৪৭ বছরে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ৫০টি সিনেমা কেন?

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ নিয়ে এখনও ইউরোপ আমেরিকায় সাড়া জাগানো চলচ্চিত্র তৈরি হয়। যা দর্শক সমাদৃত ও ব্যবসা সফল হচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের ৪৭ বছরের ইতিহাসে মাত্র ৫০ বা ৫২টি চলচ্চিত্র নিমার্ণ করা হয়েছে।

যার অধিকাংশ সিনেমাই ব্যবসা সফল হয়নি। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র ওরা ১১জন এখনও বাংলা চলচ্চিত্রে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান দলিল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ওই ছবির একটি দৃশ্যে মুক্তিযুদ্ধের সময়কার আসল একটি ফুটেজ ব্যবহার হয়।

সেই ফুটেজটিই ঘুরে ফিরে এখনো ব্যবহার করা হয়।চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, বাংলা চলচ্চিত্রে যেভাবে মুক্তিযুদ্ধকে তুলে ধরা হয় তা সঠিক কোন পদ্ধতি হতে পারে না।

শুধুমাত্র পাকিস্তানিদের সাথে ফাইটিং বা তাদের কিছু অপকর্ম তুলে ধরাতেই মুক্তিযুদ্ধের চলচ্চিত্র সীমাবদ্ধ রয়েছে। কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের একেকটি ঘটনা বা মুহূর্তকে নিয়ে তৈরি হতে পারে সিনেমা।

গুরুত্বপূর্ণ কোনো গেরিলা অভিযান, সে সময়কার নানা রাজনৈতিক ঘটনা, এর আগে ও পরের রাজনীতির পটভূমি তার কোনটাই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রে সেভাবে দেখা যায় না। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে এবিষয়গুলো  নিয়ে পশ্চিমারা অনেক ছবি করেছেন। আর এসব চলচ্চিত্র ব্যবসা সফল হয়েছে।

চলচ্চিত্র প্রযোজক মুক্তিযোদ্ধা  নায়ক ফারুক আরটিভি অনলাইনকে বলেন, চলচ্চিত্র শিল্পে মুক্তিযুদ্ধকে অবহেলা করা হয়েছে। ৪৭ বছরের ইতিহাসে কেন এতো কম সিনেমা হবে।

ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক কারণেই মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র কম।তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্রের প্রতি সাধারণ মানুষের আগ্রহ অনেক থাকা সত্বেও প্রযোজক পরিচালকরা তা দিতে পারেননি। মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো নিয়ে চলচ্চিত্র হতে পারতো।

সেসব বিষয়ে মানুষের আগ্রহও আছে। কিন্তু দেখা যায় ঐ একই কাহিনী বার বার উপস্থাপন করায় মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।ফারুক বলেন, মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণে প্রথম থেকেই বাধার সম্মুখিন হয়েছে। স্বাধীনতার পর জল্লাদের দরবার নামে একটি ছবির কয়েকদিন শুটিং হয়েও তা বন্ধ হয়ে যায়।

যারজন্য এই ছবির শুটিং বন্ধ হয় বঙ্গবন্ধু তাকে দল থেকেও বের করে দেন।তিনি বলেন, ওরা ১১জন মুক্তিযুদ্ধভিক্তিক চলচ্চিত্রের প্রধান দলিল হিসেবে ব্যবহার হয়। সেখানে আংশিক বিষয় উঠে এসেছে। তবে যুদ্ধের ঘটনা সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে খান আতার ‘এখনো অনেক রাত’ ছবিতে। আমি মনে করি এই ছবিটি মুক্তিযুদ্ধের প্রধান ছবি।

যদিও এই ছবি নিয়ে কোন আলোচনাই হয় না।এখন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক চলচ্চিত্র মানেই ধরা হয়  এগুলো বাণিজ্যিক ধারার বাইরে একরকম বিকল্প ধারার সিনেমা।  বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র নির্মাতারা এখন মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে খুব কমই চলচ্চিত্র তৈরি করেন।  এর কারণ সম্পর্কে চলচ্চিত্র নির্মাতা শাহ আলম কিরণ বলেন, আমাদের এখানে রাজনীতিকরন খুব বেশি।

যে যখন ক্ষমতায় থাকে সে তাদের নিজেদের সম্পৃক্ততাকে উঁচু করে ধরে। আমাদের দেশে একটা ওপেন বিতর্ক হচ্ছে স্বাধীনতার ঘোষণা কে দিয়েছে।

এসব মত বিভেদ, মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি আর বিপক্ষের শক্তির বিতর্কে পরিচালকরা জড়াতে চান না।বাণিজ্যিক নির্মাতারা এখন কেন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ছবিতে বিনিয়োগ করতে চান না।

এমন প্রশ্নের জবাবে নির্মাতা শোহানুর রহমান শোহান বলেন, বিনিয়োগ ফেরত না আসার আশঙ্কায় বাণিজ্যিক নির্মাতারা মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে কাজ করেন না।

যে টাকায় এখন সিনেমা হয় তা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক সিনেমা হয় না। মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা করতে অনেক বেশি টাকার দরকার। যারা সিনেমা বানান তারা ব্যবসার জন্য তা করেন না।

ফেসবুক মন্তব্য
Share.