নরসিংদী-২ এমপি সাংসদ পোটন”এর মুখোশ উম্মোচন-পরাজিত শক্তির উত্তরাধীকার পোটন

বিডি টাইপ ডটকম:-যে ব্যক্তির বিষাক্ত ছোবলে দল আজ পরিনত হয়েছে পারিবারিক দখলদারিত্বে প্রানের ভয়ে ছিটকে পড়েছে অসংখ্য নেতাকর্মী।সেই ব্যক্তি নরসিংদী-২ পলাশ নির্বাচনী এলাকার সাংসদ জনাব কামরুল আশরাফ খাঁন পোটন।তিনি প্রথমে ছিলেন স্বতন্ত্র কিন্ত পরবর্তীতে তিনি হয়ে যান আওয়ামী লীগের সাংসদ।এই পোটন কেন অনুপ্রবেশকারী তার অতীত এবং বর্তমান তার স্বাক্ষ দেবে।
গত ১৭জুন সভানেত্রী গনভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের এক সভায়
বলেছিলেন “কাউকে নেতা বানানোর আগে তার পরিবারের খোঁজ নিন”।কিন্ত পোটনকে দলে অন্তর্ভুক্তির আগে কেউ তার পরিবারের খোঁজ নেয়নি।কেন নেয়নি তা লাখ টাকার প্রশ্ন।
পারিবারিক পরিচিতি:—
———————————–
© কামরুল আশরাফ খাঁন পোটনের বাবা তারা মিঞা ছিলেন আমরন মুসলিম
লীগের সদস্য।যতদিন বেচে ছিলেন ততদিন তিনি তার ইউনিয়নের মুসলিম লীগের দলীয় চেয়ারম্যান ছিলেন।

© মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা মিঞা ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য।স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন ছিলেন অন্তরালে।তারা মিঞার মৃত্যুর পর শুরু হয় কামরুল আশরাফ খাঁন পোটনের রাজত্ব।

পোটনের রাজত্বের সূচনা:–
———————————–

© পোটনের রাজনীতির হাতে খড়ি হয় জাতীয় পার্টী দিয়ে।প্রথমে তিনি তার বাবার ছেড়ে আসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হন জাতীয় পার্টীর থানার নেতার পরিচয়ে।পরবর্তীতে তিনি স্বৈরাচার এরশাদের আমল থেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে থাকেন অন্ধকার জগতের একজন শাহেনশা হিসেবে।পলাশ শিল্পাঞ্চলে কোন ব্যবসা শাহেনশার অনুমোদন ছাড়া হাতবদল হওয়ার কোন উপায় নেই।এই সাম্রজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি খুব তাড়াতাড়ি বুঝতে শুরু করলেন এই আধিপত্য অক্ষুন্ন রাখতে হলে জোড়ালো রাজনৈতিক সমর্থন ছাড়া সম্ভব নয়।তাই বড় ভাই ডা:দিলীপ আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়ায় গড়ে তোলেন রাজনীতির নুতন সমীকরণ।ডা:দিলীপ পলাশ থানার আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ২০০৮ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সাংসদ ছিলেন।ডা:দিলীপ ছিলেন পলাশে আওয়ামী লীগের প্রথম বিজিত সাংসদ।এর পিছনের কারনটা খুব ষ্পস্ট। সে সময় আওয়ামী লীগ ছিল ঐক্যবদ্ধ।দীর্ঘ দিনের ঘাত প্রতিঘাতে কর্মীদের মনের মধ্যে যে প্রত্যয়ের সৃষ্টি হয়েছিল তারই ফলশ্রুতি ছিল ডা:দিলীপের বিজয়।কিন্ত দুর্ভাগ্য সেই কষ্টার্জিত বিজয়কে ডা:দিলীপ ধরে রাখতে পারেনি। কানাগলিতে হারিয়ে যায় সেই বিজয় রথ।যার সুযোগ নিয়েছে তারই বড় ভাই পোটন।এটা ছিল একটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।ফলশ্রুতিতে ২০১৪নির্বাচনে ডা:দিলীপ মনোনয়ন পায়নি।জোটের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পায় জাসদ।আর পোটন ত্রিধা বিভক্ত রাজনীতির ধাবা খেলায় নিজেকে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে জয়লাভ করে সাংসদ হন।এই নির্বাচনে সভানেত্রীর নির্দেশ ছিল জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার।যারা দলের নির্দেশকে শিরোধার্য মনে করে নৌকার পক্ষে কাজ করেছিল তাদের মধ্যে দ্বিতীয় কোন নেতা বা কর্মী নেই যারা বর্তমানে থানা সংগঠনে সম্পৃক্ত।সবাইকে তাড়িয়ে বর্তমানে পলাশ থানার সর্বস্তরের সংগঠন নিরংকুশ হয়ে গিয়েছে পোটনদের একচেটিয়া দখলদারিত্বে।এবার পোটন আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

ডা:আনোয়ারুল আশরাফ খাঁন দিলীপ ২০১৪ নির্বাচনে দলের নির্দেশ অমান্য করে নৌকার নির্বাচন করেনি।এর পিছনে ছিল সুগভীর চক্রান্ত।ভাইকে জিতিয়ে এনে দলে নিরংকুশ আধিপত্য বিস্তারই ছিল মূল উদ্দ্যেশ্য।দিলীপ এবার দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী কিন্ত অতীতে দল বিরোধী কার্য্যকলাপের জন্য যে তার মনোনয়ন বাধাগ্রস্থ্য হতে পারে তা একবারের জন্যও চিন্তা করেনি। দলের হুইপ অমান্য করে যারা দল বিরোধী কার্য্যকলাপে জড়িত ছিল তাদের প্রতি যে দলের সর্বোচ্চ বিষয় নির্ধারনী কমিটি সজাগ সে বিষয়ে কারো ভ্রুক্ষেপই নেই।এই পর্য্যায়ে পোটন দলে যাতে কেউ তাদের বিরোধীতা করতে না পারে তারজন্য স্থানীয় ভাবে দলে তাদের বিরোধী সব নেতা কর্মীদের বিতাড়ন করে একটি সুবিধাবাদী বলয় সৃষ্টি করেছে।একদিন যারা হেটে চলেছে তারা এখন এয়ারকন্ডিশন গাড়িতে চড়ে যাদের কাজ ছিল তাঁবেদারি তারা এখন কোটি টাকার মালিক।উচ্ছেদ নির্যাতন এমন পর্য্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে যারা দূর্দিনে জেল ঝুলুম হুলিয়াকে উপেক্ষা করে দল করেছে তাদের মধ্যে কারো দলে কোন অস্তিত্ব নেই।প্রতিবাদ করলেই মিথ্যা মামলা শারীরিক ভাবে নির্যাতন বাড়ি ছাড়া হুমকি এমন পর্য্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে দল বলতে এক সময় যারা বিএনপি জাতীয় পার্টীর অত্যাচারী ছিল তারাই এখন দলের কাণ্ডারি।

© বিএনপির আমলে যারা জীবনের ঝুকি নিয়ে জেলজুলুম হুলিয়াকে উপেক্ষা করে জীবন বাজী রেখে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে তারা আজ ব্রাত্য।বিএনপির আমলে যাদের বিরুদ্ধে মামলা ছিল তাদের মধ্যে এখন প্রায় কেউ দলে নেই।

© দলে পোটনই শেষ কথা।দলে নিরংকুশ প্রাধান্য বিস্তার করার পিছনে দলের উর্ধতন একটি লবিকে পোটন কিনে নিয়েছে।দলে যারা তার অনুগত তারা সবাই উচ্ছিষ্ট ভোগী সাধারণ কর্মীদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই।চাকচিক্য টাকার খেলায় এলাকায় সাধারন মানুষ দিশেহারা।এলাকায় যারা ছিল খুনি অত্যাচারী তারা এখন পোটনের সার্বক্ষণিক কর্মী।একটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে পোটন এখন বেতাল বাদশা।নিজের জম্নদিন পালন করেন কলকাতার লাস্যময়ী নায়িকা ঋতুপর্না এবং বোম্বের চাঙ্কিপান্ডে কে নিয়ে এসে কোটি টাকা খরচা করে।

পলাশ থানা প্রতিষ্ঠার পর দলকে তৃনমূল পর্য্যায় থেকে টেনে তুলে
যিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন জনগনের মনিকোঠায় মরহুম হাসান ভাইকেও পোটন ছাড় দেয়নি।তার ছেলে রনিকে মিথ্যা মামলায় জেল খাটতে হয়েছে।পোটনরা একবারও ভাবেনি হাসান ভাইয়ের উত্তরসুরী রনিকে অপদস্ত করা মানে দলকে অপদস্ত করা।দলের নিপীড়িত কর্মিদের ন্যায় হাসান ভাইয়ের পরিবারের
প্রতি ওযে সভানেত্রী সমান খেয়াল রাখেন।
তাই খুব বেশী দিন রনিকে আটকে রাখতে পারেনি।প্রানের ভয়ে দলের সাধারন কর্মীদের পলায়নপর অবস্থা।মুখ খোলার
কোন পরিস্থিতি নেই দম বন্ধ অবস্থা।এমতবস্থায় দলে সুস্থিতি এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে নেত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নইলে আগামী নির্বাচনে এখান থেকে কোন ফল আশা করা দুরাশা।

দলীয় পদ কিভাবে নিজের পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিলিবন্টন করে পোটন নিজেকে নিরাপদ মনে করছে তার নজির নিম্নে দেয়া হল:–
——————————————

১) কামরুল আশরাফ খান পোটন -(সিনিয়র সহ-সভাপতি)
২)ডা:দিলীপ (সভাপতি)>বড় ভাই।
৩)তুষার(সম্পাদক থানা যুবলীগ)>ভাগনে।
৪)থানা ছাত্রলীগ (সম্পাদক)>আত্মীয় পাচদোনা।
৫)আহবায়ক থানা মহিলা লীগ>ডা:দিলীপের স্ত্রী।
৬)ঘোড়াশাল পৌরসভা (আ:লীগ সভাপতি)ডা:দিলীপের পরম আত্মীয়।
৭) ঘোড়াশাল পৌরসভা :যুবলীগ
সভাপতি >আত্মীয়।
৮)পোটনের নিজের ইউনিয়নের সভাপতি /সম্পাদক >আত্মীয়।
এছাড়া প্রতি ইউনিয়নে তার নিজস্ব লোক দায়িত্বে।।
এখন কামরুল আশরাফ খান পোটনের মদতদাতা কে।এই নিয়ে অনেক কথা বাজারে আছে। তবে কেউ না কেউ যে এর পিছনে ইন্দনদাতা রয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই।আমরা চাই সে যেই হোক তার অক্টোপাস থেকে দলকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে সাধারণ নেতা কর্মীদের হাতে নেতৃত্ব ফিরিয়ে দেয়া হোক।দল কারো সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব নেয় নি।পোটনের টাকার পাহাড়াদার দল হতে পারে না।তাই দলের সাধারন নেতা কর্মীরা এই স্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির অবসান চায়।নইলে এই অপরিনামদর্শীতার ফল দলকেই ভোগ করতে হবে।
।। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।।
নারায়ন দেবনাথ(সাবেক সাধারন সম্পাদক-পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগ-
ফেসবুক প্রফাইল থেকে নেয়া-

Facebook Comments

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ‘ঝিনুকদহ ভাষা পরিষদের’ ঘোষিত তিন দিনের কর্মসূচী সফল ভাবে পালিত

» শুভ জন্মদিন- সাদিদুল ইসলাম (সাদিদ)

» কে এই সুন্দরী পুলিশ অফিসার

» চাকরি শুধু নগ্ন হয়ে বসে থাকা, বেতন জানলে চমকে যাবেন

» জামিনে এনে আসামিকে বিয়ে, আইনজীবীকেই হত্যা!

» চসিকের গৃহকর আপিল শুনানি ও অ্যাসেসমেন্ট স্থগিত

» ঝিনাইদহে ‌ঝিনুকদহ ভাষা পরিষদ-র অালোচনা সভা অনুষ্ঠিত

» পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সন্ধান !

» গ্রাম থেকে আসা সেই মানশি এখন কোটি কোটি তরুণীর আদর্শ!

» সিএনজি অটোরিকশাও মিলবে অ্যাপে, ঘোষণা শিগগিরই

» মাগুরায় চলছে অবৈধ সিমের বাজার

» আয়ুর্বেদিক উপাদান হিসেবে নিম পাতার ব্যবহার

» চাঁদে ৫০ কিলোমিটার সুড়ঙ্গের হদিস মিলেছে

» আইফোন এক্সের ভেতরে যা রয়েছে ভিডিও সহ দেখুন

» নেকলেস পরার সঠিক কায়দা-কানুন

Design & Devaloped BY MyhostIT

,

নরসিংদী-২ এমপি সাংসদ পোটন”এর মুখোশ উম্মোচন-পরাজিত শক্তির উত্তরাধীকার পোটন

বিডি টাইপ ডটকম:-যে ব্যক্তির বিষাক্ত ছোবলে দল আজ পরিনত হয়েছে পারিবারিক দখলদারিত্বে প্রানের ভয়ে ছিটকে পড়েছে অসংখ্য নেতাকর্মী।সেই ব্যক্তি নরসিংদী-২ পলাশ নির্বাচনী এলাকার সাংসদ জনাব কামরুল আশরাফ খাঁন পোটন।তিনি প্রথমে ছিলেন স্বতন্ত্র কিন্ত পরবর্তীতে তিনি হয়ে যান আওয়ামী লীগের সাংসদ।এই পোটন কেন অনুপ্রবেশকারী তার অতীত এবং বর্তমান তার স্বাক্ষ দেবে।
গত ১৭জুন সভানেত্রী গনভবনে দলীয় নেতাকর্মীদের এক সভায়
বলেছিলেন “কাউকে নেতা বানানোর আগে তার পরিবারের খোঁজ নিন”।কিন্ত পোটনকে দলে অন্তর্ভুক্তির আগে কেউ তার পরিবারের খোঁজ নেয়নি।কেন নেয়নি তা লাখ টাকার প্রশ্ন।
পারিবারিক পরিচিতি:—
———————————–
© কামরুল আশরাফ খাঁন পোটনের বাবা তারা মিঞা ছিলেন আমরন মুসলিম
লীগের সদস্য।যতদিন বেচে ছিলেন ততদিন তিনি তার ইউনিয়নের মুসলিম লীগের দলীয় চেয়ারম্যান ছিলেন।

© মুক্তিযুদ্ধের সময় তারা মিঞা ছিলেন শান্তি কমিটির সদস্য।স্বাধীনতার পর দীর্ঘদিন ছিলেন অন্তরালে।তারা মিঞার মৃত্যুর পর শুরু হয় কামরুল আশরাফ খাঁন পোটনের রাজত্ব।

পোটনের রাজত্বের সূচনা:–
———————————–

© পোটনের রাজনীতির হাতে খড়ি হয় জাতীয় পার্টী দিয়ে।প্রথমে তিনি তার বাবার ছেড়ে আসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হন জাতীয় পার্টীর থানার নেতার পরিচয়ে।পরবর্তীতে তিনি স্বৈরাচার এরশাদের আমল থেকে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে থাকেন অন্ধকার জগতের একজন শাহেনশা হিসেবে।পলাশ শিল্পাঞ্চলে কোন ব্যবসা শাহেনশার অনুমোদন ছাড়া হাতবদল হওয়ার কোন উপায় নেই।এই সাম্রজ্যের একচ্ছত্র অধিপতি খুব তাড়াতাড়ি বুঝতে শুরু করলেন এই আধিপত্য অক্ষুন্ন রাখতে হলে জোড়ালো রাজনৈতিক সমর্থন ছাড়া সম্ভব নয়।তাই বড় ভাই ডা:দিলীপ আওয়ামী লীগ নেতার ছত্রছায়ায় গড়ে তোলেন রাজনীতির নুতন সমীকরণ।ডা:দিলীপ পলাশ থানার আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং ২০০৮ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সাংসদ ছিলেন।ডা:দিলীপ ছিলেন পলাশে আওয়ামী লীগের প্রথম বিজিত সাংসদ।এর পিছনের কারনটা খুব ষ্পস্ট। সে সময় আওয়ামী লীগ ছিল ঐক্যবদ্ধ।দীর্ঘ দিনের ঘাত প্রতিঘাতে কর্মীদের মনের মধ্যে যে প্রত্যয়ের সৃষ্টি হয়েছিল তারই ফলশ্রুতি ছিল ডা:দিলীপের বিজয়।কিন্ত দুর্ভাগ্য সেই কষ্টার্জিত বিজয়কে ডা:দিলীপ ধরে রাখতে পারেনি। কানাগলিতে হারিয়ে যায় সেই বিজয় রথ।যার সুযোগ নিয়েছে তারই বড় ভাই পোটন।এটা ছিল একটা পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।ফলশ্রুতিতে ২০১৪নির্বাচনে ডা:দিলীপ মনোনয়ন পায়নি।জোটের প্রার্থী হিসাবে মনোনয়ন পায় জাসদ।আর পোটন ত্রিধা বিভক্ত রাজনীতির ধাবা খেলায় নিজেকে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে জয়লাভ করে সাংসদ হন।এই নির্বাচনে সভানেত্রীর নির্দেশ ছিল জোটের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার।যারা দলের নির্দেশকে শিরোধার্য মনে করে নৌকার পক্ষে কাজ করেছিল তাদের মধ্যে দ্বিতীয় কোন নেতা বা কর্মী নেই যারা বর্তমানে থানা সংগঠনে সম্পৃক্ত।সবাইকে তাড়িয়ে বর্তমানে পলাশ থানার সর্বস্তরের সংগঠন নিরংকুশ হয়ে গিয়েছে পোটনদের একচেটিয়া দখলদারিত্বে।এবার পোটন আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

ডা:আনোয়ারুল আশরাফ খাঁন দিলীপ ২০১৪ নির্বাচনে দলের নির্দেশ অমান্য করে নৌকার নির্বাচন করেনি।এর পিছনে ছিল সুগভীর চক্রান্ত।ভাইকে জিতিয়ে এনে দলে নিরংকুশ আধিপত্য বিস্তারই ছিল মূল উদ্দ্যেশ্য।দিলীপ এবার দলের মনোনয়ন প্রত্যাশী কিন্ত অতীতে দল বিরোধী কার্য্যকলাপের জন্য যে তার মনোনয়ন বাধাগ্রস্থ্য হতে পারে তা একবারের জন্যও চিন্তা করেনি। দলের হুইপ অমান্য করে যারা দল বিরোধী কার্য্যকলাপে জড়িত ছিল তাদের প্রতি যে দলের সর্বোচ্চ বিষয় নির্ধারনী কমিটি সজাগ সে বিষয়ে কারো ভ্রুক্ষেপই নেই।এই পর্য্যায়ে পোটন দলে যাতে কেউ তাদের বিরোধীতা করতে না পারে তারজন্য স্থানীয় ভাবে দলে তাদের বিরোধী সব নেতা কর্মীদের বিতাড়ন করে একটি সুবিধাবাদী বলয় সৃষ্টি করেছে।একদিন যারা হেটে চলেছে তারা এখন এয়ারকন্ডিশন গাড়িতে চড়ে যাদের কাজ ছিল তাঁবেদারি তারা এখন কোটি টাকার মালিক।উচ্ছেদ নির্যাতন এমন পর্য্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে যারা দূর্দিনে জেল ঝুলুম হুলিয়াকে উপেক্ষা করে দল করেছে তাদের মধ্যে কারো দলে কোন অস্তিত্ব নেই।প্রতিবাদ করলেই মিথ্যা মামলা শারীরিক ভাবে নির্যাতন বাড়ি ছাড়া হুমকি এমন পর্য্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে দল বলতে এক সময় যারা বিএনপি জাতীয় পার্টীর অত্যাচারী ছিল তারাই এখন দলের কাণ্ডারি।

© বিএনপির আমলে যারা জীবনের ঝুকি নিয়ে জেলজুলুম হুলিয়াকে উপেক্ষা করে জীবন বাজী রেখে দলকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছে তারা আজ ব্রাত্য।বিএনপির আমলে যাদের বিরুদ্ধে মামলা ছিল তাদের মধ্যে এখন প্রায় কেউ দলে নেই।

© দলে পোটনই শেষ কথা।দলে নিরংকুশ প্রাধান্য বিস্তার করার পিছনে দলের উর্ধতন একটি লবিকে পোটন কিনে নিয়েছে।দলে যারা তার অনুগত তারা সবাই উচ্ছিষ্ট ভোগী সাধারণ কর্মীদের সাথে কোন সম্পর্ক নেই।চাকচিক্য টাকার খেলায় এলাকায় সাধারন মানুষ দিশেহারা।এলাকায় যারা ছিল খুনি অত্যাচারী তারা এখন পোটনের সার্বক্ষণিক কর্মী।একটা ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে পোটন এখন বেতাল বাদশা।নিজের জম্নদিন পালন করেন কলকাতার লাস্যময়ী নায়িকা ঋতুপর্না এবং বোম্বের চাঙ্কিপান্ডে কে নিয়ে এসে কোটি টাকা খরচা করে।

পলাশ থানা প্রতিষ্ঠার পর দলকে তৃনমূল পর্য্যায় থেকে টেনে তুলে
যিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন জনগনের মনিকোঠায় মরহুম হাসান ভাইকেও পোটন ছাড় দেয়নি।তার ছেলে রনিকে মিথ্যা মামলায় জেল খাটতে হয়েছে।পোটনরা একবারও ভাবেনি হাসান ভাইয়ের উত্তরসুরী রনিকে অপদস্ত করা মানে দলকে অপদস্ত করা।দলের নিপীড়িত কর্মিদের ন্যায় হাসান ভাইয়ের পরিবারের
প্রতি ওযে সভানেত্রী সমান খেয়াল রাখেন।
তাই খুব বেশী দিন রনিকে আটকে রাখতে পারেনি।প্রানের ভয়ে দলের সাধারন কর্মীদের পলায়নপর অবস্থা।মুখ খোলার
কোন পরিস্থিতি নেই দম বন্ধ অবস্থা।এমতবস্থায় দলে সুস্থিতি এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে নেত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন নইলে আগামী নির্বাচনে এখান থেকে কোন ফল আশা করা দুরাশা।

দলীয় পদ কিভাবে নিজের পরিবার এবং আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিলিবন্টন করে পোটন নিজেকে নিরাপদ মনে করছে তার নজির নিম্নে দেয়া হল:–
——————————————

১) কামরুল আশরাফ খান পোটন -(সিনিয়র সহ-সভাপতি)
২)ডা:দিলীপ (সভাপতি)>বড় ভাই।
৩)তুষার(সম্পাদক থানা যুবলীগ)>ভাগনে।
৪)থানা ছাত্রলীগ (সম্পাদক)>আত্মীয় পাচদোনা।
৫)আহবায়ক থানা মহিলা লীগ>ডা:দিলীপের স্ত্রী।
৬)ঘোড়াশাল পৌরসভা (আ:লীগ সভাপতি)ডা:দিলীপের পরম আত্মীয়।
৭) ঘোড়াশাল পৌরসভা :যুবলীগ
সভাপতি >আত্মীয়।
৮)পোটনের নিজের ইউনিয়নের সভাপতি /সম্পাদক >আত্মীয়।
এছাড়া প্রতি ইউনিয়নে তার নিজস্ব লোক দায়িত্বে।।
এখন কামরুল আশরাফ খান পোটনের মদতদাতা কে।এই নিয়ে অনেক কথা বাজারে আছে। তবে কেউ না কেউ যে এর পিছনে ইন্দনদাতা রয়েছে এতে কোন সন্দেহ নেই।আমরা চাই সে যেই হোক তার অক্টোপাস থেকে দলকে ফিরিয়ে নিয়ে এসে সাধারণ নেতা কর্মীদের হাতে নেতৃত্ব ফিরিয়ে দেয়া হোক।দল কারো সাম্রাজ্য রক্ষার দায়িত্ব নেয় নি।পোটনের টাকার পাহাড়াদার দল হতে পারে না।তাই দলের সাধারন নেতা কর্মীরা এই স্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির অবসান চায়।নইলে এই অপরিনামদর্শীতার ফল দলকেই ভোগ করতে হবে।
।। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু।।
নারায়ন দেবনাথ(সাবেক সাধারন সম্পাদক-পলাশ উপজেলা আওয়ামী লীগ-
ফেসবুক প্রফাইল থেকে নেয়া-

Facebook Comments

সর্বশেষ আপডেট



এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



   

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতঃ ২০১৭ । বিডি টাইপ পত্রিকা আগামী প্রজন্মের মিডিয়া

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি