ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভয়ংকর লাল পোকার আতঙ্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে রহস্যময় লাল পোকা আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।  আনন্দবাজার পত্রিকার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ছোট্ট লাল পোকার কামড়ে রাজ্যে বিভিন্ন স্থানে জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকে। এই জ্বরের প্রকোপ নিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরে বেশ কয়েক দিন আগে থেকেই আলোচনা শুরু হয়। গত রোববার কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে সেই পোকার কামড়ে আক্রান্ত এক নারীর মৃত্যু হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন ওই আতঙ্কের নাম স্ক্রাব টাইফাস ব্যাকটিরিয়া। ডেঙ্গু যেমন এডিস মশার কামড়ে হয়, তেমনই এই ব্যাকটেরিয়াও ট্রম্বিকিউলিড মাইটস নামে এক ধরনের পোকার কামড়ে শরীরে প্রবেশ করে। এর ফলে প্রবল জ্বর হয়। সঠিক সময়ে চিকিৎসা শুরু করা না হলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ একে একে বিকল হতে পারে।

কলকাতার এক বেসরকারি হাসপাতালে দিন দশেক আগে জ্বর নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন গড়িয়ার এক প্রৌঢ়া। রক্ত পরীক্ষায় কোনও কিছুই ধরা না পড়ায় হাসপাতালের চিকিৎসকেরা বছর ষাটেকের ওই নারীর ‘স্ক্রাব টাইফাস’এর পরীক্ষা করান। দেখা যায়, রিপোর্ট পজিটিভ।

ততক্ষণে তার দেহের বিভিন্ন অঙ্গ অকেজো হতে শুরু করেছে। রোববার তিনি মারা যান। হাসপাতালের চিকিৎসক চন্দ্রমৌলি ভট্টাচার্য জানান, সঠিক সময়ে চিকিৎসা না হলে এই অসুখ প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে। যেখানে ডেঙ্গির মৃত্যুহার ০.৩%, সেখানে এই রোগে মৃত্যু হয় ৭.৫ % শতাংশ।

চিকিৎসকেরা জানান, যেখানে গাছপালা বেশি, সেখানেই এই পোকার অস্তিত্ব রয়েছে। এর কামড়ে প্রাথমিকভাবে কোনও জ্বালা-যন্ত্রণা হয় না। পোকাটি শরীরের যে সব অংশ খুব বেশি নজরে পড়ে না, মূলত সেই সব জায়গাতেই কামড়ায়।

এর কামড়ে জ্বর তো হয়ই, তারপর মেনিনজাইটিসও হতে পারে। লিভার, ফুসফুস পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এখনও এই রোগটির নির্ণয়ের ব্যবস্থা সব জায়গায় নেই। সরকারি ভাবে কলকাতার স্কুল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন এবং শহরের হাতে গোনা কয়েকটি বেসরকারি ল্যাবরেটরিতে এই পরীক্ষার ব্যবস্থা আছে।

চিকিৎসকদের আশঙ্কা, এই রোগের প্রকোপ বড় আকারে দেখা দিলে তা মোকাবেলা করা কঠিন হবে। কেননা এই মুহূর্তে রোগ নির্ণয়ের মতো অবকাঠামো তাদের নেই।

কলকাতার এক সরকারি হাসপাতালের মেডিসিন’এর চিকিৎসক বলেন, নির্দিষ্ট একটি অ্যান্টিবায়োটিক এই রোগকে সারিয়ে তুলতে পারে। কিন্তু সমস্যা হল, সাধারণ মানুষ তো দূরের কথা, ডাক্তারদের একটা বড় অংশই এই রোগ সম্পর্কে সচেতন নন। ফলে রোগটা বহু ক্ষেত্রে ধরাই পড়ে না। আবার অনেক ক্ষেত্রে এত দেরিতে রোগটি ধরা পড়ে যে চিকিৎসার সুযোগটাই পাওয়া যায় না।

Loading...