বৃদ্ধ মা-বাবাকে অবহেলা করলে বেতন কাটবে সরকার

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

বয়স্ক বাবা-মায়ের দেখভালে অবহেলা করলে সরকারি চাকরিজীবী সন্তানের বেতন কাটবে ভারত সরকার।

শুক্রবার আসামের বিধানসভা সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে এ-সংক্রান্ত এক বিল পাস করে। এ অর্থ ওই কর্মীর মা-বাবা বা প্রতিবন্ধী ভাইবোনকে দেওয়া হবে।

দ্য আসামস এমপ্লয়িজ প্যারেন্টস রেসপন্সিবিলিটি অ্যান্ড নরমস ফর অ্যাকাউন্টিবিলিটি অ্যান্ড মনিটরিং বিল ২০১৭ বা প্রণাম বিল পাস হয়। জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে অনেক মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে ঠাঁই নিতে হয়। সন্তানেরা তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যান। এ বিষয়কে মাথায় রেখে এই বিল করা হয়।

জানা গেছে, সন্তানের ওপর নির্ভরশীল বয়স্ক মা-বাবা দেখভালে অবহেলা করলে মাস শেষে সেই সন্তানের বেতন থেকে ১০ শতাংশ ও প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের প্রতি অবহেলা করলে কাটা হবে বেতনের ১৫ শতাংশ।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও অর্থমন্ত্রী হীমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, যেসব বাবা-মায়ের আয়ের কোনো উৎস নেই ও যারা সন্তানের উপর নির্ভরশীল তাদের ভরণপোষণ নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

এছাড়া সরকারি কর্মীদের অবশ্যই শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাইবোনদের দেখভাল করতে হবে। এ বছরের ২ অক্টোবর থেকে এটি কার্যকর হবে।

শর্মা বলেন, কোনো সরকারি চাকরিজীবী যদি বাবা-মায়ের ঠিকঠাক দেখভাল না করেন, তাহলে তার বেতনের ১০ শতাংশ কেটে নেওয়া হবে। এই বাবা-মায়ের যদি একাদিক সন্তান সরকারি চাকরিজীবী হয়ে থাকেন, তাহলে ওই অর্থ সবার মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেওয়া হবে। আর শারীরিক প্রতিবন্ধী ভাইবোনের ক্ষেত্রেও যদি একই অভিযোগ পাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে ওই কর্মীর বেতনের ১৫ শতাংশ কাটা হবে।

প্রসঙ্গত, সন্তান বড় হলে নিজের মতো জীবনযাপন করা পশ্চিমা সমাজে সাধারণ একটি বিষয়। এজন্য সেসব দেশ বয়স্ক নাগরিকদের জন্য সামজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। প্রতিষ্ঠা করে বৃদ্ধাশ্রমের, প্রবর্তন করেছে বৃদ্ধ ভাতার।

সম্প্রতি ভারতীয় সমাজেও এ প্রবণতা প্রকট হয়ে উঠছে। আর্থিক সঙ্গতি থাকা সত্ত্বেও অনেকেই বয়স্ক মা-বাবার দেখভালে অপারগতা জানাচ্ছেন। ফলে জীবন সায়াহ্নে এসে এসব মানুষ অসহায় হয়ে পড়ছেন।

অনেক ক্ষেত্রে এমন অসহায় বাবা-মা আদালতেরও শরণাপন্ন হয়েছেন। কখনও কখনও কোর্টের রায়ে তারা সন্তানের বাড়িতে আবার ফিরে যাওয়ার অধিকার পেয়েছেন। কিন্তু সমস্যা দিন দিন বাড়ছে।

তাই আইন করে ক্রমবর্ধমান এ সামাজিক সমস্যা নিরসনে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতৃত্বাধীন আসাম সরকার। যা দেশটির ইতিহাসে প্রথম। তবে এ আইন বাস্তবে কতোটা প্রয়োগযোগ্য হবে- সেটাই এখন দেখার বিষয়।

ফেসবুক মন্তব্য
Share.