শিরোনাম
হোম / বাংলাদেশ / সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও সালাম

সবাইকে পবিত্র ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা ও সালাম

ঈদের নামাযান্তে শুরু হলো মহান ত্যাগের আনন্দ উৎসব। কোরবানির মূল বিষয় হচ্ছে উৎসর্গ।

“কুরবা” থেকে কোরবানি।
কুরবা অর্থ নৈকট্য। কোরবানি অর্থ ত্যাগ।
অর্থাৎ ত্যাগটাকে আমি কতটা আন্তরিকতার সাথে করতে পারি। নিজের সামান্য ইচ্ছাকে ত্যাগ করাও কোরবানি। কিন্তু সব চেয়ে বড় কোরবানি হচ্ছে আত্মজ কিছু ত্যাগ করা। যে জিনিসের সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক , তাকে ত্যাগ করা মানে সর্বোচ্চ ত্যাগ। সেই সর্বোচ্চ ত্যাগ করার জন্যই তো এই ধর্মীয় নির্দেশ এসেছিল। আর যুগে যুগে কালে যারা যত বিলিয়ে দিতে পেরেছেন ত্যাগ করতে পেরেছেন তাঁরাই অনন্ত প্রশান্তি ও সম্মান লাভ করেছেন।

ভোগবাদি এই পণ্য দাসত্বের সময়ে আমরা শুধু নিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। অন্তর থেকে কিছু দিতে পারি না। আর এই কোরবানি এসে আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে ভোগই জীবন নয় ত্যাগই হচ্ছে সফল জীবনের পথ। আমরা এই ত্যাগের আদর্শে কতটা উদ্বুদ্ধ?

আমরা ত্যাগের দিকে না গিয়ে কেবল পশুটিকেই বেছে নিয়েছি কি? অভুক্ত প্রতিবেশীর খোঁজ কী নিয়েছি? কতজন প্রতিবেশী কোরবানি দিতে পারেনি খোঁজ নেয়ার সময় কি হয়েছিলো?

কোরবানির সময় মায়ের আঁচল ধরে ক্ষুধার্ত শিশুটি সারাদিন কেঁদে চলেছে এক টুকরো মাংস খাবে বলে। অথচ আমি বাসায় ৪ টি বড় ডিপ ফ্রিজে মাংস সংরক্ষন করছি। অনেক মানুষ আছে যারা না পারছে কোরবানি দিতে না পারছে রাস্তায় হেঁটে হেঁটে মাংস সংগ্রহ করতে। অথচ আমার আত্মীয় যিনি দুটি গরু কোরবানি দিয়েছে তাকে মাংস পাঠিয়েছি। এমন না হয়।
হয়তো এসব দেখে কবি নজরুল তার মত করে বলেছেন –

“মনের পশুরে কর জবাই,
পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই “

আসল কথা হলো মনের পশুত্বকে কোরবানি করা। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহর রাস্তায় সম্পদ কোরবানি করে তাকওয়া অর্জনই মূল লক্ষ্য। আল্লাহর ইচ্ছায় তার সন্তুষ্টির জন্য একজন মুসলিম যে নিজের জীবন ও অর্থ সম্পদ কোরবানি দিতে সদা প্রস্তুত, পশু কোরবানির মাধ্যমে সে এ কথার প্রমাণ করে। পশু কোরবানির মাধ্যমে সে যেমন তার অর্থসম্পদ কোরবানি দিতে মোটেও কুণ্ঠিত হয় না। তেমনি প্রয়োজন দেখা দিলে সে নিজের জীবন কোরবানি দিতেও কুণ্ঠিত হবে না। কোরবানির আত্মত্যাগ, অপরের কষ্ট স্বীকার এবং নিজের জীবন ও ধনসম্পদের প্রকৃত মালিক আল্লাহ তায়ালাকে স্বীকার করে সেই মহান মালিকের ইচ্ছানুযায়ী তাঁরই সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে এগুলোকে তারই পথে ত্যাগ করার নিদর্শনস্বরূপ ‘ঈদুল আজহা’। শুধুমাত্র অধিক দামে পশু কোরবানির প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হলে চলবে না। যদি মনের পশুত্বকে কোরবানি না করে নিছক লোক দেখানো উদ্দেশ্য হয়, তবে তা হবে বৃথা প্রচেষ্টা মাত্র। উৎসর্গের এ আনন্দ উৎসবের মাধ্যমে নিজেকে আল্লাহর নিকট সমর্পণ করতে হবে। কোরআনের যে ভাষ্য ‘আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন-মরণ সবই মহাবিশ্ব প্রতিপালকের জন্য।’ কোরবানির মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হবে। তার বাস্তব প্রতিফলন ঘটাতে হবে এই উৎসর্গের মাধ্যমে।

শরিয়তে সমর্থবানদের জন্য পশু কোরবানী করা ওয়াজিব। সুরা আল কাওসারের আয়াত ২ এ বলা হয়েছে,” তোমার প্রতিপালকের উদ্দেশ্যে নামাজ আদায় করো এবং কোরবানি করো”।
অন্যদিকে, হাদীসে বলা হয়েছে, “নবী করিম সাঃ বলেছেন, কোরবানির দিনে মানবসন্তানের কোন নেক কাজই আল্লাহর কাছে তত প্রিয় নয়, যত প্রিয় রক্ত প্রবাহিত করা, অর্থাৎ কোরবানি করা।

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) আল্লাহর হুকুমে তার শিশুপুত্র ঈসমাইলকে (আঃ) কোরবানি দেয়ার জন্য তৈরি হয়েছিলেন। এর মধ্যে অনেক সুক্ষ্ম রহস্য নিহিত রয়েছে। তিনি শুধু সন্তানের গলায় ছুরি চালাননি, বরং প্রকৃতপক্ষে ছুরি চালিয়েছেন তার নিজের কামনা, বাসনা, চাহিদা ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে। আর এই পরীক্ষায় তিনি লাভ করেন মহা সাফাল্য। কারণ মহান আল্লাহপাক বলেন, আল্লাহর কাছে তোমাদের কোরবানির গোশত ও রক্ত কোনো কিছুই পৌঁছে না, বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া বা আল্লাহভীতি (সূরা হজ: ৩৭) আল্লাহর উদ্দেশ্যে কিছু ত্যাগের বিনিময়েই তাঁর নৈকট্য লাভ হয়। কিন্তু বর্তমান সময়ে আমরা ঈদুল আজহার তাৎপর্য ভুলতে বসেছি। মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় যে কোরবানি সে কোরবানিকে আমরা আমাদের সম্পদ এবং ক্ষমতা প্রদর্শনের মাধ্যম হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি। পেরেছি কি মনের পশুত্বকে কোরবানি করতে?

Facebook Comments

About Kalam Khan

www.myhostit.com