ভিক্ষুকের কাছ থেকে ভিক্ষার টাকা ছিনতাই!

হায় সেলুকাস, কি বিচিত্র এই দেশ! আবারও ভিক্ষুকের কাছ থেকে ভিক্ষার টাকা ছিনতাই!

টাকা ছিনতাই করে রাজধানীর কাওরানবাজারের ফুটপাতে ফেলে রেখে যাওয়া ৭০ বছর বয়সী ফিরোজা খানিকটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন। জ্ঞান ফেরার পর কথা বলতে পারছেন তিনি। জানিয়েছেন কলাবাগান এলাকায় ভিক্ষা করেন তিনি। তার জমানো ১০ হাজার টাকা কেড়ে নিয়ে তাকে ফেলে যাওয়া হয়েছে।

গত ২৬ অক্টোবর শুক্রবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে গিয়ে ডাক দিতেই উঠে বসার চেষ্টা করলেন ফিরোজা। কেমন আছেন, জিজ্ঞাসা করতেই ছোট্ট করে বললেন, ‘ভালো।’ সুস্থ দেখে কথা বলার চেষ্টা করতেই নিজেই বলতে শুরু করলেন। দুর্বল শরীরে ক্ষীণ কণ্ঠে বলতে থাকলেন কীভাবে কাওরানবাজার এসেছেন তিনি।

বললেন, ‘ভিক্ষা শেষে গত মঙ্গলবার রাতে প্রতিদিনের মতো ফুটপাতে ঘুমিয়ে ছিলেন তিনি। কোমরে বাঁধা ছিল জমানো ১০ হাজার টাকার পুটলি।’ হাসপাতালে জ্ঞান ফিরে সেই টাকা পাননি তিনি। প্রতিবেদককে বারবার দেখাতে থাকেন পুটলির কেটে নেওয়া বাকি অংশ।

গত বুধবার বিকেলে রাজধানীর কাওরানবাজারে হোটেল সোনরগাঁওয়ের ফুটপাতে পড়ে থাকতে দেখা যায় ফিরোজাকে।

ওই ফুটপাতের ইঁদুর মারার ওষুধ বিক্রেতা হাসান জানান, ওইদিন বেলা ১২টার দিকে মধ্যবয়সী দুই ব্যক্তি ফুটপাতে নিয়ে আসেন জ্ঞান হারানো ওই নারীকে। কিছুক্ষণ পর সুযোগ বুঝে তারা পালিয়ে গেলে সেখানেই পড়ে থাকেন ফিরোজা। পরে তার জীবনের স্পন্দন টের পেয়ে বিকেল চারটার দিকে পথচারীরা তাকে নিয়ে যান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক)। ভর্তি করা হয় ৮০২ নম্বর ওয়ার্ডে।

জ্ঞান ফিরে টাকা না পেয়েও ফিরোজার শুভকামনা, ‘যারা আমার টাকা নিছে, ভালো থাকুক তারা।’

ঢামেক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আননোন পয়জনিং (অজানা বিষাক্রান্ত) আক্রান্ত ফিরোজা বর্তমানে মোটামুটি ভালো আছেন। বয়স হয়েছে তার। ধকল কাটাতে সময় লাগবে। গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জানালেও তার আত্মীয়-স্বজন, পরিচিত কারো সন্ধান পাওয়া যায়নি। সুস্থ হলে যাওয়ার জায়গা না থাকলে তাকে ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে পাঠানো হবে।

Loading...