দৃষ্টি আকর্ষণ

ধর্ষক চিনবেন যেভাবে

অধিকাংশ মেয়েরাই ছোট বেলায় কাপড় পরিধানের পর শরীরের অপ্রয়োজনীয় অংশ দেখা গেলে তাদের মায়েদের দ্বারা তিরস্কারের স্বীকার হতেন। প্রায় সময়ই মায়েরা এই বিষয়ে আপত্তি করতেন এবং এভাবে কাপড় পড়তে বাধা দিতেন। তারা বলতেন শরীরের অতিরিক্ত অংশ দেখা গেলে তা বিপদ ডেকে আনবে। শুধু তাই নয়, তারা অপরিচিত কোনো মানুষ সম্পর্কে সব সময় সতর্ক থাকার কথা বলতেন। কিন্তু যখন ওই মেয়েটিই কোনো আপত্তিকর পরিস্থিতিতে পড়েন বা ধর্ষিত হন তখন কি তাকে দোষারোপ করা যাবে?

একজন ধর্ষকের বৈশিষ্ট্য কি? সে কি মানুষিক রোগী কিংবা অসামাজিক? সে কি সরাসরি কোনো মহিলাকে উত্ত্যক্ত করে। অভিজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে তারা সমাজে ভালো হিসেবে থাকে কিন্তু চরম আকারের অভদ্র লোক। একজন মানুষ ধর্ষক কি না সেটা কি জানার কোনো উপায় আছে? কোথাও আপনার পাশে দাড়িয়ে থাকা ব্যক্তিটি, হাউজিং সোসাইটির গার্ড অথবা অফিসে যে আপনার সঙ্গে বন্ধুর মতো আচরণ করে সে কি ধর্ষক?

এ প্রসঙ্গে ইন্টারনাল মেডিসিন রেসিডেন্সি’র সহযোগী প্রোগ্রাম পরিচালক ডা. শুভেন্দু সেন জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ধর্ষকরা অসামাজিক হয়ে থাকে। শিশু নির্যাতনকারী ও ধর্ষকরা বিকৃত মস্তিষ্কের এবং মানুষিক রোগী। ধর্ষকদের এই ধরনের মনোবৃত্তি ছোটকাল থেকেই গড়ে ওঠে। ধর্ষকদের এই ধরনের মনোবৃত্তি পরিবর্তনের জন্য ওষুধ, আচরণ পরিবর্তনের জন্য পরামর্শ, সামাজিক সহযোগিতা দরকার।

এক গবেষণায় দেখা যায়, ধর্ষকরা অনেক সময় অতিরিক্ত আগ্রাসী হয়। তাদের মনোভাব শত্রুতাপূর্ণ এবং অনেক সময় তাদের আচরণ খুব খারাপ হয়ে থাকে। অন্য আরেক গবেষণায় দেখা যায়, ধর্ষকরা অনেক সময় নিঃসঙ্গ থাকে এবং এই নিঃসঙ্গতা তাদেরকে ধর্ষণের মত নিষ্ঠুর কার্যক্রমে তাড়িত করে।

ধর্ষণ সম্পর্কে একটি প্রবাদ প্রচলিত যে, ধর্ষকরা সাধারণত স্বৈরাচারী ও কর্তৃত্বপূর্ণ মনোভাব সম্পন্ন হয়। তারা সচরাচর মহিলাদের মারধর করে এক ধরনের বিনোদন পায়। পলিনিক মেরিন লাইন হাসপাতালের মানুষিক চিকিৎসক ডা. রোকন বকদাওয়ালা বলেন, সভ্যতার শুরু থেকে নারীরা পুরুষের হাতে নির্যাতিত হয়ে আসছে। অনেকেই এটা বিশ্বাস করতে চান না এবং অনেকে মনে করেন এটা তাদের জন্মগত অধিকার।

মানুষিক রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জাইয়িনের মতে, একজন সম্ভাব্য ধর্ষকের নিচের বৈশিষ্ট্যগুলো বিদ্যমান :

১. ধর্ষক আবেগতাড়িত ও খুব রগচটা হবে।

২. শারীরিকভাবে ও কথা দ্বারা মানুষকে কষ্ট দিবে।

৩. মেয়ে বন্ধু ও অন্য মেয়েদের স্পর্শ করে আনন্দ পাবে।

৪. ছোটবেলা থেকেই উত্তক্তকারী মানুষিকতা সম্পন্ন হবে।

৫. অন্যদেরকে হুমকি দেওয়ার মানুষিকতা থাকবে।

৬. সন্দেহপ্রবণ এবং একটু ভীতু ধরনের হবে।

৭. নিজেকে উত্তেজিত করার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করবে।

৮. নৈতিকভাবে নিচু মানুষিকতা সম্পন্ন হবে।

৯. ছোটবেলা থেকেই মিথ্যাবাদী ও অনেকটা চোরা স্বভাবের হবে যা তাকে পরবর্তীতে অসামাজিক কাজকর্মে লিপ্ত করবে।

১০. ছোটবেলা থেকেই বিপরীত লিঙ্গের প্রতি তীব্র আকর্ষণ থাকবে।

এ বিভাগের আরো খবর

Close