ফেসবুকে লাইক ইসলামের দৃষ্টিতে হারাম

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

মিসরের গ্র্যান্ড মুফতিরা শত শত বছর আগে থেকে ফতোয়া দিয়ে আসছেন। প্রাত্যহিক জীবনের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এ ফতোয়া দেন তারা।  সেই ধারাবাহিকতায় এবার দেশটির বর্তমান গ্র্যান্ড মুফতি শাওকি আলম সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার নিয়ে নতুন একটি ফতোয়া জারি করেছেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুসলমানরা কিভাবে কাজ করবেন সেই বিষয়ে তিনি ওই ফতোয়া দিয়েছেন। চলতি সপ্তাহে দেশটির গ্র্যান্ড মুফতি শাওকি আলম এক নির্দেশনায় বলেন, ‘ফলোয়ার বাড়ানোর লক্ষ্যে ফেসবুকে লাইক কেনা ‘অনৈতিক’ ও ‘প্রতারণা’র শামিল। এ ধরনের কাজ ইসলামে অবৈধ।’

মিসরের সুন্নি মুসলিমপন্থীদের প্রতিষ্ঠান ‘দার অাল আইফা’র ফেসবুক পেইজে তার ওই ফতোয়া প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির এ প্রতিষ্ঠান ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয়ে কোরআন এবং সুন্নত অনুযায়ী সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে।

তবে তিনি বলেন, কোনো অ্যাকাউন্ট, পণ্য অথবা ফেসবুক পেইজ প্রোমোট করার জন্য বাস্তবতার সঙ্গে মিল রয়েছে এমন আধেয়ের বুস্ট করা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ।

মিসরের এই মুফতি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মিথ্যা ‘লাইক’ অথবা ‘কমেন্ট’র মতো মিথস্ক্রিয়ার প্রোমোশন চালানো পরিষ্কারভাবে সততার লঙ্ঘন।

‘লাইক যদি মিথ্যা অথবা ইলেক্ট্রনিক উপায়ে তৈরি করা হয় এবং বাস্তবতার প্রতিফলন না থাকে তাহলে এটি অবৈধ বিবেচিত হবে। এটা এক ধরনের প্রতারণা।’

এ ধরনের কাজকে প্রতারণামূলক উল্লেখ করে জারিকৃত ফতোয়ার সমর্থনে হজরত মোহাম্মদ (সা.) এর একটি হাদিসের বরাত দেন মুফতি শাওকি আলম। তিনি বলেন, হজরত মোহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যে ছলনা করে সে আমাদের দলের নয়।’

তবে মানুষের জীবনে প্রযুক্তি যে প্রভাব ফেলছে সেটি নিয়ে এর আগেও ফতোয়া জারি করেছিলেন মিসরের এ মুফতি। চলতি বছরের শুরুর দিকে তিনি একটি ফতোয়া জারি করে বলেন, অনলাইন মুদ্রা বিটকয়েনের ক্রয়-বিক্রয় জুয়া খেলার শামিল এবং ইসলামের দৃষ্টিতে নিষিদ্ধ।

মানুষকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে দেয়ার জন্য এই ডিজিটাল মুদ্রা সরাসরি দায়ী বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ফেসবুক মন্তব্য
Share.