পুলিশ কত খারাপ !!

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

মুক্তমত ডেস্ক :: পুলিশের মত বেহায়া,বজ্জাত, হারামজাদা দুনিয়ায় দ্বিতীয়টি নেই। শালারা মানুষের বাচ্চা না। এইটা সিওর যে ওদের জন্মেরো ঠিক নাই। আমার চোখে দেখা বিশ্ব বেহায়া এই পুলিশ। কেন জানেন?

কারণ এদের জনগণের এত ঝাঁড়ু পেটা খেয়েও শিক্ষা হয় না। যেই পাবলিক এদের ঝাঁড়ু পেটা করে, সেই পাবলিকের জন্যই এরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ডিউটি করে নিজের সুন্দর চেহারাটারে কয়লা বানিয়ে ফেলে।

দিনভর যেই পাবলিক এদের গালি দিয়ে গুষ্টি উদ্ধার করে সেই পাবলিকেরা রাতে আরামে ঘুমানোর ব্যবস্থা করার জন্য নিজের রাতের ঘুম হারাম করে চোখের নিচে কালি ফেলায়।

এদের জন্মের ঠিক নাই। কেন জানেন? কারণ আমরা যারা জন্মের ঠিকানা নিয়ে বড় হয়েছি তাঁরা সবাই বাপ,মা,বউ,ভাই এর কদর বুঝি। কিন্তু পুলিশ গুলো এসব বুঝে না। ওরা মাকে আইসিইউতে রেখে দিব্যি রাস্তায় ডিউটি করে। ওরা বউকে রাতের পর রাত একলা ঘুমাতে বাধ্য করে অন্যদিকে জন্মের ঠিকওয়ালা মানুষদের রাতের রোমান্টিসিজমে পাহারা দেয়।

এরাতো কুত্তার চাইতেও খারাপ। রাস্তার কুত্তারে দুইটির বেশি তিনটি বাড়ি দিলে কাঁমড়ানোর জন্য তেড়ে আসে। আর এরা পাবলিকের কথার বাড়ি হজম করে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে থাকে “থাক! মানব সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছি” এই বলে নিজেকে স্বান্ত¡না দেয়।

এরাতো হারামজাদা, দুনিয়ার সব পেশার লোক ধর্মঘটের ডাক দেয়। কর্ম বিরতি দেয় কারণ ওরা হালাল টাকা কামায়। আর এরা হারামজাদা তাই এত-এত সুযোগের অভাব থাকা সত্ত্বেও এরা অধিকার আদায়ে ধর্মঘট করে না।

জানেন, এরা সম্পর্ক বুঝে না। অসামাজিক। বন্ধুদের আড্ডায় সব পেশার লোকেরা আসে শুধু এই অসামাজিক লোকগুলা ছোট্ট একটা এস.এম.এস দিয়ে বলে “ডিউটি আছে,পারছি না”। এরা অকৃতজ্ঞ।

অন্য সব বন্ধুরা যখন আড়ালে একে নিয়ে নোংরা কথা বলে আবার বিপদে ফোন করে বলে “দোস্ত, ফেঁসে গেছি” তখন এই অকৃতজ্ঞ পুলিশটা বলে “দেখছি”। এরা বড্ড বেরসিক। মাঝরাতে প্রেমিকার সাথে ফিসফিস করতে পারেনা, আলো নিভিয়ে গান শুনতে পারেনা, শখের বইগুলো স্তুপে স্তুপে ধুলো পড়ে যায় । এরা সেগুলো ছুয়ে দেখতে পারেনা। কেন পারেনা জানেন? এই বেহায়া বেলজ্জ গুলোর গুলোর শিক্ষা হয় না। এরা আমাদের মত হায়া সম্পন্ন লোকদের চর্মাঘাত করে বুঝিয়ে দেয় না। এরা কেন এত শ্রম দিচ্ছে?

সুশীল সমাজ বলে, “ওরা জেনেই এসেছে এই পেশায়”। আমি বলি, “ওদের মন আছে বলেই ওরা এসেছে। অন্যথায় আমাদের মত সভ্য (অসভ্য) জাতিকে অসভ্য (সভ্য) করার জন্য পুলিশ আমদানি করতে হতো”। “জেল খানায় শত নিরীহ লোক বন্দী,পুলিশ কত খারাপ!! রাঘববোয়ালরা কেন তবে নীরব।

পুলিশ চাইলে সব পারে। পুলিশই কি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বক্ষমতার অধিকারী? থানায় গেলে পুলিশি ভোগান্তি ! পাড়ার লোকতো পুলিশ না, সে আপনারে পুলিশের কাছে যেতে বাধ্য করে কেন? পুলিশ দুর্নীতি করে, সুযোগটা তৈরি করে দিচ্ছে কারা? পুলিশ ঘুষ খায়, আপনি ভালো থাকলে তো আর পুলিশকে ঘুষ সাধতে হয় না মশাই।

অপরাধ সৃষ্টি করে কারা? পুলিশ নাকি জনতা? আজকে পুলিশ রাত জেগে থাকে কেন? আপনি অপরাধ বন্ধ করে দেন ওদের রাতজাগা অর্থহীন হয়ে যাবে। পুলিশের চুন থেকে পান খসানোর আগে নিজেকে একবার জিজ্ঞাসা করুনতো “আপনি কারো ক্ষতির কারণ হয়েছেন কিনা?

দুনিয়ার সব অবৈধ টাকা পুলিশের পকেটে, একবার জরিপ করে দেখেছেন, কয়টা পুলিশের বাড়ি গাড়ি আছে? কোটি টাকা ব্যংক ব্যালেন্স আছে? উঁচুতলার সব বাড়ির মালিক বুঝি পুলিশ? ইউনিফর্ম হীন আপনি এক হাতে পকেটে টাকা ঢুকাতে গিয়ে অন্যহাতে হাতকড়া লাগাতে গেলে পুলিশ খারাপ।

ওই যে বাচ্চাটাকে লেখাপড়া করাচ্ছে পুলিশ, নাম নেই। আরো লক্ষ কোটি ভালো কাজ আছে পুলিশের কিন্তু নাম নেই।

আমি প্রণাম জানাই সেই সকল পুলিশদের যারা আজো নীরবে সয়ে যায় সকল অপমান। আমি আমার সুখের হাসির কারণ হিসেবে জানাই পুলিশদের আত্মত্যাগকে। আমি পুলিশের বেস্ট সাপোর্টার।

আমি আমার পরিবারকেও পুলিশের বেস্ট সাপোর্টার বানিয়েছি। কারণ, আমি অসভ্য সমাজের সভ্য অকৃতজ্ঞ নই। আমি মনে প্রাণে প্রার্থানা করি পরজন্মে যেনও ঈশ্বর আমাকে আবারো পুলিশ কিংবা পুলিশের স্বজন করে দেয়। আজকের এই পুলিশি কষ্টের পেইন্টিংটা যেন নোবেল পাওয়া আনন্দের রূপে আগামীতে আঁকতে পারি এই কামনা করি। পুলিশ পেশার জয় হোক।

লেখক: মোঃ হোসাইন শাজিন, উপ-পুলিশ পরিদর্শক (কর্ণফুলী থানা), চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ।

“এই লেখার বিষয়বস্তুর সাথে সময়ের কণ্ঠস্বরের সম্পাদকীয় নীতিমালার কোন সম্পর্ক নেই। এই লেখা লেখকের নিজস্ব মত। যদি কারো জীবনের সাথে এই লেখার কোন অংশ মিলে যায়, তবে তার দায়ভার  বিডি টাইপ বহন করবে না।”
ফেসবুক মন্তব্য
Share.