দেশজুড়ে

৮২ দিনে পাগলা মসজিদের দানবাক্সে স্বর্ণালঙ্কার সহ এক কোটি আট লাখ টাকা জমা পড়েছে!

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স থেকে  এক কোটি আট লাখ নয় হাজার ২০০ টাকা পাওয়া গেছে। শনিবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে গণনা শেষে এই টাকার হিসাব পাওয়া যায়। বিপুল পরিমাণ দানের এই নগদ টাকা ছাড়াও বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা ও দান হিসেবে বেশ কিছু স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে।এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি দান সিন্দুক খোলার পর এক কোটি ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৪৭৩ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। সেই হিসেবে গত ৮২ দিনে পাগলা মসজিদে দান হিসেবে নগদ টাকা পাওয়া গেছে মোট এক কোটি  আট লাখ  নয় হাজার ২০০ টাকা। এই হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে এক লাখ ৩১ হাজার ৮২০ টাকা মসজিদটিতে মানুষ দান করেছেন।এর আগে গত বছরের ১৩ অক্টোবর দান সিন্দুক খোলার পর এক কোটি ১৩ লাখ ৯৬ হাজার ৬৮৫ টাকা পাওয়া গিয়েছিল। গেল বছরের সাত জুলাই দান সিন্দুক খোলার পর পাওয়া গিয়েছিল ৮৮ লাখ ২৯ হাজার ১৭ টাকা। ১৩ মে পাগলা মসজিদের একটি দানবাক্স খুলে চুরি করার পর ফেলে যাওয়া বস্তা থেকে পাওয়া যায় আট লাখ চার হাজার ৯৮১ টাকা। এছাড়া গত বছরের ৩০ মার্চ দানবাক্স খোলার পর ৮৪ লাখ ৯২ হাজার টাকা পাওয়া যায়। সেই হিসেবে গত বছরে পাগলা মসজিদে দান হিসেবে নগদ টাকা পাওয়া গেছে মোট চার কোটি আট লাখ ৫৬ হাজার ১৫৬ টাকা।

স্বর্ণালঙ্কার সহ এক কোটি আট লাখ টাকা জমা পড়েছে!

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, শনিবার (১৩ এপ্রিল) সকালে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে দানবাক্স খোলা হয়। প্রথমে টাকা বস্তায় ভরা হয়। এরপর শুরু হয় দিনব্যাপী টাকা গণনা। টাকা গণনায় মসজিদ মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক ছাড়াও রূপালী ব্যাংকের কর্মকর্তারা অংশ নেন।কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাবিবুর রহমানের তত্ত্বাবধানে টাকা গণনার কাজ শুরু হয়। এ সময় সিন্দুক খোলা কমিটির সদস্যরা ছাড়াও প্রশাসনের কর্মকর্তা, মসজিদ পরিচালনা কমিটির সদস্যবৃন্দ ও সার্বক্ষণিক দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ মসজিদটির দানবাক্সে নগদ টাকা-পয়সা ছাড়াও স্বর্ণালঙ্কার, গবাদিপশু, হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন ধরনের জিনিসপত্র দান করেন। কথিত আছে খাস নিয়তে এই মসজিদে দান করলে মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। সেজন্য দূর-দূরান্ত থেকেও অসংখ্য মানুষ এখানে দান করে থাকেন।জেলা শহরের নরসুন্দা নদীর তীরে এ মসজিদটির অবস্থান। দেশের অন্যতম আয়কারী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃত মসজিদটিকে পাগলা মসজিদ ইসলামি কমপ্লেক্স নামকরণ করা হয়েছে। এ মসজিদের আয় দিয়ে কমপ্লেক্সের বিশাল ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়া মসজিদের আয় থেকে বিভিন্ন সেবামূলক খাতে অর্থ সাহায্য করা হয়।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান সাংবাদিকদের  জানান, পাগলা মসজিদের দানসিন্দুক খুলে এবার এক কোটি আট লাখ নয় হাজার ২০০ টাকা পাওয়া গেছে। টাকাগুলো রূপালী ব্যাংকে জমা করা হয়েছে।

এ বিভাগের আরো খবর

Close