ত), উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফরিদ
আহমেদ, ত্রিদিব বীর প্রমুখ।

Facebook Comments

About Kalam Khan

www.myhostit.com