আন্তর্জাতিক

পছন্দের যৌনতা অথবা স্বাধীনতার অন্য নাম…

সকলেই বলেন ছেলেদের ছাড়া নাকি কোনওভাবেই মেয়েদের যৌনসুখ সম্পূর্ণ হয় না। এমনকী কিছু মেয়েও ঠিক এই কথাই ভাবেন। কিন্তু মেয়েরা নিজেরাই নিজেদের যৌনসুখ দিতে সক্ষম। আজ থেকে কয়েক বছর আগেও যখন ফিঙ্গারিং প্রসঙ্গ সামনে আসত তখন অভিভাবকেরা মেয়েদের সেখান থেকে বিরত রাখতেন। তাঁরা বোঝাতেন এরকম করা উচিত নয়। কিন্তু দিন বদলেছে। সমপ্রেমও এখন স্বীকৃত। তাই সমাজ কীভাবছে বা ভাববে সেই ভেবে মেয়েরা কাজ করেন না। নিজের জীবন নিজের মতো করে চালাতেই স্বচ্ছন্দ। যৌন কল্পচেতনা বা সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি সংক্রান্ত যাবতীয় ট্যাবু কাটাতে এবার উদ্যোগী হয়েছে এই পঞ্চকন্যা। মেয়েরা নিজেরাই নিজেদের যৌন আকাঙ্খা পূরণে সক্ষম- এই ট্যাগলাইনে সচেতনতার ক্যাম্প শুরু করেছেন তাঁরা। যার নাম দিয়েছেন ‘ওহ মাই হৃত্বিক’…

প্রিয় পাঠক আমাদের পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন

কী নিয়ে কথা বলছে এই নতুন প্ল্যাটফর্ম
১৯ বছরের এই পাঁচ কন্যে সুপর্ণা দত্ত, বৈশালী মানেক, কৃতি কুলশ্রেষ্ঠা, কেভিকা সিংলা, মানসী জৈন। মুম্বইতে ৬ মার্চ থেকে যাত্রা শুরু করেছে OMH। যেখানে তারা মেয়েদের আহ্বান করছে এই বিষয় নিয়ে কথা বলতে, এই বিষয় নিয়ে ব্লগ লিখতে। নির্ভয়ে নিজেদের অভিজ্ঞতা, ভাবনা এবং কীভাবে তারা নিজেরাই নিজেদের যৌনসুখ দেয় সেই কথা বিষদে লিখতে। বাড়িতে বা মানসিক অবসাদের সঙ্গেও কীভাবে তাঁরা লড়াই করে এসেছেন সেই কথাও বলার সুযোগ রয়েছে এখানে।

কেন ‘ওহ মাই হৃত্বিক’
সেক্সিয়েট পুরুষ হিসেবে মেয়েদের চোখে এখনও হৃত্বিক রোশনই ভাসেন। তাঁর সঙ্গে মেয়েরা নিজেদের যৌন সম্পর্ক নিয়ে অনেক কল্পনা করেন। যে কারণে তাঁরা গ্রুপের এই নামকরণ করেছেন। নেটফ্লিক্সের জনপ্রিয় সিরিজ ‘লাস্ট স্টোরিজ’ দেখার পরই তাদের এই ভাবনা মাথায় আসে। তাই ‘ওহ মাই গড’ না বলে বিতর্ক এড়াতে তাঁরা এই নাম বেছে নিয়েছেন। আর হৃত্বিককে তো তাঁর চেহারার জন্য গ্রীক গডের তকমাই পেয়েছেন।

পঞ্চকন্যা আরও জানান, আমরা দেখলাম মেয়েদের যৌনমুক্তির চিন্তা নিয়ে সমাজ এখনও সচেতন নয়। মেয়েরা মাস্টারবেশনের কথা বললে তা আজও খোলা মনে মেনে নেয় না কেউ। সেখান থেকেই আমাদের যাত্রা শুরু।

মেয়েদেরও নিজেদের যৌনতার কথা বলুক
সোশ্যাল মিডিয়ায় মেয়েরা যদি সমেহনের কথা বলে তাহলে তাদের ট্রোলড হয়ে হয়। তাই আমরা ঠিক করলাম মেয়েদেরই মেয়েদের সঙ্গে এই প্রসঙ্গে কথা বলা প্রয়োজন। আমরা এই প্রসঙ্গে রাধিকা আপ্তের সমর্থন পেয়েছি। স্বরা ভাস্করের সঙ্গে কথা হয়েছে। OMH পরবর্তীতে বই আকারে প্রকাশ পাবে, এমনই ভাবনা রয়েছে আমাদের। এভাবেই আমরা একটা কমিউনিটি তৈরি করব। সেখানে লেখাপত্র, আলোচনা, গ্রাফিক আর্ট সবই থাকবে।

আর হ্যাঁ, মাত্র কয়েকদিনেই আমরা প্রচুর ভালোবাসা পেয়েছি। তাদের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ। আমাদের পরিবারও আমাদের পাশে রয়েছে। জার্নি চলুক। সমাজের ঘুম ভাঙুক। আর আপনাদের সকলকে আমাদের পাশে চাই চাই। উৎসাহী হলে আমাদের সঙ্গে যোগ দিন।

প্রিয় পাঠক আপনার মতামত জানান

এ বিভাগের আরো খবর

Close