নয়ছয় অবস্থায় আন্তর্জাতিক কলে আয় বৃদ্ধির প্রস্তাব !

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

আন্তর্জাতিক কল ব্যবসা থেকে সরকারের আয় বাড়াতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কয়েকটি প্রস্তাবের বিষয়ে চার মাসেও কোনো অগ্রগতি হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতার কারণে আন্তর্জাতিক কল ব্যবসা থেকে গত দুই বছরে সরকারের ক্ষতি ২ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। আর সরকারসহ সব পক্ষকে বঞ্চিত করে এই খাত থেকে আন্তর্জাতিক গেটওয়ে (আইজিডব্লিউ) অপারেটরদের বাড়তি আয়ের পরিমাণ বেড়েই চলেছে।

আন্তর্জাতিক কল রেট নিয়ে একটি সিদ্ধান্তে আসার জন্য গত বছরের ডিসেম্বরে বিটিআরসিকে দায়িত্ব দেয় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এরপর বিটিআরসি একটি ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করে। এই কমিটিতে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, বিটিআরসি ছাড়াও অর্থ মন্ত্রণালয় ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতিনিধিও রাখা হয়। কমিটি আইজিডব্লিউ, মোবাইল ফোন অপারেটর, আইসিএক্সসহ (ইন্টার কানেকশন এক্সচেঞ্জ) সব পক্ষের মতামত নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ তৈরি করে।

বিটিআরসির সুপারিশের প্রথমেই ছিল কল ব্যবসা থেকে সরকারের আয়ের ভাগ ৪০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৪৩ শতাংশ করা। আরেকটি সুপারিশ ছিল বিদেশি কল আনার সর্বোচ্চ মূল্য ২ টাকা ৮০ পয়সা থেকে ১ টাকা ২৮ পয়সায় নামিয়ে আনা।

কল আনার সর্বনিম্ন মূল্য ১ টাকা ৬০ পয়সা থেকে কমিয়ে ১ টাকা ২০ পয়সা করার সুপারিশ করে বিটিআরসি। একই সঙ্গে সর্বনিম্ন মূল্যে, অর্থাৎ ১ টাকা ২০ পয়সা হিসেবে সরকারসহ সব পক্ষের সঙ্গে আয় ভাগাভাগির প্রস্তাব করা হয়। বর্তমানে আইজিডব্লিউ অপারেটররা ১ টাকা ৬০ পয়সা দরে বিদেশ থেকে কল আনলেও আয় ভাগাভাগি হচ্ছে ১ টাকা ২০ পয়সা দরে।

বর্তমানে বিদেশ থেকে আসা প্রতি এক মিনিট কল থেকে যে আয় হয়, তার ৪০ শতাংশ সরকার, ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ আইসিএক্স, ২২ দশমিক ৫ শতাংশ মুঠোফোন অপারেটর আর বাকি ২০ শতাংশ আইজিডব্লিউ কোম্পানিগুলো পেয়ে থাকে। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে সরকার ৪৩ শতাংশ, আইজিডব্লিউ অপারেটর ১৮ শতাংশ এবং মুঠোফোন অপারেটর পাবে ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। আইসিএক্স অপারেটরের আয়ের অনুপাত আগের মতোই থাকবে।

খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ২০১৫ সালের ২৪ জুন থেকে আন্তর্জাতিক কল ব্যবসা পরিচালনার দায়িত্ব আইওএফ (আইজিডব্লিউ অপারেটর ফোরাম) নামের বেসরকারি একটি ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার পর থেকে কলের সংখ্যা কমতে শুরু করে। আইওএফ গঠনের তিন মাস পর কলরেট ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১ টাকা ৬০ পয়সা করা হয়। কলরেট বাড়লেও তখন থেকেই বাড়তি আয় হওয়া ৪০ পয়সা পাচ্ছে শুধু আইজিডব্লিউ অপারেটররা।

জানতে চাইলে আইওএফের উপপ্রধান নির্বাহী খন্দকার মাজহারুল হক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে একটি আইজিডব্লিউর একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, এখন পর্যন্ত আইওএফ সব কাজ আইনের মধ্যে থেকে করেছে। অবৈধ ভিওআইপি ও অ্যাপভিত্তিক কলের কারণে আন্তর্জাতিক কলের সংখ্যা কমছে। অবৈধ ভিওআইপি ঠেকানোর দায়িত্ব বিটিআরসির। এ বিষয়ে যেকোনো সহযোগিতা আইওএফ করবে।

বিটিআরসির দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

মোবাইল ফোন অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশের (অ্যামটব) এক হিসাব অনুযায়ী, ২০১৫ সালের জুন থেকে ২০১৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত শুধু এই খাতে সরকারের সরাসরি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৬৩০ কোটি টাকা। আর কলের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং আয়ের ভাগ না পাওয়ায় আরও ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয়ের সুযোগ হারিয়েছে সরকার। চলতি বছরের আট মাসে সরকারের এই আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।

দেশে বর্তমানে মোট লাইসেন্সপ্রাপ্ত আইজিডব্লিউ রয়েছে ২৯টি। এর মধ্যে ২২টির কার্যক্রম বর্তমানে চালু আছে।

কল কমেছে ৪০ শতাংশ

বিটিআরসির হিসাব অনুযায়ী, এখন প্রতিদিন বৈধ পথে গড়ে সাড়ে ৬ কোটি মিনিট কল আসছে। ২০১৫ সালে প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি মিনিটের বেশি কল আসত। অর্থাৎ, দুই বছরে কল আসা কমেছে ৪০ শতাংশের বেশি।

ফেসবুক মন্তব্য
Share.