দেশজুড়ে

সোহরাওয়ার্দীর ১৪ ইউনিট চালু হয়েছে,ফিরছেন রোগীরা

অগ্নিকাণ্ডের পর আবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। দুটি ওয়ার্ড বাদে সব ওয়ার্ডে স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম চলছে। ফলে ফিরতে শুরু করেছেন অগ্নিকাণ্ডের সময় আতঙ্কিত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর হওয়া রোগীরা। পাশাপাশি জরুরি বিভাগে নতুন রোগীরাও চিকিৎসা নিতে আসছেন।আগুন লাগার পর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত হাসপাতালটির চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। পরে রাত ১০টায় চিকিৎসা কার্যক্রম প্রাথমিকভাবে শুরু হলেও শুক্রবার সকাল থেকে পরিপূর্ণ চিকিৎসা সেবা শুরু হয়।শুক্রবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালে গেটের পাশে পুরান রোগীদের জন্য একটি ডেক্স খোলা হয়েছে। সেখানে একাধিক চিকিৎসক ও নার্স দায়িত্ব পালন করছেন। পুরান রোগীরা আশামাত্র তারা কাগজপত্র পরীক্ষা করে তাৎক্ষণিকভাবে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন। ডেক্সের দেয়া তথ্য মতে, এখন পর্যন্ত ৭০ শতাংশের বেশি রোগী ফিরেছেন। হাসপাতালের ১৬টি ইউনিটের মধ্যে ১৪টি ইউনিট চালু করা হয়েছে। হাসপাতালের গাইনি ও শিশু ইউনিট সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কেবিন ও আইসিইওর যন্ত্রপতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় চিকিৎসা সেবা পুরোপুরি চালু হয়নি।হাসপাতালটির পরিচালক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর হওয়া রোগীদের আশার আহ্বান জানান।আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধানে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। এ ছাড়া হাসপাতালের পরিচালক ডা. উত্তম কুমারকে প্রধান করে সাত সদস্যের আরও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।এদিকে শুক্রবার দুপুরে গুলশানে নিজের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন বলেন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুনের ঘটনাটি আমাদের জন্য একটি শিক্ষা। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে আগুনের ঘটনাটি শুধুই শর্টসার্কিট থেকে না অন্য কোনও কারণে হয়েছে তা আমরা খতিয়ে দেখবো। ফায়ার ফাইটিং সিস্টেম এবং বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ঠিক আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে। তিনি বলেন, আগুন লাগার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মোট ৩৮৫ জন রোগীকে স্থানান্তর করা হয়েছে। এরমধ্যে দুইজনকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। আশপাশের সবগুলো হাসপাতালে মোট ৪৯২ জন রোগীকে ভর্তি করা হয়েছে। যখন আগুন লাগে তখন হাসপাতালে ১২শ রোগী ভর্তি ছিলেন।বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের নতুন ভবনের তৃতীয় তলায় আগুন লাগে। তৃতীয়তলার স্টোর রুম থেকে লাগা আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে দ্বিতীয় ও নিচতলায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ১৬টি ইউনিট প্রায় সোয়া তিনঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।তবে দ্রুততম সময়ের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, রোগীর স্বজন এবং ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ১২০০ রোগী বাইরে বের করে আনেন। তাদের আশাপাশের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ বিভাগের আরো খবর

Close