যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে পুড়িয়ে হত্যা!

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলায় যৌতুক না পেয়ে শাপলা বেগম (২৩) নামের এক গৃহবধূকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিসাধীন অবস্থায় ঈদের দিন বুধবার রাতে শাপলা বেগমের মৃত্যু হয়।

নিহত শাপলা বেগম (২৩) কালিহাতী উপজেলার সল্লা ইউনিয়নের নরদহী চরপাড়া গ্রামের রাব্বি ইসলামের স্ত্রী এবং একই এলাকার বিল্লাল হোসেন এর মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে, ঈদের আগের দিন মঙ্গলবার দিবা গত রাত আনুমানিক এক টার দিকে গৃহবধূর চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে ছুটে যান। তারা ঘরের ভিতরে গিয়ে দেখেন শাপলার শরীরের অর্ধেক অংশ আগুনে পুড়ে গেছে এবং তিনি চিৎকার করছেন। এক পর্যায়ে সেই গৃহবধূ জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।

পরে, তাকে উদ্ধার করে প্রথমে টাঙ্গাইল শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আগুনে পোড়া গৃহবধূকে ঢাকায় রেফার করেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তির পর বুধবার রাতে চিকিসাধীন অবস্থায় তার শাপলা বেগমের মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে নিহত শাপলা বেগমের মা মর্জিনা বেগম অভিযোগ করেন তার মেয়েকে যৌতুকের জন্য প্রায়ই নির্যাতন করা হতো। মেয়ে ফোনে প্রায়ই নির্যাতনের কথা জানাত বলেও মর্জিনা বেগম অভিযোগ করেছেন।

‘ঘটনার আগের দিন এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। যৌতুক না পেয়েই আমার মেয়েকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। আমি এই হত্যাকারীদের বিচার চাই।

নিহতের মামা সোহরাব বলেন, ‘আমরা যখন ঘরে ঢুকি তখন দেখি শুধু শাপলার শরীরে আগুন, কিন্তু তার হাতের পাশেই খাট ও পাশের আলনা ভর্তি কাপড় রয়েছে। সেখানে কোনো আগুন লাগেনি। যদি অন্য কিছুতে আগুন লাগতো তা হলে অবশ্যই খাট ও আলনাতে রাখা কাপড়ে আগুন লাগতো। তারা পরিকল্পিত ভাবে আগুনে পুড়িয়ে শাপলাকে হত্যা করেছে।

এ প্রসঙ্গে, কালিহাতী থানার (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন সময়ের কন্ঠস্বর’কে জানান, এ ঘটনায় এখনো কেউ থানায় মামলা ও অভিযোগ করেনি। মামলা ও অভিযোগ করলে এর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
Share.