নারায়ণগঞ্জে প্রতিবেশীর ঘরে শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

নারায়ণগঞ্জ শহরের জল্লারপাড় এলাকায় শিহাব উদ্দিন আলিফ নামে চার বছরের এক শিশুকে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার নিখোঁজের ছয় ঘন্টা পর বিকেল পাঁচটায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ এক যুবককে আটক করেছে।
নিহত আলিফ জল্লারপাড় আমহাট্টা এলাকার সৌদি প্রবাসী আলমগীরের ছেলে।
নিহত আলিফের স্বজনরা জানান, বৃহস্পতিবার বেলা এগারোটার দিকে বাড়ির সামনে উঠানে খেলা করছিল আলিফ। ওই সময় থেকেই সে নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা ও এলাকাবাসী মিলে আশেপাশের বাড়িঘর ও পাড়া মহল্লায় খোঁজাখুঁজি করলেও আলিফের কোনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিকেল পাঁচটার দিকে প্রতিবেশী আলী খোকনের বাড়ির নীচতলার ভাড়াটের তালাবদ্ধ রুম থেকে এলাকাবাসী বস্তাবন্দি অবস্থায় উদ্ধার করে আলিফের মরদেহ। এসময় আলিফের দুই হাত বাঁধা ও মুখে রুমাল গুঁজে দেয়া ছিল। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতেরও চিহ্ন রয়েছে।

এলাকাবাসী আরও জানান, গত এক মাস আগে সম্রাট ও শহীদ নামে দুই যুবক রাজমিস্ত্রীর পরিচয় দিয়ে আলমগীরের প্রতিবেশী আলী খোকনের বাড়ির নীচতলার একটি রুম ভাড়া নেয়। তাদের রুমের তালা ভেঙেই আলিফের মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ সম্রাটকে আটক করলেও শহীদ পলাতক রয়েছে এবং মামলা না করতে মোবাইল ফোনে নিহত আলিফের পরিবারের স্বজনদের নানাভাবে হুমকি প্রদান করছে।

এলাকাবাসী আরও জানান, চার ভাই-বোনের মধ্যে আলিফ ছিল সবার ছোট এবং এলাকাবসীর খুব আদরের। আলিফের বাবা আলমগীর সংসারের আয় রোজগারের জন্য গত পনের বছর যাবত সৌদি আরবে প্রবাস জীবন যাপন করছেন। প্রতি বছর দেশে আসেন। এবারের ঈদ উপলক্ষে গতকালই দেশে এসেছেন তিনি।
আলিফের বাবা আলমগীরের দাবি, আলী খোকনের দুই ভাড়াটে স্রমাট ও শহীদ নামের দুই যুবকই তার ছেলেকে হত্যা করেছে। যেহেতু তাদের ঘর থেকেই আলিফের বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছেলের হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এদিকে সদর মডেল থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আলিফের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। সেখানে ছেলের মরদেহ বুকে নিয়ে প্রায় উন্মাদের মতো হয়ে পড়েন বাবা আলমগীর। কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।

ছেলেকে কিছুতেই বুক ছাড়া করতে চাইছিলেন না। প্রায় এক ঘণ্টা কান্নাকাটির পর তিনি নিজেই ছেলের মরদেহ বুকে করে মর্গে নিয়ে দিয়ে আসেন।
নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় সম্রাট নামের এক যুবককে আটক করা হয়েছে। তবে তার রুমমেট ও সহকর্মী শহীদকে গ্রেপ্তার করতে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে।কারা কি কারণে এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তা তদন্তের পর জানা যাবে। এ ব্যাপারে তদন্তসহ মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।

ফেসবুক মন্তব্য
Share.