পূজা ও নির্বাচন ঘিরে বড় নাশকতার জন্য সংগঠিত হচ্ছিল জঙ্গিরা

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

নরসিংদীর দু’টি আস্তানার জঙ্গিরা দুর্গাপূজা ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বড় ধরনের নাশকতার জন্য সংগঠিত হচ্ছিল বলে জানিয়েছেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, তারা কোথায় হামলা চালাতে পারে সে বিষয়ে সঠিক তথ্য ছিল না। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি বাড়িয়ে জঙ্গি আস্তা দুইটির সন্ধান পাওয়া যায়।
মাদবদী গদাইরচর গাংপাড় এলাকায় কখন অভিযান চালানো হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানিয়েছি। রাতভর চেষ্টা করবো, যাতে তারা আত্মসমর্পণ করে। কারণ, আমরা কোনও হাতাহতের ঘটনা দেখতে চাই না। যদি তারা অত্মসমর্পণ না করে, তাহলে দিনের আলোতে সেখানে অভিযান চালানোর পরিকল্পনা আছে।
নরসিংদীর জঙ্গি আস্তানায় ‘অপারেশন গর্ডিয়ান নট’ নামে দুই জঙ্গি নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে শেখেরচরের ভগীরথপুর এলাকার অভিযান সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।
ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। জঙ্গিরা সেখানে চারটি বোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।
অভিযান শেষে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান ডিআইজি মনিরুল ইসলাম জানান, অভিযানে নিহতদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী। তারা নব্য জেএমবির সদস্য। প্রাথমিকভাবে তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। গত ৩ অক্টোবর এখানে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিল তারা। ছোট গদাইরচর গাংপাড় এলাকার জঙ্গিদের সঙ্গে এখানকার জঙ্গিদের যোগাযোগ রয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল ইসলাম বলেন, নিহতরা পুলিশের গুলিতে মারা গেছে, নাকি নিজেরা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মারা গেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, অপর জঙ্গি আস্তানা মাধবদী গাঙপাড় এলাকায়ও দিনের আলোতে অভিযান চালানো হবে। তাদেরকেও আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হবে। আত্মসমর্পণ না করলে আমরা অ্যাকশনে যাবো।
এদিকে জঙ্গি আস্তানার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকাবাসীর মধ্যে আতংক দেখা দেয়। জঙ্গি আস্তানার সন্ধান পাওয়ার পর মঙ্গলবার সকাল থেকে ঢাকা সিলেট মহাসড়কে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। রাস্তায় পুলিশের তৎপরতা ছিল উল্লেখযোগ্য। সকাল থেকেই জঙ্গি আস্তা দুইটির আশপাশের দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। আশপাশের বাসার অনেকে জিম্মি হয়ে পড়েন। যারা ভোরে বাসা থেকে বের হয়েছে তাদের অনেকে বাসায় প্রবেশ করতে পারছিলেন না।
সোমবার রাত ১০ টার পর থেকেই বাড়ি দুইটি ঘিরে রাখে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল (সিটিটিস) ইউনিটের সদস্যরা। ভোর ৬টার দিকে আস্তানা দুইটির আশপাশ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। সরিয়ে নেয়া হয় এলাকার বাসিন্দাদের। শেখেরচর ভগীরথপুর চেয়ারম্যান মার্কেটের পাশের বাড়িতে সকাল ১০টার পর অভিযান শুরু করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী। ওই বাড়ির মালিক বিল্লাল মিয়া। তিনি ড্রাইং ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত। ইভা টেক্সটাইল মিলের মালিক তিনি।
মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিক ঘটনাস্থলে আসেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। এর আগে রাতেই সেখানে আসেন পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন। জেলা পুলিশ, অ্যান্টি টেরোজিম ইউনিট, সিটিটিসির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট, সোয়াট এবং সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটসহ আইপ্রয়োগকারী সংস্থার অন্যান্য ইউনিটের সদস্যরা একে একে ঘটনাস্থলে আসেন।

ফেসবুক মন্তব্য
Share.