পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে : মিয়ানমার

রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের দায়ে সেনাবাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত অবরোধ আরোপ করলে মিয়ানমারের অপরিণত বেসামরিক সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সতর্ক করেছে দেশটির নেতা অং সান সু চির মুখপাত্র। শুক্রবার সু চির মুখপাত্র জ তাই বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা বলেছেন।

ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম এশিয়া সফরের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফেরার পর প্রত্যাহার করা মার্কিন অবরোধ নতুন করে আরোপের প্রস্তাব করেছেন। ও্ই প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার জন্য দায়ী সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারের সেনাকর্মকর্তাদের উপর সুনির্দিষ্ট অবেরাধ ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হবে এবং দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সু চির মুখপাত্র জ তাই বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘দেশের অর্থনীতির উন্নতির জন্য আমাদের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ভ্রমণ ও ব্যবসা বিনিয়োগের সঙ্গে জড়িতদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এছাড়া আরও অনেক খারাপ পরিণতি রয়েছে।’

তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৫ নভেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন মিয়ানমার সফর করবেন। ওই সময় তার কাছে রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের প্রচেষ্টার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘তিনি যখন এখানে আসবেন তখন আমরা কী করছি তার ব্যাখ্যা তাকে দেওয়া হবে। এটা করবেন না সেটা আমরা তাকে বলতে পারি না। আর আমরা জানি না মার্কিন নীতি কী।

গত বছর বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। কিন্তু দেশটির শাসন ব্যবস্থায় এখনো সেনাবাহিনীর প্রভাব ব্যাপক।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জ তাইয়ের দাবি বেসামরিক সরকারের এখনো সেনাবাহিনীর সঙ্গে অনেক কাজ করার রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার একা দেশের পুর্নগঠন করতে পারবে না। সেনাবাহিনীকে সংশ্লিষ্ট এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করতে হবে সে বিষয়টি পরিষ্কার। ২০০৮ সালের সংবিধানের আওতায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে তার আওতায় সব কিছু পরিচালিত করতে হবে।

সু চির এই মুখপাত্র বলেন, ‘অবরোধ ও চাপ সরকারের কাজে প্রভাব ফেলবে। আগের অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, তারা যদি অবরোধ আরোপ করে তাহলে এটি কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না।’

মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনা নির্যাতন-নিপীড়নের কারণে দেশটির সরকারকে কড়া জবাব দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। মিয়ানমারের ওপর মার্কিন অবরোধ আরোপের যে প্রস্তাব তাতে সমর্থন জুগিয়েছেন তাদের মধ্যে সিনেটে আর্মড সার্ভিস কমিটির চেয়ারম্যান জন ম্যাকেইন ও বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য সিনেটর বেন কার্ডিন অন্যতম।

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ‘ঝিনুকদহ ভাষা পরিষদের’ ঘোষিত তিন দিনের কর্মসূচী সফল ভাবে পালিত

» শুভ জন্মদিন- সাদিদুল ইসলাম (সাদিদ)

» কে এই সুন্দরী পুলিশ অফিসার

» চাকরি শুধু নগ্ন হয়ে বসে থাকা, বেতন জানলে চমকে যাবেন

» জামিনে এনে আসামিকে বিয়ে, আইনজীবীকেই হত্যা!

» চসিকের গৃহকর আপিল শুনানি ও অ্যাসেসমেন্ট স্থগিত

» ঝিনাইদহে ‌ঝিনুকদহ ভাষা পরিষদ-র অালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

» পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সন্ধান !

» গ্রাম থেকে আসা সেই মানশি এখন কোটি কোটি তরুণীর আদর্শ!

» সিএনজি অটোরিকশাও মিলবে অ্যাপে, ঘোষণা শিগগিরই

» মাগুরায় চলছে অবৈধ সিমের বাজার

» আয়ুর্বেদিক উপাদান হিসেবে নিম পাতার ব্যবহার

» চাঁদে ৫০ কিলোমিটার সুড়ঙ্গের হদিস মিলেছে

» আইফোন এক্সের ভেতরে যা রয়েছে ভিডিও সহ দেখুন

» নেকলেস পরার সঠিক কায়দা-কানুন

Design & Devaloped BY MyhostIT

,

পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে : মিয়ানমার

রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের দায়ে সেনাবাহিনীর ওপর যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত অবরোধ আরোপ করলে মিয়ানমারের অপরিণত বেসামরিক সরকার ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে সতর্ক করেছে দেশটির নেতা অং সান সু চির মুখপাত্র। শুক্রবার সু চির মুখপাত্র জ তাই বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ কথা বলেছেন।

ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম এশিয়া সফরের ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটররা মিয়ানমারে গণতন্ত্র ফেরার পর প্রত্যাহার করা মার্কিন অবরোধ নতুন করে আরোপের প্রস্তাব করেছেন। ও্ই প্রস্তাবে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার জন্য দায়ী সেনা সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত মিয়ানমারের সেনাকর্মকর্তাদের উপর সুনির্দিষ্ট অবেরাধ ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ হবে এবং দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বেশিরভাগ সামরিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

সু চির মুখপাত্র জ তাই বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, ‘দেশের অর্থনীতির উন্নতির জন্য আমাদের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা প্রয়োজন। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ভ্রমণ ও ব্যবসা বিনিয়োগের সঙ্গে জড়িতদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে। এছাড়া আরও অনেক খারাপ পরিণতি রয়েছে।’

তিনি জানিয়েছেন, আগামী ১৫ নভেম্বর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন মিয়ানমার সফর করবেন। ওই সময় তার কাছে রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের প্রচেষ্টার বিষয়টি ব্যাখ্যা করা হবে।

তিনি বলেন, ‘তিনি যখন এখানে আসবেন তখন আমরা কী করছি তার ব্যাখ্যা তাকে দেওয়া হবে। এটা করবেন না সেটা আমরা তাকে বলতে পারি না। আর আমরা জানি না মার্কিন নীতি কী।

গত বছর বেসামরিক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। কিন্তু দেশটির শাসন ব্যবস্থায় এখনো সেনাবাহিনীর প্রভাব ব্যাপক।

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জ তাইয়ের দাবি বেসামরিক সরকারের এখনো সেনাবাহিনীর সঙ্গে অনেক কাজ করার রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সরকার একা দেশের পুর্নগঠন করতে পারবে না। সেনাবাহিনীকে সংশ্লিষ্ট এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট করতে হবে সে বিষয়টি পরিষ্কার। ২০০৮ সালের সংবিধানের আওতায় সেনাবাহিনীর সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে তার আওতায় সব কিছু পরিচালিত করতে হবে।

সু চির এই মুখপাত্র বলেন, ‘অবরোধ ও চাপ সরকারের কাজে প্রভাব ফেলবে। আগের অভিজ্ঞতার আলোকে বলছি, তারা যদি অবরোধ আরোপ করে তাহলে এটি কোনো ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে না।’

মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমারের সেনা নির্যাতন-নিপীড়নের কারণে দেশটির সরকারকে কড়া জবাব দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। মিয়ানমারের ওপর মার্কিন অবরোধ আরোপের যে প্রস্তাব তাতে সমর্থন জুগিয়েছেন তাদের মধ্যে সিনেটে আর্মড সার্ভিস কমিটির চেয়ারম্যান জন ম্যাকেইন ও বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির সদস্য সিনেটর বেন কার্ডিন অন্যতম।

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



   

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতঃ ২০১৭ । বিডি টাইপ পত্রিকা আগামী প্রজন্মের মিডিয়া

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি