অপরাধ

৫শ’ টাকায় ধর্ষকের কাছে তুলে দেয় প্রেমিক

হবিগঞ্জের রুমানা হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। একইসঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আদালতে স্বীকারোক্তি দিয়েছে রুমানার প্রেমিক জুবায়ের আহমদ। মাত্র ৫শ’ টাকার বিনিময়ে প্রেমিকা রুমানাকে বন্ধুদের হাতে তুলে দেয় জুবায়ের।

গণধর্ষণের পর হত্যা করা হয় তাকে। শনিবার দুপুরে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম ও সুলতান মাহমুদ প্রধানের আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয় ঘাতক রুমানার প্রেমিক জুবায়ের আহমদ। আদালতে পুরো ঘটনার রোমহর্ষক বর্ণনা দেয় সে। শনিবার সংবাদ সম্মেলন ডেকে এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানান, হবিগঞ্জ পিবিআইয়ের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুতুবুর রহমান চৌধুরী।

জোবায়েরের জবানবন্দির বরাত দিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুতুবুর রহমান চৌধুরী বলেন, ২০১৮ সালে বাহুবল উপজেলার রাজাপুর গ্রামের রুমানা আক্তারের বিয়ে হয় বানিয়াচংয়ে। এরই মধ্যে স্বামী তাকে ডিভোর্স দেন। বাবার বাড়ি আসার পর একই গ্রামের জুবায়ের আহমেদের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক হয়।

২০১৮ সালের ৪ আগস্ট সন্ধ্যায় জুবায়ের তার বন্ধু সাইফুর রহমানকে বলে আজ রাতে তোদের জন্য একটি সুন্দরী মেয়েকে আনব আনন্দ-ফুর্তি করতে। এ জন্য তোদের জনপ্রতি ৫শ’ টাকা করে দিতে হবে। কথা অনুযায়ী তার বন্ধু সাইফুর রহমান, মামুনুর রশিদ, আবু সাইদ ও ইলিয়াস মিয়া তাকে ৫শ’ টাকা করে দেয়।

পরে সে সবাইকে রাত সাড়ে ১০টায় গ্রামের ঈদগাহের কাছে থাকতে বলে। আর সে রুমানাকে রাতে দেখা করতে বলে। তাকে বলে আমি তোমার বাড়ির পাশে এসে শিস দিলে বেরিয়ে এসো। জুবায়ের রাত ১১টার দিকে রুমানাদের বাড়ির পাশে গিয়ে শিস দেয়। রুমানা বেরিয়ে এলে তাকে নিয়ে ঈদগাহের কাছে যায়।

সেখানে অন্যদের দেখতে পেয়ে হতচকিয়ে ওঠে রুমানা। সবাই মিলে তাকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যা করে ঈদগাহের পাশে ধানের জমিতে লাশ ফেলে পালিয়ে যায়।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুতুবুর রহমান চৌধুরী আরও বলেন, ঘটনার পরদিন রুমানার মা বানেছা বেগম বাদী হয়ে বাহুবল থানায় অজ্ঞাতনামাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। প্রথমে বাহুবল থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত শুরু করে। তারা প্রায় ৪ মাস তদন্ত করলেও কোনো কূলকিনারা করতে পারেনি। একই বছরের ৫ ডিসেম্বর মামলাটি পিবিআইতে হস্তান্তর করা হয়। তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় এসআই মোহাম্মদ মাইনুল ইসলামকে।

প্রথমে সন্দেহভাজন হিসেবে চলতি বছরের ৬ মার্চ আটক করা হয় সাইফুর রহমানকে। তার দেয়া স্বীকারোক্তিতে বন্ধু মামুনুর রশিদ, আবু সাঈদ ও জুবায়েরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের প্রত্যেকেই আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। সবশেষ জুবায়ের শনিবার আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। আর পলাতক রয়েছে আরেক অভিযুক্ত ইলিয়াছ।

এ বিভাগের আরো খবর

Close