অর্থ-বাণিজ্য

বাংলাদেশের কুচিয়া রপ্তানি হচ্ছে ১৫টি দেশে

বাংলাদেশে কুচিয়া মাছের ব্যাপক চাহিদা না থাকলেও বিশ্বের অনেক দেশেই কুচিয়ার ব্যাপক চাহিদা আছে। বাংলাদেশের মানুষ যতই অপছন্দ করুক না কেন বিদেশে এ মাছের যথেষ্ট চাহিদা আছে। বাংলাদেশের নির্বাচিত এলাকায় কুচিয়া চাষ ও গবেষণা প্রকল্প মৎস্য অধিদপ্তর এর আওতায় দেশের বিভিন্ন জেলায় কুচিয়া চাষ শুরু হয়।চীন, জাপান, হংকং, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায়, দক্ষিণ কোরিয়াসহ প্রায় ১৫টি দেশে কুচিয়া রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে।

সাপের মতো দেখতে হলেও কুচিয়া এক প্রকার মাছ। ইহা বাংলাদেশে কুইচ্চা, কুঁইচা, কুঁচে, কুঁচো ইত্যাদি নামে পরিচিত। বাংলাদেশের হাওর, বাঁওড়, খাল-বিল, পচা পুকুর, ধানক্ষেতে এবং বন্যাপ্লাবিত অঞ্চলে কুচিয়া মাছ দেখতে পাওয়া যায়। খেতে খুবই সুস্বাদু, পুষ্টিকর এবং ঔষধি গুণাগুণ সম্পন্ন। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও এর চাহিদা দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মাছটি প্রাকৃতিকভাবে মুক্ত জলাশয়ে প্রজনন করে। বাংলাদেশ ছাড়াও পাকিস্তান, নেপাল, মিয়ানমার, কানাডা, দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিশ্বের অনেক দেশেই এ প্রজাতির মাছের বিস্তার রয়েছে।

বাংলাদেশের সিলেট টাঙ্গাইল বরিশালসহ অনেক জেলার অগভীর বিল ও ধান ক্ষেতের আইলের জলজ আগাছা ঝোপ ঝাঁপের পরিবেশে কুচিয়া মাছ পাওয়া যায়। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের জলভূমিগুলো জীববৈচিত্র প্রাণী প্রভাহতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। প্রকৃতি থেকে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কুচিয়া সংগ্রহ  এবং মনুষ্য সৃষ্টির কারণে এদের আবাসস্থল ধ্বংস হচ্ছে।

বাংলাদেশে কুচিয়া মাছের ব্যাপক চাহিদা না থাকলেও, খাদ্য হিসেবে কিছু কিছু উপজাতীয় জনগোষ্ঠীর কাছে জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ কুচিয়া মাছকে পছন্দ করে না। যদিও ইহা শারীরিক দুর্বলতা, রক্তশূন্যতা, অ্যাজমা রোগ, ডায়াবেটিস, বাতজ্বর,  অনেক রোগ সারাতে মহৌষধের মতো কাজ করে। কুচিয়া উৎপাদনের মাধ্যমে আদিবাসী সমাজের খাদ্য নিরাপত্তার ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব।

কুচিয়া রপ্তানিতে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সম্ভাবনা দেখে মুক্ত জলাশয়ে আহরণ ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে অগভীর উন্মুক্ত জলাশয়, হাওর, বাঁওড়, বিল, খাল এবং প্লাবনভূমি থেকে আহরণ করে সাধারণত এই মাছ রপ্তানী করা হয়। চীন, জাপান, হংকং, মঙ্গোলিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়ায়, দক্ষিণ কোরিয়াসহ প্রায় ১৫টি দেশে কুচিয়া রপ্তানি হচ্ছে বাংলাদেশ থেকে। আন্তর্জাতিক বাজারে যথেষ্ট চাহিদা থাকায় চাষের ব্যাপকতা বারিয়ে রপ্তানি আরো বাড়ানো সম্ভব। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কুঁচিয়া রপ্তানি করে প্রায় ১৪.৯ বিলিয়ন, ২০১২-১৩ অর্থবছরে ১০.৯২ বিলিয়ন এবং ২০১১-১২ অর্থবছরে ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক বাজারে যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে, আদিবাসী সমাজের অংশগ্রহনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক জলজসম্পদ ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটিয়ে কুচিয়া চাষের সম্প্রসারণ করা যেতে পারে। কিন্তু আদিবাসী এলাকার অনেক ছোট ছোট পুকুর, জলাশয় ও ধানক্ষেত রয়েছে যা এখনো মৎস চাষের আওতায় আসেনি। এ সমস্ত জলাভূমিতে কুচিয়াচাষ ও ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ঘটিয়ে কুচিয়া উৎপাদন বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

আরো দেখুন
Close
Close