বাংলাদেশ

থেমে গেছে আনিসুল হকের উন্নত ঢাকার ‘১২ উদ্দ্যোগ’

মেয়র আনিসুল হকের মৃত্যুর পরে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১২টি বড় উদ্যোগ থেমে আছে। জনদুর্ভোগ কমাতে চার হাজার বাস নামানো, ইউটার্ন নির্মাণ, ঢাকাকে সবুজ করার মতো ওই প্রকল্পগুলো তিনি হাতে নিয়েছিলেন। নগরবিদ ও ডিএনসিসির কর্মকর্তারা বলছেন, আনিসুল হক নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে এ শহরের জন্য জরুরি কিছু উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তার উদ্যোগগুলোতে সবার সমর্থনও ছিল। আনিসুল হক অসুস্থ হওয়ার পর থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সব কাজ একটু ঝিমিয়ে পড়েছে। তার উদ্যোগগুলো চালিয়ে নেওয়ার মতো উদ্যমী নেতৃত্ব এখন অনুপস্থিত।

নগর পরিকল্পনাবিদ মোবাশ্বের হোসেনের মতে, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের নেওয়া উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা না হলে নগরবাসী বঞ্চিত হবেন। ঢাকা শহরে আনিসুল হকের মতো শক্তিশালী নেতৃত্ব দরকার। যারা বর্তমানে দায়িত্বে আছেন তারা চাইলে উদ্যোগগুলো বাস্তবে রূপ দিতে পারেন।

আর ডিএনসিসির প্যানেল মেয়র ওসমান গণি বলেন, আমরা আনিসুল হকের নেওয়া পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাচ্ছি। কাউন্সিলর থেকে শুরু করে কর্মকর্তা–কর্মচারীরাও কাজ করে যাচ্ছেন। আনিসুল হক কিছু দূরদর্শী উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে সেসব কাজ করতে গিয়ে কিছু জটিলতা তৈরি হচ্ছে। তাই বলে আনিসুল হকের শুরু করা কাজগুলো থেমে গেছে বলা যায় না। চলমান আছে।

১২ উদ্যোগের বর্তমান অবস্থাঃ

সবুজ ঢাকাঃ ঘন বসতির শহর ঢাকায় সবুজের সমারোহ ফিরিয়ে আনতে পাঁচ লাখ গাছের চারা বিতরণের কর্মসূচি শুরু করে ডিএনসিসি। ২০১৬ সালের মে মাসে উত্তরায় আনুষ্ঠানিকভাবে ‘সবুজ ঢাকা’ নামের এ প্রকল্প উদ্বোধন করেন আনিসুল হক। পরের তিন বছরে ৫ লাখ গাছ রোপনের পরিকল্পনা ছিল ডিএনসিসির।

প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র আনিসুল হক আশা প্রকাশ করেন, ২০১৮ সালের মধ্যেই রোপনের কাজ শেষ হবে। প্রকল্পের অংশ হিসেবে উত্তরা এলাকায় ২৯ হাজার গাছের চারা লাগানো হয়।

প্রকল্পটির বিষয়ে ডিএনসিসির পরিবেশ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তারিক বিন ইউসুফ বলেন, সবুজ ঢাকা প্রকল্পটিতে সিটি করপোরেশনে কোনও বরাদ্দ ছিল না। মেয়র তার ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কাজটি চালিয়ে আসছিলেন। পরে তার মৃত্যুর পরেও এ প্রকল্পে আর কোনও বরাদ্দ রাখা হয়নি।

চার হাজার বাসঃ ঢাকা শহরের পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে চার হাজার বাস নামানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন আনিসুল হক। ২০১৭ সালের জুলাই মাসে আনিসুল হক পরিবহন মালিক-শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে এ বিষয়ে বৈঠকও করেন। বর্তমানের শ’খানেক বাস কোম্পানি তুলে দিয়ে পাঁচ-ছয়টি কোম্পানির অধীনে চার হাজার বাস চালানোর পরিকল্পনা ছিল প্রয়াত মেয়রের।

সিটি করপোরেশনের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, বাস নামানোর কাজ সিটি করপোরেশনের নয়। নাগরিকদের দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে মেয়র আনিসুল হক বাস নামানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এই চার হাজার বাস নামানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও এখতিয়ার কোনোটাই সিটি করপোরেশনের নেই। এখন এ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হলে সরকারের তত্ত্বাবধানে ঢাকার বাস বালিক ও পরিবহন শ্রমিক সংগঠনগুলোর দায়িত্ব নিতে হবে।

ইউ টার্ন প্রকল্পঃ ঢাকা শহরের যানজট কমাতে মেয়র আনিসুল হক ২০১৫ সালে সাতরাস্তা থেকে উত্তরা পর্যন্ত ১১টি ইউটার্ন (লেন পরিবর্তন করতে ভূমিতেই গাড়ি ঘোরানোর জায়গা) নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান। ডিএনসিসি সূত্র বলছে, প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে শুরু হয়ে ২০১৭ সালের জুন মাসের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পটির অনুমোদন পেতেই লেগে যায় দুই বছরের বেশি। এর পর প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

ইউটার্ন প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে জমি বুঝে না পাওয়ায় অনেকটা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে ১১টি ইউটার্ন নির্মাণের কাজ। প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় জমির মধ্যে সড়ক ও জনপথের ৩১ দশমিক ২৫ বিঘা, রেলওয়ের ১ দশমিক ৬১ বিঘা এবং সিভিল এভিয়েশনের ১ দশমিক ৮৩ বিঘা জমি রয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংস্থাগুলোর কাছে জমি ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে চিঠি দেওয়া হলে তাদের কাছ থেকে এক ধরনের নীতিগত অনুমোদনও মেলে। কিন্তু এগুলো নির্মাণের কাজ শুরু করলে সড়ক ও জনপথ বিভাগের বাধায় তা আটকে গেছে।

বর্তমানে উত্তরার র‌্যাব–১ এর কার্যালয় ও রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্স বাদে বাকি নয়টি জায়গায় নির্মাণকাজ বন্ধ আছে। কাজটির অগ্রগতি সম্পর্কে প্রকল্প পরিচালক ও ডিএনসিসির নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার মাহবুব আলম বলেন,‘কাজটির জন্য সড়ক ও জনপথসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর কাছ থেকে জমি পাওয়ার একটা আশ্বাস আমরা পেয়েছিলাম। এক ধরনের সমঝোতার ভিত্তিতে কাজও শুরু হয়েছিল। কিন্তু কাজের জন্য মাঠে নেমে দেখা গেল কোনোকিছুই অনুকূলে নেই।’

এ বিষয়ে সড়ক বিভাগের সচিব মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এই প্রকল্পের সঙ্গে বাস র্যা পিড ট্রানজিট (বিআরটি) নির্মাণের বিষয়টি সাংঘর্ষিক মনে হওয়ায় সড়ক ও জনপথের পক্ষ থেকে আপত্তি জানানো হয়েছে। মেয়র আনিসুল হক মারা যাওয়ার দুই একদিন আগে ডিএনসিসির কর্মকর্তারা আলোচনার জন্য এসেছিলেন। এরপর ডিএনসিসির কোনো ধরনের তৎপরতা দেখিনি।

তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনাল ও অন্য ১০টি জায়গাঃ বহু বছর ধরে সাতরাস্তা থেকে তেজগাঁও রেলক্রসিং পর্যন্ত সড়ক ও আশপাশের সড়কগুলোতে অবৈধভাবে ট্রাক রাখা হতো। অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে আধা কিলোমিটার এ সড়ক পার হতে এক ঘণ্টার বেশি সময় লেগে যেত। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে মেয়র আনিসুল হক সড়কটি দখলমুক্ত করতে গিয়ে ট্রাক শ্রমিকদের ক্ষোভের মুখে পরেন। পরে সড়কটি দখলমুক্ত করা হয়। গত বছর সাতরাস্তা থেকে রেলক্রসিং পর্যন্ত সড়কের উন্নয়ন করে সড়ক বিভাজকে লাগানো হয় গাছ। সড়কটি দখলমুক্ত হওয়ায় এর সুফলও পেতে শুরু করে নগরবাসী।

তেজগাঁওয়ে ট্রাকস্ট্যান্ড উচ্ছেদে নেতৃত্ব দেন তদানীন্তন মেয়র আনিসুল হক (ফাইল ছবি)আনিসুল হকের প্রয়াণের সঙ্গে সঙ্গে সাতরাস্তা থেকে তেজগাঁও রেলক্রসিং পর্যন্ত সড়কটিতে একটি–দুটি করে ট্রাক ফিরে আসতে শুরু করে। গত শনিবার রাতে ও রবিবার দিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের ভূমি ও জরিপ অধিদফতরের সামনের সড়ক জুড়ে রাখা হয়েছে ট্রাক। সাতরাস্তা মোড়ে এসেনশিয়াল ড্রাগস কোম্পানির উল্টো দিকে, তেজগাঁও ট্রাকস্ট্যান্ডের সামনে এবং রেলক্রসিংয়ের আগে সড়কের পাশে এক সারি করে ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে।

ট্রাক স্ট্যান্ড উচ্ছেদের পর তেজগাঁওয়ের সেই সড়কটিতেজগাঁও ট্রাক টার্মিনাল ছাড়াও ২০১৫ সালের ডিসেম্বর ও ২০১৬ সালের জানুয়ারি মাসে আনিসুল হকের উদ্যোগে ডিএনসিসির আরও আটটি এলাকা পার্কিংমুক্ত ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে গাবতলী, কল্যাণপুর, আমিনবাজার, মহাখালী, মোহাম্মদপুর, আবদুল্লাহপুর বাসস্ট্যান্ড অন্যতম। এসব এলাকাতে অবৈধ পার্কিং ফিরে আসতে শুরু করেছে।

এ বিষয়ে প্যানেল মেয়র ওসমান গণি বলেন, তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালের সামনের সড়ক দখলমুক্ত রাখতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ট্রাক মালিকদের সঙ্গে সভা করে সড়ক থেকে ট্রাক সরিয়ে নিতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। সড়কে ট্রাক রাখলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ব্যবস্থা নিচ্ছে।

গাবতলীর জায়গা উদ্ধারঃ গাবতলী এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীদের দখলে থাকা ৫২ একর জমি গত বছর উদ্ধার করে ডিএনসিসি। রামচন্দ্রপুর স্লুইসগেট এলাকা থেকে ঢাকা-আরিচা রোড সংলগ্ন ইট-বালু-পাথরের আড়ৎ পর্যন্ত এই জমি বিস্তৃত। ১৯৮৯ সালে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রাপ্ত জমিটি প্রভাবশালীরা দখল করে বহুতল ভবন পর্যন্ত নির্মাণ করে ফেলেছিল।

বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্লান্ট নির্মাণঃ বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা ছিল আনিসুল হকের। এজন্য চীনের এমন একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শনও করেছিলেন তিনি। গাবতলীতে অবৈধ দখলে থাকা ৫২ একর জমি উদ্ধারের পর সেখানে বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্লান্ট, মেকানিক্যাল ওয়ার্কশপ, বাস, ট্রাক ডিপোসহ কিছু স্থাপনা করার পরিকল্পনা ছিল।

গত বছরের ৩০ জুলাই প্রকল্পটি উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ করেছিল ডিএনসিসি। মেয়র আনিসুল হক শারীরিকভাবে অসুস্থবোধ করায় নির্ধারিত অনুষ্ঠান বাতিল করা হয়। আনিসুল হক লন্ডন থেকে ফিরলে প্রকল্পটি উদ্বোধন করার কথা ছিল। আনিসুল হক ফেরেননি, প্রকল্পটিও চালু হয়নি।

পার্ক ও খেলার মাঠঃ অযত্ন-অবহেলায় রাজধানীর বেশিরভাগ পার্কের অবস্থাই বেহাল। নষ্ট হয়ে গেছে পরিবেশ, ভবঘুরে আর বাউণ্ডুলেদের আড্ডা মারার স্থানে পরিণত হয়েছে পার্কগুলো। নিজের দায়িত্ব গ্রহণের ২য় বর্ষপূর্তিতে আনিসুল হক জানিয়েছিলেন, তার পরবর্তী কাজের অন্যতম পার্ক ও খেলার মাঠগুলোর উন্নয়ন।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, ডিএনসিসি এলাকার উন্মুক্ত স্থানসমূহের আধুনিকায়ন, উন্নয়ন ও সবুজায়নের জন্য প্রায় ২৮০ কোটি টাকার প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। প্রকল্পের আওতায় ২২টি পার্ক ও ৪টি খেলার মাঠ এবং ডিএনসিসি এলাকার গণশেৌচাগার, স্বাস্থ্যসম্মত জবাইখানা, পদচারী সেতু এবং কবরস্থানেরও উন্নয়ন করা হবে।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির পরিবেশ সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তারিক বিন ইউসুফ বলেন, আনিসুল হকের স্বপ্নগুলো সিটি করপোরেশন বাস্তবায়ন করতে চায়। ডিএনসিসির পার্ক ও খেলার মাঠগুলো অনেক দিন অব্যবস্থাপনায় ছিল। ডিএনসিসির চারটি পার্কের উন্নয়নকাজের দরপত্র করা হয়েছে। পার্ক ও মাঠ উন্নয়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্য পার্ক ও মাঠগুলোর উন্নয়ন করা হবে।

১০০ গণশৌচাগারঃ রাজধানীতে গণশৌচাগারের রয়েছে তীব্র সংকট। এ সংকট থেকে উত্তরণে ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হক একাধিকবার ১০০টি গণশৌচাগার নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছিলেন।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, একনেকে অনুমোদিত প্রকল্পে ডিএনসিসি এলাকায় ৭৩টি গণশৌচাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু গণশৌচাগার নির্মাণের মতো স্থান পাওয়া যাচ্ছে না। তাই ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষ পদচারী সেতুর নিচের জায়গায় শৌচাগার, মার্কেট, পার্কে কমিউনিটি টয়লেট নির্মাণের বিকল্প ভাবছে।

এলইডি বাতি ও সিসি ক্যামেরাঃ ডিএনসিসি এলাকাকে আলো ঝলমলে ও নিরাপদ করতে এলইডি বাতি ও সিসি ক্যামেরা স্থাপনের স্বপ্ন দেখেছিলেন প্রয়াত মেয়র। তার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় এলইডি সড়কবাতি, সিসি ক্যামেরা ও সিসি ক্যামেরা কন্ট্রোল সেন্টার সরবরাহ ও স্থাপন’ শীর্ষক প্রকল্প প্রস্তুত করা হয়। ৪৪২ কোটি ব্যয়ের প্রকল্পটি অনুমোদনও পায় একনেকে।

গুলশানের একটি সড়কে স্থাপিত সিসি ক্যামেরামেয়র মারা যাওয়ার পর থেকে যেন খেই হারিয়ে ফেলেছে প্রকল্পটি। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একটি প্রকল্পে ঢাকা শহরে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ফলে ডিএনসিসি তাদের প্রকল্পে সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজ করবে না। ডিএমপির প্রকল্পের মাধ্যমে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, ডিএনসিসি অনুমোদিত প্রকল্পের শুধু এলইডি বাতি বসানোর কাজ করবে। কিন্তু চলতি অর্থবছরে প্রকল্পটির এখনও অগ্রগতি নেই। ২০১৮ সালের জুনের মধ্যে এলইডি সড়কবাতি বসানোর কাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা কম।

প্যানেল মেয়র ওসমান গণি বলেন, আনিসুল হক চেয়েছিলেন উন্নতমানের এলইডি বাতি বসাতে। ডিএনসিসি চাইল চীন থেকে এলইডি বাতি কিনে এতদিনে লাগিয়ে ফেলতে পারত। ডিএনসিসি জার্মানির একটি কোম্পানির থেকে বাতি কিনবে। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ডিএনসিসির বড় অংশে এলইডি বাতি লাগানো হবে।

সমন্বয় সভাঃ রাজধানীবাসীকে সেবাদানকারী ২৬টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কাজের সমন্বয় করতে নিয়মিত সভা করতে আনিসুল হক। এ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পরিপত্র জারি করার জন্য ২০১৬ সালের ২৪ আগস্ট ২৬টি সেবাদানকারী সংস্থার সঙ্গে প্রথম সমন্বয় সভা করেন তিনি। ২০১৭ সালের ২ জানুয়ারি ডিএনসিসি, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা ওয়াসা এবং জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের মধ্যে আরেকটি সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। মেয়র নিহত হওয়ার পর এর নিয়ে আর কোনো সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়নি।

মোনায়েম খানের বাড়ির উদ্ধার করা জায়গাঃ ২০১৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী মোনায়েম খানের পরিবারের অবৈধ দখল থেকে ১৪ কাঠা জমি উদ্ধার করে ডিএনসিসি। বিমানবন্দর সড়ক ও বনানী ২৭ নম্বর সড়কের সংযোগস্থলে ১১০ নম্বর প্লট-সংলগ্ন অবৈধ দখলে থাকা জায়গাটি দখলমুক্ত হওয়ায় সড়কের প্রস্থে বেড়েছে ২২ ফুট।

উদ্ধার করা জায়গা নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছিলেন আনিসুল হক। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে দিয়ে জায়গাটির নকশা প্রণয়নও করান। পরে কাজটির কোনো অগ্রগতি হয়নি। ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, মোনায়েম খানের পরিবারের দখল উদ্ধার জায়গা নতুন করে সাজানোর কাজটি একটি ভিন্ন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে কবে নাগাদ এটির কাজ শুরু হবে তা নিশ্চিত না।

থমকে গেছে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমঃ ‘গ্রিন ঢাকা ক্লিন ঢাকা’ ক্যাম্পেইন নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন মেয়র আনিসুল হক। এ জন্য একদিকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু করেন। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রায় ৫৫টি সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন স্থাপন করেন তিনি। আরও স্থাপনের পরিকল্পনা ছিলো তার। কিন্তু মেয়রের মৃত্যুতে থমকে গেছে তার সব পরিকল্পনা। বাংলা ট্রিবিউন

এ বিভাগের আরো খবর

Close