ঠিকাদারদের ১১ দফা দাবি

দেশের কয়েক লাখ মধ্যম শ্রেণির ঠিকাদারদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় সরকারের প্রতি ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ সম্মিলিত ঠিকাদার সংগ্রাম পরিষদ। জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে ১১ দফা দাবির কথা তুলে ধরেন সংগঠনটির আহ্বায়ক মুশফিকুর রহমান হান্নান ও সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক। এ সময় সংগঠনের শতাধিক ঠিকাদার উপস্থিত ছিলেন। বাংলাদেশ সম্মিলিত ঠিকাদার সংগ্রাম পরিষদের ১১ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে-জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ও অনুমোদিত তিন কোটি টাকার প্রাক্কলিত দরপত্রে মধ্যম শ্রেণির ঠিকাদারদের সবাইকে বিনা শর্তে টেন্ডারে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন, বর্তমানে প্রচলিত শতভাগ ইজিপি প্রক্রিয়া স্থগিত রেখে ইজিপি পদ্ধতিতে আরোপিত অযৌক্তিক শর্তাবলী শিথিল ও ঠিকাদারদের প্রশিক্ষিত করে ধাপে ধাপে এই প্রক্রিয়া চালু করা, টার্নওভারের মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতা শনাক্তকরণ শর্ত বাতিল করে প্রকাশ্য লটারির মাধ্যমে সর্বনিম্ন দরদাতা নির্ধারণ, পরিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স এর ক্ষমতা অনুযায়ী বিনা শর্তে টেন্ডারে অংশ নেওয়ার সুযোগ দান এবং একইসঙ্গে অধিদপ্তর কর্তৃক প্রদত্ত ঠিকাদারি লাইসেন্সের আর্থিক সীমা পাঁচগুণ বৃদ্ধি করা, প্রাক্কলন পাস কারিগরি অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, ইউটিলিটি অপসারণ ও অর্থবরাদ্দ করে দরপত্র আহ্বান করা, ঠিকাদারদের জন্য নির্ধারিত লভ্যাংশ দশ শতাংশ থেকে বিশ শতাংশ করা, দরপত্রে ওয়ার্ক কমপ্লিশন সার্টিফিকেটের মেয়াদ পাঁচ বছরের জায়গায় দশ বছর করা, দরপত্রে অংশগ্রহণে জয়েন্ট ভ্যানচারের ক্ষেত্রে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পার্টনার প্রতিষ্ঠানের পূর্ব অভিজ্ঞতা সনদ ও শর্তসমূহ বাতিল করা, সওজ এর রক্ষণাবেক্ষণ খাতে পর্যাপ্ত পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া, টেন্ডার সিকিউরিটির মেয়াদ ৯০দিন নির্ধারণ করা, উন্নয়ন প্রকল্পের প্যাকেজ প্রথা বাতিল করে বিল্ডিং নির্মাণে আলাদা দরপত্র আহ্বান করা, সড়কের ক্ষেত্রে অধিক গ্রুপে দশকোটি টাকা থেকে ত্রিশ কোটি টাকা বিল্ডিং, ব্রিজ, কালভার্ট এর ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা দরপত্র আহ্বান, অপব্যয় রোধে প্রতিমাসে নির্বাহী প্রকৌশলীদের আর্থিক ক্ষমতা ৫০ হাজার টাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ রেখে ভাউচারের মাধ্যমে বিল পরিশোধ করার নিয়ম চালু করা, পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন অধিদপ্তরে ঢালাওভাবে ডিপিএম পদ্ধতির মাধ্যমে কাজ দেওয়া বন্ধ করা।

মুশফিকুর রহমান বলেন, জাতির জনকের সোনার বাংলা গড়তে সরকারের উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে দেশের কয়েক লাখ লোক ঠিকাদারি পেশার মাধ্যমে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, সরকারের আমলাতান্ত্রিক পলিসি, সিন্ডিকেট করে বড় ঠিকাদারদের কাজ নিয়ন্ত্রণসহ নানা কারণে মধ্যম শ্রেণির ঠিকাদাররা আজ অসহায়। অনেকে নির্মাণ কাজ না পেয়ে বেকার হয়ে পড়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটিয়ে সঠিক পদ্ধতিতে নির্মাণ কাজ নিশ্চিত করা এবং মধ্যম শ্রেণির কয়েক লাখ ঠিকাদারের পরিবার পরিজনের জীবন-জীবিকা রক্ষায় আমরা সরকারের কাছে ১১ দফা দাবি তুলে ধরেছি। এসব দাবি দাওয়া বাস্তবায়ন করা হলে কাজের জবাবদিহিতার পাশাপাশি সঠিক সময়ে সঠিক পদ্ধতিতে নির্মাণ কাজ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।’ তিনি সরকারকে ১১ দফা দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

সংগঠনের সদস্য সচিব আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মধ্যম শ্রেণির ঠিকাদাররা সরকারের উন্নয়ন সহযোগিতা করতে ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে নিজেদের টাকা পয়সা খরচ করে ‍সওজ, পূর্ত, পানিসম্পদ বিভাগসহ বিভিন্ন বিভাগের উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করে সময়মত বিল পাচ্ছেন না। বছরের পর বছর ধরে কাজের বিল বকেয়া পড়ে আছে। এতে একদিকে সময়মত ঋণ পরিশোধ করতে না পেরে বোঝা বাড়ছে, ঠিকাদাররা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে পরিবারের জীবন জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন।

Loading...