চক্র: সিআইডি প্রশ্নপত্র ফাঁসে আধুনিক ডিভাইস ব্যবহার করছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসে জড়িত চক্রের সন্ধানে নেমেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আধুনিক ইলেকট্রিক ডিভাইস ব্যবহার করে চক্রের সদস্যরা এ কাজ করছে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা নিশ্চিত হয়েছেন।
সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মুহম্মদ মিনহাজুল ইসলাম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘গ্রেপ্তারকৃতরা রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিচ্ছে। বিশেষ করে কীভাবে চক্রের লোকজন প্রশ্নপত্র সরবরাহ করে। এছাড়া ইলেকট্রিক ডিভাইসও তদন্তের স্বার্থে বিশ্লেষণ করা হয়। এ থেকে এ চক্রে কারা আছে তাদের ব্যাপারে ধারণা মিলেছে। শিগগিরই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

সিআইডির তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাবির দুই কর্মচারীর জড়িত থাকার বিষয়টি রিমান্ডে গ্রেপ্তারকৃতদের তথ্যে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত। প্রশ্নপত্র কীভাবে আসে, কীভাবে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে যায় তার বিস্তারিত বলেছে তারা। তাদের দেওয়া তথ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজনকে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। আধুনিক একটি কমিউনিকেশন্স ডিভাইস (মাস্টার কার্ড সদৃশ) ও অতিক্ষুদ্র এয়ারপিস ব্যবহার করে পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রশ্নের উত্তর বলে দেওয়া হয়। আর পরীক্ষার্থীরা মাস্টার কার্ডের ডিভাইস মানিব্যাগে রেখে কানে এয়ারপিস দিয়ে অপর প্রান্তে চক্রের লোকজনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। এ পদ্ধতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হতে পারে। তারই এখন তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, ২০ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ‘ঘ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা চলাকালে প্রশ্নপত্র ফাঁস জালিয়াতি চক্রের তিনজনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। এদের মধ্যে চক্রের মূলহোতা ঢাবির অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র আবদুল্লাহ আল মামুন। তাকেসহ ফিজিক্সের মাস্টার্সের (ছাত্রলীগ নেতা) ছাত্র মহিউদ্দিন রানা এবং ইশরাক আহমেদ রাফীকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

Loading...