শিরোনাম
হোম / দেশজুড়ে / চট্টগ্রাম / মিয়ানমার থেকে আসিনি,কক্সবাজার অচল করে দিব

মিয়ানমার থেকে আসিনি,কক্সবাজার অচল করে দিব

আমি মিয়ানমার থেকে আসিনি। দেখি কি করে উচ্ছেদ করতে পারেন। পুরো কক্সবাজার অচল করে দেবো। এখানে কেউ ভেসে আসেনি”-কক্সবাজার শহরের হাসপাতাল সড়কে (বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন) কোটি টাকা মূল্যের সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করতে গিয়ে এভাবেই দখলদারদের দাম্ভিকতা ও প্রবল বাধার সম্মুখিন হন ভ্রাম্যমান আদালত।

উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে কয়েক দফা ভ্রাম্যমান আদালতের দিকে তেড়ে আসেন দখলদার পক্ষের লোকজন। তারা হাতে লাঠি নিয়ে উচ্ছেদরত শ্রমিকদের ওপর চড়াও হয়ে দুই দফা তাড়িয়েও দেন। এসময় দায়িত্বরত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের গালিগালাজ এবং কক্সবাজার শহর অচল করে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত সব বাঁধা উপেক্ষা করে সরকারি খাস জায়গা দখল করে করে নির্মিত সেই অবৈধ স্থাপনাটি গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার বেলা ১২ টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩ টা পর্যন্ত  উচ্ছেদ অভিযান চলে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন সদর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) পঙ্কজ বড়ুয়া এবং জেলা প্রশাসনের সহকারি কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সেলিম শেখ।

সরেজমিনে ও প্রত্যক্ষদর্শী সাথে কথা বলে জানা যায়, দুই নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত উচ্ছেদ অভিযানে গেলে দখলদার পক্ষের কয়েক জন নারী ও পুরুষ মিলে তেড়ে আসেন। তারা বাড়ির সামনের রাস্তায় নেমে প্রকাশ্যে গালিগালাজ করে উচ্ছেদ অভিযান থেকে বিরত থাকার জন্য হুমকি দেন। ভ্রাম্যমান আদালতের সামনে চরম উদ্ধত্বপূর্ণ  আচরণ করেন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালের সাবেক কর্মচারী প্রয়াত আব্দুস সামাদের পুত্রবধূ।

তাৎক্ষনিকভাবে তার নাম জানা না গেলেও তিনি বিএনপি নেতা এস্তাফিজুর রহমানের কন্যা বলে জানা গেছে। তিনি লাঠি হাতে নিয়ে শ্রমিকদের ধাওয়া করেন দুই দফা। উচ্ছেদ কার্যক্রম থেকে বিরত রাখতে তিনি গালিগালাজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে কন্যার সাথে যোগ দেন বিএনপি নেতা এস্তাফিজুর রহমানও। তিনি নতুন নির্মিত স্থাপনাটি উচ্ছেদ করা হলে কক্সবাজার শহর অচল করে দেওয়া হবে বলে হুমকি দেন।

ভ্রাম্যমান আদালতের উদ্দেশ্যে পিতা ও কন্যার উদ্ধত্বপূর্ণ আচরণে  হতবাক হয়ে পড়েন আশপাশে থাকা লোকজন। দখলদারদের পক্ষে অভিযানে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা করেন প্রয়াত আব্দুস সামাদের স্ত্রী হাসিনা বেগম, ছেলে সরওয়ার কামাল রুমি ও সরওয়ার কামাল টিপু।

বাঁধার মুখে এক পর্যায়ে ভ্রাম্যমান আদালত কক্সবাজার সদর থানা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স ডেকে পাঠান। পরে ভ্রাম্যমান আদালত সঙ্গে থাকা ফোর্সকে প্রয়োজনে গুলি করার জন্য প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেন। দম্ভোক্তি করে সরকারি কাজে বাধা দেওয়া বিএনপি নেতা এস্তাফিজুর রহমানকেও গ্রেফতার করার নির্দেশ দিলে দখলদার পক্ষের লোকজন পিছু হাটে। শুরু হয় উচ্ছেদ কার্যক্রম।

উচ্ছেদ কার্যক্রমে প্রবল বাধার সম্মুখিন হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে সদর সহকারি কমিশনার (ভূমি) পঙ্কজ বড়ুয়া জানান, জায়গাটি দখলমুক্ত কলে লাল কালি দিয়ে চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। যারা বাঁধা দিয়েছে তাদের আমরা সনাক্ত করার চেষ্টা করছি। পরে একই  ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জানা গেছে, স্বাস্থ্য বিভাগের এই জমিতে হাসপাতালের সাবেক কর্মচারী প্রয়াত আবদুস সামাদের লিখিত আবেদনের প্রেক্ষিতে কেয়ারটেকার হিসেবে থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর স্ত্রী ও সন্তানেরা জায়গাটি নিজেদের দাবী করে এবং মামলা করে দখল করে চেয়েছিলেন। সর্বশেষ দখলবাজরা নতুন করে স্থাপনা করলে আদালতের শরনাপন্ন হয় স্বাস্থ্য বিভাগ। আদালত ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করার জন্য দখলদারদের নির্দেশনা দেয়। কিন্তু সেই নির্দেশনা অমান্য করে রাতারাতি নির্মাণ করা হয় অবৈধ স্থাপনা।

Facebook Comments

About Kalam Khan

www.myhostit.com