অপরাধ

লালমনিরহাটে শিশু ধর্ষণ: মাদরাসা শিক্ষক আটক!

লালমনিরহাটে মাদরাসার ২য় শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মাদারসা শিক্ষক ইসমাইল হোসেন (৫৫) কে আটক করেছে আদিতমারী থানা পুলিশ।

১৩ মার্চ বুধবার বিকেলে ধর্ষণ চেষ্টা ও যৌন হয়রানির অভিযোগে ওই মাদরাসার এক সালিশ বৈঠক থেকে তাকে আটক করা হয়। মাদারসা শিক্ষক ইসমাইল হোসেন কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলার নাজিম খা এলাকার মৃত আফার মাহমুদের ছেলে।

শিশুটির পরিবার সূত্রে জানা যায়, লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়নের পূর্বদৈলজোড় এলাকায় আল-জামিয়াতুল ইসলামিয়া দারুল উলুম মাদারাসার শিক্ষক ইসমাইল হোসেন দীর্ঘদিন থেকে ওই মাদারাসার ২য় শ্রেণির নুরানীয়া এক শিশু শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টা, যৌন হয়রানি ও বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল।

শিশুটিকে অনেক সময় শিক্ষক তার রুমে ডেকে নিয়ে গোপনাঙ্গসহ সারা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় হাত বুলিয়ে লম্পট শিক্ষক নিজের যৌন চাহিদা মেটাতো। গত সোমবার শিশুটি মাদারাসায় যেতে না চাইলে তার নানি জোর করে মাদারাসায় পাঠানোর চেষ্টা করেন। এরপরেও শিশুটি মাদারাসায় যাওয়ার কথা বললে সে কান্না ভেঙে পড়ে। পরে তার নানি তাকে জিজ্ঞাসা করলে শিশুটি লম্পট শিক্ষকের যৌন হয়রানির ব্যাপারে সব কথা খুলে বলে। ওইদিনই শিশুটির নানি এলাকাবাসীকে বিষয়টি অবগত করেন এবং মাদারাসার অধ্যক্ষ ইউছুব আলী’র নিকট বিচার দাবি করেন।

মাদরাসার অধ্যক্ষ ইউছুব আলী তাৎক্ষণিকভাবে লম্পট শিক্ষক ইসমাইল হোসেনকে ডেকে শাসন করে ও মাদারাসা থেকে সরিয়ে দেন। বিষয়টি এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হলে ১২ মার্চ মঙ্গলবার বিকালে এলাকাবাসী অধ্যক্ষ ইউছুব আলীকে অবরুদ্ধ করে রাখেন এবং লম্পট শিক্ষক ইসমাইল হোসেনকে হাজির করে সুষ্ঠ বিচারের দাবি জানান। উপায়ন্তর না পেয়ে ওইদিন রাতেই অধ্যক্ষ লম্পট শিক্ষককে হাজির করে এলাকাবাসীর নিকট সোর্পদ করেন।

১৩ মার্চ বুধবার দুপুরে সাপ্টিবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মমতাজ আলীর নেতৃত্বে লম্পট শিক্ষক ইসমাইল হোসেনের উপস্থিতিতে মাদারাসায় একটি সালিশ বৈঠকের আয়োজন করে। সালিশ বৈঠকে দীর্ঘ সময় আলোচনার পরেও সেখানে মাতব্বররা লম্পট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হন। পরে তারা থানা পুলিশের সাহায্য নেন এবং আদিতমারী থানা পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে বিকালে আদিতমারী থানার এসআই আনিছুজ্জামান আনিছ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত মাদারাসার শিক্ষক ইসমাইল হোসেনকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

এ ব্যাপারে আদিতমারী থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মাদারাসার শিক্ষককে আটক করে থানা নিয়ে আসা হয়েছে। এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায় নাই। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিভাগের আরো খবর

Close