নোবিপ্রবি’র ছাত্রী হলে জুনিয়রদের মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে হযরত বিবি খাদিজা হলে এ ঘটনার অভিযোগ উঠে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অষ্টম এবং নবম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের হাতে একাদশ, দ্বাদশ এবং ত্রয়োদশ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এ নির্যাতনের শিকার হন। অভিযুক্তরা হলেন অষ্টম ব্যাচের জাকি, দোলন; নবম ব্যাচের বীণা, জাকিয়া, রিমা, সুইটিসহ আরও বেশ কয়েকজন।
ভিক্টিম ইংরেজি বিভাগের একাদশ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী জানান, ‘গতকাল কোনও কারণ ছাড়াই অষ্টম ব্যাচের দোলন আপু, জাকিয়া আপু, ৯ম ব্যাচের বীণা আপু, সুইটি আপুসহ কয়েকজন সিনয়ির আপু আমাদের ডাকেন। আমরা যাবার পরপরই তারা আমাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করেন এবং বিভিন্ন ছুতোয় আমাদের পরিবার থেকে কোনও প্রকার ভদ্রতা শেখানো হয়নি বলে রাগারাগী করেন। আমরা বারবার তাদের কাছে আমাদের কোনও প্রকার ভুল হয়ে থাকলে ক্ষমা চাইলেও তারা তিন থেকে চার ঘণ্টা আমাদের দাঁড় করিয়ে রাখেন।’
জানা গেছে, বিবি খাদিজা হলে একটি অনুষ্ঠানে কেক খাওয়ার সময় ধাক্কাধাক্কি হয়। এছাড়াও হল ক্যান্টিনসহ হলে সিনিয়র এবং জুনিয়রদের সঙ্গে বিভিন্ন মনমালিন্যের থেকেই এই ঘটনার সূত্রপাত বলে যানা যায়।
ফার্মেসি বিভাগের একাদশ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী বলেন, সিনিয়র জুনিয়র ভারসাম্য বজায় না রাখার অভিযোগে হলে বসবাসকারী অষ্টম ব্যাচের দোলন, নবম ব্যাচের বীণা, সুইটিসহ আরও বেশ কয়েকজন আপু হলে বসবাসকারী একাদশ ব্যাচ থেকে ত্রয়োদশ ব্যাচের মেয়েদের হলের রিডিং রুমে ডেকে নিয়ে তাদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে এবং তাদেরকে সালাম না দিয়ে হলে উঠা মেয়েদের হল থেকে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়।
তারা আরও জানায়, কোন ধরনের কারণ ছাড়াই আনুমানিক তিন ঘণ্টার মত তাদেরকে সবার সামনে লাঞ্চিত করা হয়। এরফলে পরবর্তী দিন পরীক্ষা থাকায় অনেকেরই স্বাভাবিক পড়ালেখা ব্যাহত হয়।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত বিবিএ নবম ব্যাচের বীণার কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, গতকাল যা হয়েছে তা শুধু সিনিয়র জুনিয়রের মাঝে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য করা হয়েছে। এর আগে আমরা কোনও ভুল করলে আমাদের সিনিয়র আপুরাও আমাদের ডেকে ঠিক অভিভাবকের মতই শাসন করে ভুল গুলো ধরিয়ে দিতেন। জুনিয়রদের অভিযোগ সম্পর্কে বলতে চাই তাদেরকে কোনরকম মানসিক নির্যাতনের জন্য নয় বরং বড়দের সম্মানের বিষয় তাদের সামনে তুলে ধরেছি।
আরেক অভিযুক্ত ইংরেজি অষ্টম ব্যাচের দোলন বলেন, গতকাল যে ঘটনা হয়েছে তা তেমন বলার মত কিছুই ঘটেনি। তার পরেও তারা যদি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর কোনও অভিযোগ দেয়, তবে আমি এ অভিযোগের জবাব দেবো।
তবে এ বিষয়ে বিবি খাদিজা ছাত্রী হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান ভূঞা জানান, ‘এ বিষয়ে এখনো তার কাছে কোনও অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ দেয়া হলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
Share.