ব্যয় করার ক্ষেত্রে অগ্রধীকার খাতসমূহ (১ পর্ব)

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

ডাঃ হাফেজ মাওলানা মোঃ সাইফুল্লাহ মানসুর
একজন মানুষ প্রতিদিন কোন না কোন খাতে অসংখ্য টাকা ব্যয় করে। এই ব্যয় করার ক্ষেত্রে মানুষের অবশ্যয় জানা দরকার ইসলাম কোন কোন খাতে ব্যয় করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করে বা অগ্রধীকার দেই। তা না হলে এই ব্যয়টা অনেক সময় কল্যাণের চেয়ে অকল্যাণকর খাতে ব্যয় হয়ে যায় বেশি। ব্যয়টা যদি সৎ কাজের চেয়ে অসৎকাজে বেশি হয় তাহলে সমাজ ব্যবস্থার উপর তার নিতিবাচক প্রভাব পড়ে। আর আপনার ব্যয় যদি সমাজে কোন কুসংস্কার বা অপসাংস্কৃতি ছড়াতে সহায়ক ভুমিকা রাখে সেটা আপনার জন্য অকল্যানই বয়ে আনলো। তাই ব্যয় করার ক্ষেত্রে অবস্য সতর্ক দৃষ্টি রাখা আবশ্যক। কোন কোন ক্ষেত্রে ব্যয় করতে হবে তা কুরআনে সুস্পষ্ট বলে দিয়েছেন। এ সম্পর্কে সূরা বাকারায় মহান আল্লাহ বলেন-
يَسْأَلُونَكَ مَاذَا يُنفِقُونَ ۖ قُلْ مَا أَنفَقْتُم مِّنْ خَيْرٍ فَلِلْوَالِدَيْنِ وَالْأَقْرَبِينَ وَالْيَتَامَىٰ وَالْمَسَاكِينِ وَابْنِ السَّبِيلِ ۗ وَمَا تَفْعَلُوا مِنْ خَيْرٍ فَإِنَّ اللَّهَ بِهِ عَلِيمٌ﴾
২১৫) লোকেরা জিজ্ঞেস করছে, আমরা কি ব্যয় করবো? জবাব দাও, যে অর্থই তোমরা ব্যয় কর না কেন তা নিজেদের পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজন, ইয়াতীম, মিসকিন ও মুসাফিরদের জন্য ব্যয় করো৷ আর যে সৎকাজই তোমরা (ব্যয়) করবে সে সম্পর্কে আল্লাহ অবগত হবেন ৷
নিম্নে ব্যয়ের অগ্রধীকার খাতসমূহ উল্লেখ করা হলো।
>>প্রথম খাতঃ আল্রাহর পথে ব্যয় করা –
ব্যয় করার ক্ষেত্রে প্রথমেই যেটা ভাবতে হবে সেটা হলো ব্যয়টা সৎ পথে হচ্ছে না অসৎ পথে হচ্ছে? আর সৎ পথ বলতে আমি বুঝি আল্লাহর নির্দেশিত পথে বা আল্লাহর দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজে। একজন মানুষ যখনই আল্লাহর পথে চলার ইচ্ছা পোষণ করে তখন থেকেই মূলত শুরু করতে হয় আল্লাহর পথে ব্যয়। আল্লাহর পথে ব্যয় শুধু অর্থই বুঝায় না বরং এর থেকে আরো অনেক কিছু বুঝায়। যেমন হতে পারে অর্থ-সম্পদ, সংসারের মহাব্বত, ভালবাসা, সম্পর্ক. সময়, ক্ষমতা ইত্যাদি। এ সব কিছু আল্লাহর জন্য sacrifice করাই হলো আল্লাহর পথে ব্যয়। আল্লাহর পথে ব্যয়ের আগ্রহটা এমন পর্যায়ে পৌছতে হবে যে আল্লাহর সন্তুষ্ঠির মোকাবিলায় দুনিয়ার কোন জিনিসকেই সে প্রিয়তর মনে করবে না৷ আর যে জিনিসের প্রতি তার ভালোবাসা এমনভাবে প্রাধান্য বিস্তার করে যে, আল্লাহর প্রতি ভালোবাসার জন্য সে তাকে ত্যাগ করতে পারে না, সেটিই হচ্ছে তার একটি দেবতা৷ এই দেবতাকে যতক্ষণ পর্যন্ত সে বিসর্জন দিতে ও বিনষ্ট করতে না পারবে ততক্ষণ পর্যন্ত নেকীর দুয়ার তার জন্য বন্ধ থাকবে
যেমন আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-
لَنْ تَنَالُوا الْبِرَّ حَتّى تُنْفِقُوْا مِمَّا تُحِبُّوْنَ তোমরা প্রকৃত পুণ্য লাভ করতে পারবে না সেই পর্যন্ত যে পর্যন্ত না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তুগুলো আল্লাহর পথে ব্যয় না করবে।’ সূরা আনফাল-192
অতএব মানুষ যে গুলোকে সবচেয়ে বেশি ভালবাসে অথবা যে ভালবাসার টান তাকে আল্লাহর পথ থেকে দুরে রাখে সেই বালবাসাকে আল্লাহর জন্য বিসর্জন দেয়াই হলো আল্লাহর পথে ব্যয়। এমন ব্যয়কেই রাসূলুল্লাহ্ (সা.) সুসংবাদ দেন এই বলে যে- مَنْ أَنْفَقَ نَفَقَةً فِي سَبِيلِ اللهِ كَانَتْ لَهُ بِسَبْعِ مِائَةِ ضِعْفٍ যে ব্যক্তি আল্লাহর পথে কোন কিছু ব্যয় করবে তাকে সাতশত গুণ ছওয়াব প্রদান করা হবে। (আহমাদ,সনদ ছহীহ)
অন্য একটি হাদিসে রাসূলুল্লাহ্ (সা.) বলেন-হে আদম সন্তান! তোমার হাতে তোমার প্রয়োজনের অতিরিক্ত যা রয়েছে তা আল্লাহর পথে ব্যয় করাই তোমার জন্য মঙ্গলকর এবং তা ব্যয় না করা তোমার জন্য ক্ষতিকর। তবে হ্যাঁ, নিজের প্রয়োজন অনুপাতে খরচ করায় তোমার প্রতি কোন ভর্ৎসনা নেই।’ (মুসলিম ১০৩)

ফেসবুক মন্তব্য
Share.