সড়ক-নৌ-রেলপথে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের দাবিতে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ডাক দিয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ’।
আজ শনিবার বিকেলে শাহবাগে আয়োজিত মহাসমাবেশে থেকে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন এ ঘোষণা দেন।
এ প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে কোটা পুনর্বহালের দাবিতে বিভিন্ন শ্লোগান দিচ্ছেন।
সমাবেশে অধ্যাপক আ ক ম জামাল উদ্দিন বলেন, আমরা দেশের তৃতীয় শ্রেণির নাগরিক হয়ে বাঁচতে চাই না। আমরা ভিক্ষার জন্য আসিনি, আমরা সমাবেশে এসেছি আমাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে। সব ধরনের চাকরিতে ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল না করা পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য সারাদেশে অবরোধ চলবে। নৌ পথ ও রেল পথে অবরোধ পালনের জন্য মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তানদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
কাজী শাহজাহান নামের এক মুক্তিযোদ্ধা বলেন, কোটা বাতিলের মাধ্যমে রাজাকাররা আবারও ষড়যন্ত্র করছে। কোটা বাতিল করে আমাদের অসম্মান করা হয়েছে। আমরা আমাদের সম্মান চাই, অধিকার চাই। আমাদের অধিকার আমাদের ফিরিয়ে দেয়া হোক।
মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কমান্ড ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন বলেন, মুক্তিযোদ্ধারা দেশ নিয়ে আসলো আর সেই মুক্তিযোদ্ধাদের দেশের তৃতীয় শ্রেণির মর্যাদা দেয়া হলো, এটা দুঃখজনক। আমরা বঙ্গবন্ধুর ঘোষিত ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল চাই। একইসঙ্গে মুক্তিযোদ্ধা পরিবার সুরক্ষা আইন চাই। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত শাহবাগসহ সারাদেশে আমাদের অবস্থান ও অবরোধ চলবে।
মুক্তিযোদ্ধা সন্তান ফেডারেশনের সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন মাসুদ বলেন, আমাদের একটাই দাবি ৩০ শতাংশ কোটা পুনর্বহাল চাই। এটা পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে অবস্থান করব। দাবি আদায়ে প্রয়োজনে রাজপথে জীবন দেব তবুও রাজপথ ছেড়ে যাবো না।
এর আগে বেলা ২টার পর থেকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মিছিল নিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে শাহবাগে আসতে থাকেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা। চারপাশের রাস্তায় ব্যারিকেড দিয়ে সমাবেশ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। এসময় শাহবাগ মোড়সহ আশপাশের সড়কে ব্যাপক যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের কোনও তৎপরতা দেখা যায়নি।
এদিকে মোড়ের পাশের রয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় ও বারডেম হাসপাতাল। প্রতিদিন এই হাসপাতাল দুটিতে হাজার হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। এই পথে যানচলাচল বন্ধ থাকায় ব্যাপক ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয় রোগীদের।
অ্যাম্বুলেন্সে রোগী নিয়ে জামালপুর থেকে আসা সিদ্দিকী সোহেল বলেন, খুব কষ্ট হচ্ছে ভাই। রোগী কষ্ট পাচ্ছে জ্যামে বসে আছি। জ্যাম কখন ছাড়বে বুঝছি না।
বারডেম হাসপাতালে আসা এক রোগীর আত্মীয় রেদোয়ান হোসেন বলেন, আমার ভাইকে নিয়ে নিয়মিত বারডেমে আসতে হচ্ছে। প্রতিদিন দেখছি রাস্তা অবরোধ করে রাখছে কয়েকজন মানুষ। তাদের জন্য হাসপাতালে যাওয়া আসা করতে অসুবিধা হচ্ছে। অবরোধের জন্য এদিকে গাড়িও আসছে না। এই রোগীকে নিয়ে অনেকটা পথ হেটে আসতে হচ্ছে।

ফেসবুক মন্তব্য
Share.