শিক্ষা

বাংলাদেশে পড়ুয়া নেপালি ছাত্রীদের নিয়ে করা মন্তব্যে তোলপাড়, পদত্যাগে বাধ্য হলেন মন্ত্রী

বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে পড়তে যাওয়া নেপালি নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করার পর চাপের মুখে অবশেষে পদত্যাগ করেছেন নেপালের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী শের বাহাদুর তামাং।

রাজধানী কাঠমান্ডুতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, নারীদের ব্যাপারে খুব স্পর্শকাতর বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেছিলেন এবং তার এই মন্তব্যের ফলে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের কাছে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নেপালের মন্ত্রী শের বাহাদুর তামাং ২০ জুলাই কাঠমান্ডুর একটি অনুষ্ঠানে বলেন, ‘বাংলাদেশে এমবিবিএস  কোর্সে পড়তে যাওয়া নেপালের ছাত্রীরা নিজেকে বিক্রি করে দিয়ে থাকেন। তারা নিজেকে বিক্রি করেই তাদের সার্টিফিকেট অজর্ন করেন।’

মন্ত্রীর ‘এহেন’ বক্তব্য নিয়ে ঢাকা ও কাঠমান্ডুর নেপালি শিক্ষার্থীদের মধ্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। বাংলাদেশে পড়তে আসা দেশটির শিক্ষার্থীরা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (২৪ এপ্রিল) ঢাকার নেপাল দূতাবাসে স্মারকলিপিও দিয়েছেন।

নেপালি শিক্ষার্থীরা বলেন, কোন ধরনের তথ্যপ্রমাণ ছাড়াই মন্ত্রী তাদের ব্যাপারে মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন।”

তিনি কি কখনো বাংলাদেশে পড়তে যাওয়া নারী শিক্ষার্থীদের কাছে এ ব্যাপারে খোঁজ নিয়েছিলেন? আমরা সেখানে কতো কষ্ট করে লেখাপড়া করি তার তিনি কিছুই জানেন না,” বলেন ড. রোজি মানান্ধার, যিনি বাংলাদেশ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি নিয়ে সম্প্রতি নেপালে ফিরে গেছেন।

তিনি বলেন, ”কোন ধরনের প্রমাণ ছাড়াই মন্ত্রী একথা বলেছেন। কঠোর পরিশ্রম করেই আমি আমার সার্টিফিকেট পেয়েছি।

ওই অনুষ্ঠানেই মন্ত্রী তামাং বলেছিলেন, বাংলাদেশ থেকে ফিরে আসা কয়েকজন নারী শিক্ষার্থীর কাছ থেকে তিনি এধরনের অভিযোগের কথা শুনেছেন। তবে তিনি এও বলেছেন যে এসব অভিযোগের সত্যতা তিনি নিজে কখনো যাচাই করে দেখেন নি।

কাঠমান্ডু থেকে বিবিসির সংবাদদাতা সঞ্জয় দাখাল জানিয়েছেন, মন্ত্রী প্রথমে পদত্যাগ করতে চান নি। কিন্তু পরে তার দল ক্ষমতাসীন কমিউনিস্ট পার্টি অফ নেপালের ভেতরেই তার উপর প্রচণ্ড রকমের চাপ তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে এবং একারণেই শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন।

মন্ত্রী তামাং এর এই মন্তব্যের কারণে নেপালের সোশাল মিডিয়াতে তার তীব্র সমালোচনা হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অনেকেই লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগ তুলে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানিয়েছেন। বিবিসির নেপালি বিভাগকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মন্ত্রী তার এই মন্তব্যের জন্যে ক্ষমাও চেয়েছেন।

সিলেটের একটি মেডিকেল কলেজে পঞ্চম বর্ষে পড়ছেন এমন একজন শিক্ষার্থী সাব্বু পোখারেল বলেছেন, নেপাল থেকে বাংলাদেশে পড়তে যাওয়া নারী শিক্ষার্থীরা কোন ধরনের চাপের মধ্যে লেখাপড়া করে না।

“মন্ত্রীর একথা শোনার পর আমার বাবা মা আমাকে ফোন করে এখানকার অবস্থা জানতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এখানকার অবস্থা মোটেও সেরকম কিছু নয়। বাংলাদেশে আমরা খুব নিরাপদে আছি,” বলেন পোখারেল।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজে নেপালের শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছেন। বাংলাদেশের মেডিকেল শিক্ষার মান উন্নত হওয়ায় এশিয়ার অনেক শিক্ষার্থীই পড়তে আসেন এখানে। বর্তমানে বাংলাদেশে নেপালের প্রায় দুই হাজার শিক্ষার্থী  এমবিবিএস কোর্সে অধ্যয়ন করছেন।

এ বিভাগের আরো খবর

Close