শিরোনাম
হোম / দেশজুড়ে / খুলনা / হবিগঞ্জে ৪ শিশু হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসি

হবিগঞ্জে ৪ শিশু হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসি

বাহুবল উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের বহুল আলোচিত চার শিশু হত্যা মামলায় ৩ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২ জনকে ৭ বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।  একইসঙ্গে এ মামলায় তিনজনকে বেকসুর খালাস প্রদান করা হয়েছে।

সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মকবুল আহসান বুধবার বেলা ১১টা ৩৫ মিনিটে এ রায় ঘোষণা করেন।

ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, সুন্দ্রাটিকি গ্রামের হাবিবুর রহমান আরজু (৪০), উস্তার মিয়া (৪৮) ও রুবেল মিয়া (২০)। এদের প্রত্যেককে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে উস্তার মিয়া পলাতক রয়েছেন। বাকি দুজন রায় ঘোষাণার সময় এজলাসের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

৭ বছর করে কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে শাহেদ ওরফে সায়েদ (৩২), জুয়েল মিয়াকে। তাদের প্রত্যেককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়ছে।

এছাড়া বেকসুর খালাস প্রাপ্তরা হলেন, পঞ্চায়েত প্রধান আব্দুল আলী বাগাল (৬০), বাবুল মিয়া (৪৫) ও বিল্লাল মিয়া (৩৫)।

সংশ্লিষ্ট আদালতের বিশেষ পিপি অ্যাডভোকেট অশোক কুমার কর বলেন, এ রায়ে আমরা সংক্ষুব্ধ। আমরা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হয়েছি। এই রায়ের বিপক্ষে উচ্চ আদলতে আপিল করা হবে।

গত ২০ জুলাই আলোচিত চার শিশু হত্যা মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ২৫ জুলাই এ মামলার রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। তবে রায় লেখা শেষ না হওয়ায় এক দিন পেছানো হয়। ফলে হত্যাকাণ্ডের এক বছর ৫ মাস আট দিনের মাথায় মামলার ৫৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ৫২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আজ এই রায় ঘোষণা হলো।

প্রসঙ্গত, বাহুবলের সুন্দ্রাটিকি গ্রামের আবদাল মিয়ার ছেলে মনির মিয়া (৭), ওয়াহিদ মিয়ার ছেলে জাকারিয়া আহমেদ শুভ (৮), আব্দুল আজিজের ছেলে তাজেল মিয়া (১০) ও আব্দুল কাদিরের ছেলে ইসমাইল হোসেন (১০) গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়।

এর ৫ দিনের মাথায় ১৭ ফেব্রুয়ারি সুন্দ্রাটিকি গ্রামের পার্শ্ববর্তী একটি বালুর ছড়ার মাটির নিচ থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মনির সুন্দ্রাটিকি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে, তার দুই চাচাত ভাই শুভ ও তাজেল একই স্কুলে দ্বিতীয় ও চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ছিল। আর তাদের প্রতিবেশী ইসমাইল পড়তো সুন্দ্রাটিকি মাদরাসাতে।

Facebook Comments

About Mahmdur Rahman