বাংলাদেশ

জেনে-বুঝে রাখাইনের মতো গোলমাল জিনিস দেশের সঙ্গে যুক্ত করব নাঃ প্রধানমন্ত্রী

মার্কিন কংগ্রেসম্যান শ্যারনের রাখাইনকে বাংলাদেশের মানচিত্রের সঙ্গে জুড়ে দেয়ার কথা অত্যন্ত গর্হিত কাজ, অন্যায় বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রিয় পাঠক আমাদের পেজে লাইক দিয়ে আমাদের সাথে থাকুন

তিনি বলেন, রাখাইন স্টেটে প্রতিনিয়ত যে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে তা আমরা জেনে-বুঝে ওই ধরনের একটা গোলমাল জিনিস আমার দেশের সঙ্গে যুক্ত করব কেন? এটা আমরা কখনই করব না। আমাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার। সেখানকার লোকেরা যখন আশ্রয় চেয়েছে, মানবিক কারণে আমরা তাদের আশ্রয় দিয়েছি।

সোমবার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে সদ্য সমাপ্ত চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, আশ্রয় দেয়ার অর্থ এটা নয় যে, আমরা তাদের রাষ্ট্রের একটা অংশ নিয়ে চলে আসব। এ মানসিকতা আমাদের নেই, এটা আমরা চাই না। প্রত্যেকটা দেশ তার সার্বভৌমত্ব নিয়ে থাকবে, সেটাই আমরা চাই। আমরা এটাও চাই যে, এ কথা না বলে বরং মিয়ানমার যেন তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যায় এই কংগ্রেস ম্যান শ্যারনের সেটাই করা উচিত। সেটাই হবে মানবিক দিক। সেখানে যে সব মানবতা লঙ্ঘন হচ্ছে, যা কিছু হয়েছে তাদের সেটা দেখা উচিত। এভাবে একটা দেশের ভেতরে একটা গোলমাল পাঁকানো এটা কোনো মতেই ঠিক নয়।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমার যে সীমানা আছে, তাতেই আমরা খুশি। অন্যের জমি নিয়ে আসা বা অন্যের কোনো প্রদেশ আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া এটা আমরা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করি। এটা আমরা কখনই নেব না। প্রত্যেক দেশ তার সভরেন্টি নিয়ে থাকবে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার তার সভরেন্টি নিয়ে থাকবে। সেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে রাখাইন স্টেট জুড়ে দিতে চায় কেন? এ ধরনের কথা বলা এটা অত্যন্ত গর্হিত কাজ, অন্যায় বলে আমি মনে করি। হতে পারে তারা খুব বড় দেশ। সে দেশের একজন কংগ্রেসম্যান। কিন্তু তারা কী তাদের অতীত ভুলে গেছে? তাদের যখন গৃহযুদ্ধ লেগেই থাকতো। সেই অতীত তো তাদের ভুলে যাওয়া উচিত নয়। সেটা যে ভবিষ্যতেও আসবে না সেটা তারা কীভাবে ভাবে?

তিনি আরও বলেন, যেখানেই তারা হাত দিয়েছে সেখানেই তো আগুন জ্বলছে। কোথাও তো শান্তি আসেনি বরং জঙ্গিবাদ সৃষ্টি হয়েছে। অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে। আমাদের অঞ্চলটা আমরা একটু শান্তিপূর্ণভাবে থাকার চেষ্টা করছি। এখানেও তাদের আগুন লাগানোর প্রচেষ্টা। এটা কখনই গ্রহণযোগ্য নয়।

রোহিঙ্গা-সংক্রান্ত অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা (চীন) বলেছেন, বিষয়টা তারা বিবেচনা করবেন, দেখবেন। এটা কী সুখবর মনে হচ্ছে না? না, দুঃখের খবর মনে হচ্ছে? এটা ঠিক যে চীন মিয়ানমারের সঙ্গে সব সময় আছে। এই যে রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আছে। এটা যে বাংলাদেশের জন্য বিরাট সমস্যা এই কথাটা তো তারা নিজেরা উপলব্ধি করতে পারছে। সেই জন্যই মনে করছেন এ বিষয়টার দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত। এজন্য তারা যতটুকু করার প্রয়োজন ততটুকু করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

প্রিয় পাঠক আপনার মতামত জানান

এ বিভাগের আরো খবর

Close