লুন্ঠিত শীতলক্ষ্যা নদী।

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +
        দেবনাথ নারায়ন
স্রোতস্বিনী কল্লোলিনী শীতলক্ষ্যা এখন স্থবির।ভূমিদস্যুদের দাপটে শীতলক্ষ্যা এখন রূপান্তরিত  হয়েছে খালে।রাজনীতিও যে একটি বহমান নদীকে স্তব্দ করে দিতে পারে শীতলক্ষ্যা তার জলন্ত প্রমান।রাজনীতির কারবারিরা একটি নদীকে ব্যবসার মূলধন হিসাবে ব্যবহার করে নদীর দুই তীরের শিল্প কারখানা থেকে লুটে নিয়েছে কোটিকোটি টাকা বিনিময়ে তাদের দিয়েছে নদী দখল করার অবাধ নিশ্চয়তা।স্থানীয় প্রশাসন নেতাদের পুতুলে পরিনত হয়ে ঘাসে মুখ লুকিয়েছেন।
অথচ ঢাকার হাতিরঝিলে সামান্য একটি জলাধার আটকে বিল্ডিং করার অপরাধে সুপ্রিমকোর্ট কয়েক কোটি টাকার বিজেএমের একটি বিল্ডিং ভেঙ্গে ফেলার আদেশ দিয়েছেন।আইন যদি একটি জলাশয়কে রক্ষার করতে পারে তবে একটি বহমান নদীকে নয় কেন।পরিবেশ রক্ষায় যাদের সোচ্চার হওয়ার কথা তারাই বক্ষক।শীতলক্ষ্যা নদীতে এখন আর কোন চরাঞ্চল নেই সব দখল হয়ে গিয়েছে জাদুর জিয়ন কাঠির স্পর্ষে।যারা বংশ পরম্পরায় নদীর চরাঞ্চল ভোগ দখল করে যাচ্ছিল তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে উচ্ছেদ করে কোটিকোটি টাকায় বিক্রি করে দিয়েছে কারখানার মালিকদের কাছে।যাদের পৈত্রিক সম্পত্তি ছিল তাদের মামলা মোকদ্দমার ভয় দেখিয়ে তাদের সম্পত্তিও কেড়ে নেয়া হয়েছে।এমন অনেকেই আইনের আশ্রয় নিতে গিয়ে বিফল হয়েছেন।যেমন পাইকসার মঞ্জুর মোরশেদ লিটন তাদের মধ্যে অন্যতম।কারন আইন নেতাদের কথায় চলে বলে।যারা নাটেরগুরু তাদের দাপটে এলাকা প্রকম্বিত।
এখন আর রাস্তা থেকে নদী দেখা যায় না।শিল্পায়নের দাপটে নদীর শ্বাশত রূপ এখন লোকান্তরিত।নদীর ঘাটে এখন আর কেউ স্নান করতে যেতে পারে না বেড়াতে যেতে পারে না পুজোর সময় নদীর বুক চিড়ে আন্দোলিত হয় না প্রতিমার কাঠামোর নৌকো।নদী এখন  বেড়াজালে আবদ্ধ।নদীর উত্তাল তরঙ্গ এখন শুধুই কবিতার ভাষা।
শীতলক্ষ্যার হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার জন্য সুপ্রিমকোর্ট হতে পারে উপলক্ষ।কিন্ত বিড়ালের গলায় ঘন্টা বাধবে কে।এমন স্বহৃদয় ব্যক্তি কি এলাকায় একটাও নেই?শৈশব যাদের পীড়া দেয় না ঐতিহ্যকে যারা বানিজ্য হিসাবে ধরে নিয়েছে তারা এগিয়ে আসবে না।কিন্ত এমন কি কোন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নেই যারা সুপ্রিমকোর্টের নজরে শীতলক্ষ্যা নদীর এই করুন অবস্থার কথা তুলে ধরতে পারে?আমি কুর্নিশ করি একজন অখ্যাত সাংবাদিক মাহবুব সৈয়দকে যে শীতলক্ষ্যা নদীর হৃত গৌরব পুন:রুদ্দারে তার সাহসী লেখা শত বাধাবিপত্তির পরও অব্যাহত রেখেছে।আরএফএল যত শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান হোক না কেন সাংবাদিকের কলমের শক্তির নিকট তুচ্ছ।একদিন তাদের পরাজয় স্বীকার করতেই হবে।উল্লেখ্য এখন থেকে প্রতিনিয়ত প্রানের যে সমস্ত প্রোডাক্ট জনস্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় নিম্নমানের প্রমানিত হয়েছে সেই সমস্ত প্রোডাক্ট জনস্বাস্থ্যে ব্যবহার না করার জন্য আন্তর্জাতিকভাবে প্রচারনা চালানো হবে।
ঢাকার হাতিরঝিলের সুউচ্চ বিল্ডিংটি ভাঙ্গার অপেক্ষায়।
                লেখক পরিচিতি:-দেবনাথ নারায়ন সাবেক সাধারন সম্পাদক-পলাশ থানা আঃলীগ
                         সাংবাদিক ও লেখক
ফেসবুক মন্তব্য
Share.