গ্রেনেড হামলার দায় খালেদা জিয়া এড়াতে পারেন না : কাদের

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রী না থাকায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান জানতেন আর খালেদা জিয়া জানতেন না, এটা নয়। তাই তিনিও এ ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না। সেজন্য আমরাও খালেদা জিয়ারও বিচার দাবি করছি। বললেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
বুধবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ২১ আগস্টের ঘটনা ছিল রাষ্ট্রীয় মদদে সরকারি জঙ্গি হামলা। ওই সময়ে দায়িত্বরত সেনা গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানের ভাষ্য থেকে একথা পরিষ্কার খালেদা জিয়াও এ হামলা সম্পর্কে অবগত ছিলেন। গ্রেনেড হামলা ছিল রাষ্ট্রীয় পাপ। আমরা খালেদা জিয়ারও বিচার দাবি করছি।
তিনি আরও বলেন, তারেক রহমান যা করেছেন, তাতে তার প্রাপ্য ছিলো সর্ব্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। আমরা এ মুহূর্তে তার ফাঁসি দাবি করছি। যে বর্বর, এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছিলো সেই মুফতি হান্নান আদালতে ৬৪ ধারায় দেয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, তারেক রহমানের অনুমতি নিয়েই সে অপারেশন শুরু করেছিলো।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলাকে বিএনপির রাজনৈতিক পাপ দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা ন্যায় বিচার চেয়েছি, আমরা জাস্টিস চেয়েছি। আমরা বিচারকে প্রভাবিত করিনি। বিচারিক কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতে চলছে। আজ আদালত বিলম্ব হলেও যে রায়টি দিয়েছেন। আমরা মনে করি, এটা একটা ভালো রায়। কিন্তু এ রায়ে আমরা অখুশি, পুরোপুরি সন্তুষ্ট নই।
আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, অন্তত বিচার তো একটা হয়েছে, বিচারহীনতা তো থাকেনি। ইনফিউরিটি কালচারের (বিচারহীনতার সংস্কৃতি) যে প্রবণতা বিএনপির আমলে ছিল, সেটা তো হয়নি। সেজন্য আদালত অবশ্যই ধন্যবাদ পেতে পারে। কিন্তু আমরা সন্তুষ্ট নই।
আপিল করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, এটা সরকারের বিষয়। আমি আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, এ ব্যাপারে আপিল অবশ্যই করতে হবে। আমি যা বলছি, এটা আওয়ামী লীগের বক্তব্য।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ২১ আগস্ট সম্পর্কে মির্জা ফখরুল যা বললেন তা দেশের মানুষের কাছে হাস্যকর। কেন আপনারা আলামত নষ্ট করলেন? কেন ধুয়ে মুছে সব পরিষ্কার করে ফেললেন? বিচারপতি জয়নাল আবেদিন তদন্তের নামে কি তামাশা করেছিলেন! তিনি বলেছিলেন এ ঘটনায় পাশ্ববর্তী দেশ জড়িত। তবে জাতির কাছে আজ সত্য প্রকাশিত হয়েছে। সত্য ধামাচাপা দেয়া যায় না।
সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, দীপু মণি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, এ কে এম এনামুল হক শামীম, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

ফেসবুক মন্তব্য
Share.