বাংলাদেশ

ভয়’ দেখিয়ে যুবদল নেতার স্ত্রীকে বিয়ে করেন এএসআই

বগুড়ার ধুনটে ভয় দেখিয়ে যুবদল নেতার স্ত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগ পাওয়া গেছে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক এএসআই শাহানুর রহমানের বিরুদ্ধে। এমকি কি বিয়ের পরে বিচ্ছেদও ঘটে। এছাড়াও, অনেক অপরিচিত নারীর যাতায়াত ছিলো শাহানুরের ধুনটের বাসায়।

প্রিয় পাঠক আমাদের পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন

এর আগে শনিবার ‘বিয়ের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায়’ থানায় ডেকে এনে দুই সন্তানের মাকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় প্রত্যাহার করা হয় এএসআই শাহানুর রহমানকে। থানা থেকে প্রতাহারের পর শাহানুর সম্পর্কে এসব চাঞ্জল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

জানা গেছে, পুলিশ কর্মকর্তা শাহানুর রহমানের বাড়ি সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া গ্রামে। তার বাবার নাম হবিবুর রহমান।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ধুনট শহরে এএসআই শাহানুরের ভাড়া বাসায় অজ্ঞাত নারীদের যাতায়াত ছিল। তার বাসায় স্ত্রী ও সন্তানরা না থাকার সুযোগে তিনি অনৈতিক কর্মকাণ্ড করেছেন। এ সব বিষয়ে এলাকায় গুঞ্জন থাকলেও পুলিশ কর্মকর্তা বলে তার বিরুদ্ধে কেউ কিছু বলার সাহস পায়নি।

জানা যায়, ধুনট পৌর যুবদলের সভাপতি মশিউর রহমান পলাশ ২০১৬ সালের ২৩ জুন মারা যান। রাজনৈতিক কারণে পলাশের বিরুদ্ধে নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনে ছয়টি মামলা আদালতে বিচারাধীন থাকায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়। থানা থেকে এএসআই শাহানুরকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা তামিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সেই সুযোগে পলাশের স্ত্রী এক সন্তানের মা শাপলা খাতুনের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন শাহানুর। নিজের স্ত্রী ও সন্তানের কথা গোপন রেখে শাহানুর গত ৫ জানুয়ারি শাপলাকে বিয়ে করেন। গোপনে শাপলার বাড়িতে যাতায়াতের একপর্যায়ে গত ৭ জুলাই তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়।

এ বিষয়ে শাপলা খাতুন বলেন, ‘মৃত স্বামীর নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ঝামেলা মেটাতে শাহানুরের সঙ্গে পরিচয় হয়। তিনি ভয়ভীতি দেখিয়ে আমার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। তার স্ত্রী-সন্তান থাকার পরও এ তথ্য গোপন রেখে ২ লাখ টাকার মোহরানায় আমাকে বিয়ে করে।’

শাপলা খাতুন আরও বলেন, ‘বিয়ের পর তার স্ত্রী মোবাইল ফোনে সবকিছু আমাকে খুলে বলেন। শাহানুরের প্রতারণা বুঝতে পেরে ৭ জুলাই তার সঙ্গে বিয়ে বিচ্ছেদ ঘটাই। বিয়ে বিচ্ছেদকালে চার লাখ টাকা দেওয়ার কথা বলে আমাকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিয়েছে। প্রতারক শাহানুরের শাস্তি চাই।’

এ বিষয়ে পুলিশ কর্মকর্তা শাহানুর রহমান বলেন, ‘ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে শাপলাকে বিয়ে করেছিলাম। পরে তার সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে বিয়ে বিচ্ছেদ করেছে।’

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশে এএসআই শাহানুরকে ধুনট থানা থেকে প্রত্যাহার করে বগুড়া পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।

প্রিয় পাঠক আপনার মতামত জানান

এ বিভাগের আরো খবর

Close