বন্যার অজুহাতে বাড়ছে কাঁচা পণ্যের দাম

বন্যার অজুহাতে প্রতিদিনই বাড়ছে সব ধরনের সবজি ও কাঁচা খাদ্যপণ্যের দাম। পাইকারি ও খুচরা বাজারের ব্যবসায়ীরা যুক্তি দেখাচ্ছেন বন্যায় উৎপাদন কম এবং রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় ট্রাকের ভাড়া বেড়েছে। তাই আড়তদাররা সব সবজির দাম বাড়িয়েছে।
তবে আড়তদাররা বলছেন, রাজধানীতে আসা বেশির ভাগ সবজি আসে আশপাশ এলাকা থেকে। যেখানে বন্যা হয়নি। তাই সরবরাহও স্বাভাবিক রয়েছে। তবে ট্রাকের ভাড়া বাড়লেও তা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে। মূলত পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা অধিক লাভের আশায় পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজার মনিটরিং করলে দাম নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ি ও কারওয়ান বাজারে কাঁচাপণ্যের আড়তদার ও ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে অনুসন্ধান করে দেখা যায়, পাইকারি মোকাম থেকে এক হাত বদল হয়ে খুচরা বাজারে যেতেই সবজির দাম কয়েক গুণ বেড়ে যায়। পাইকারি বাজারে পণ্যের যে দাম, খুচরা বাজারে গিয়ে তা বাড়ানো হচ্ছে কয়েকগুণ। এক বাজারের পণ্যের দামের সঙ্গেও মিল নেই অন্য বাজারের।
এর কারণ জিজ্ঞেস করলে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারের সমিতি থেকে দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়। সবাই সেই দামে বিক্রি করে। এর মধ্যে কেউ কেউ দোকানে আকর্ষণ বাড়িয়ে পণ্য সাজিয়ে আরো বেশি দাম নিয়ে থাকে।
এদিকে নিত্যপণ্যের লাগামহীন এ দামে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ক্রেতারা। তুলনামূলক ক্রেতা কমেছে বাজারে। যারা আসেন তারা তাদের দরকারি জিনিসপত্র আগের তুলনায় কম কিনছেন। হাতিরপুল কাঁচাবাজারে নিয়মিত বাজার করেন মোতালেব হোসেন। তিনি বলেন, নিত্যপণ্যের দাম প্রতিদিন বাড়তে থাকায় এখন অনেক জিনিস কম কেনা হয়। আগে এক সাথে পাঁচ কেজি পেঁয়াজ কিনলেও আজ মাত্র দুই কেজি নিলাম। কি করব এ শহরে খেয়ে-পড়ে থাকাই যে এখন চ্যালেঞ্জ।
বাজারে দেশি ও আমদানিকৃত পেঁয়াজের দাম গেলো সপ্তাহে বৃদ্ধি পেয়েছে কেজি প্রতি ১০ থেকে ১৫ টাকা। বর্তমানে দেশি পেঁয়াজ প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা এবং আমদানিকৃত ভারতীয় পেয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা।
ভারতীয় রসুন প্রতি কেজি ২০০ থেকে ২১০ টাকা, দেশি রসুন ১২০-১৩০ টাকা, আমদানিকৃত চীনা আদা ১২০ টাকা, করলা আদা ১০০ টাকা দরে বিক্রি করছে। ব্র্যান্ড ভেদে ৫ লিটারের সয়াবিন তেলের বোতল ৫৩০ থেকে ৫৪০ টাকা, প্রতি লিটার ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হয়।
কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে সপ্তাহের ব্যবধানে অধিকাংশ কাঁচা পণ্যের প্রতি কেজি বাড়ানো হয়েছে ১০ থেকে ২০ টাকা। প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা দরে, যা গোল সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। শিম প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা, যা গোল সপ্তাহে ছিল ৮০ টাকা। চাল কুমড়া প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, যা গেলো সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। কচুর লতি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা, যা গেলো সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৫০ টাকা। পটল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, যা গেলো সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৪০ টাকা। ঢেঁড়স প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, যা গেল সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। ঝিঙ্গা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা, যা গেলো সপ্তাহে ছিল ৪০ টাকা। চিচিঙ্গা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, যা গেলো সপ্তাহে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। করলা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, যা গেলো সপ্তাহে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। কাকরোল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, যা গেলো সপ্তাহে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৪৫ টাকা, যা গেলো সপ্তাহে ছিল ৩০ থেকে ৩৫ টাকা। কচুরমুখী প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, যা গেলো সপ্তাহে ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। বরবটি প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা, যা গেলো সপ্তাহে ছিল ৫০ থেকে ৬০ টাকা।
এদিকে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৫০০ টাকা এবং খাসির মাংস ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৪০ টাকা, লেয়ার মুরগি ২২০ টাকা এবং পাকিস্তানি লাল মুরগি ২৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, মোটা স্বর্ণা চাল প্রতি কেজি ৪২-৪৩ টাকা, পারিজা চাল ৪২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মিনিকেট ৫২ থেকে ৫৫ টাকা, বিআর-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৪৮ টাকা, নাজিরশাইল ৫০ টাকা থেকে ৫২ টাকা, পাইজাম চাল ৪৮ টাকা, বাসমতি ৫৩ টাকা, কাটারিভোগ ৭২-৭৩ টাকা এবং পোলাও চাল (পুরাতন) ১০০ টাকা, (নতুন) ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি রুই মাছ ২০০-২৫০ টাকা, সরপুঁটি ২৫০-৩৫০ টাকা, কাতলা ২৫০-৪০০ টাকা, তেলাপিয়া ১২০-১৫০ টাকা, পাঙ্গাশ প্রতি কেজি ১২০-২০০ টাকা, টেংরা ৪০০ টাকা, মাগুর ৩০০-৫০০ টাকা দরে কেজি বিক্রি হচ্ছে।

Loading...