কিশোরীকে গণধর্ষণ, গ্রেপ্তার-১

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে সর্বনাশ হলো ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর।গণধর্ষণের শিকার হয়ে এই কিশোরী এখন ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। লুৎফর নামে অভিযুক্ত এক ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

কিশোরীর বাড়ি পীরগঞ্জ উপজেলার বৈরচুনা ইউনিয়নে। ধর্ষণের ঘটনায় রেজাউল ও লুৎফরসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৪ জনের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে ।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নির্যাতিতা কিশোরী জানায়, সে পীরগঞ্জের একটি হোটেলে দৈনিক হাজিরা ভিত্তিতে সবজি কাটা, বাসন ধোয়ার কাজ করে। শুক্রবার রাতে হোটেলের কাজ শেষে বের হলে রেজাউল নামে পরিচিত এক চাচা খবর দেয় তার (কিশোরীর) বড় আব্বা রিক্সা চালাতে গিয়ে দুর্ঘটনায় পড়েছে, তাই তাকে যেতে বলেছে।

রেজাউল এ সময় কিশোরীকে একটি অটো রিকশায় তুলে কিছুদূর গিয়ে একটি ফাঁকা রাস্তার পাশে কিশোরীকে নামিয়ে নেয় । সেখানে রেজাউলের সাথে লুৎফরসহ আরো ৪ জন যোগ দেয়। কিশোরীকে ৬ জন তুলে নিয়ে একটি আখ খেতে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এ সময় চিৎকার করলে কেউ এগিয়ে আসেনি। জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তারা পালিয়ে যায়।

‘ভোর বেলা জ্ঞান ফিরে আসলে দেখতে পাই পাশে একটি মোবাইল ফোন পড়ে আছে। কোন মতে অসুস্থ অবস্থায় পীরগঞ্জ থানায় যাই। ঘটনাটি ওসি স্যারকে খুলে বলি ও মোবাইল ফোনটি জমা দেই। পুলিশ পরে পীরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে দেয় আমাকে। গতকাল রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য এসপি স্যার ঠাকুরগাঁও হাসপাতালে ভর্তি করে ।’ এভাবে হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে ওই দিনের ঘটনার বণর্না দিচ্ছিলেন নির্যাতিত কিশোরী। এ সময় নির্যাতনের ঘটনায় ধর্ষকদের শাস্তি দাবি করেন ওই কিশোরী।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নিশা মর্তুজা আকতার জানান, গণধর্ষনের ঘটনায় অসুস্থ এক কিশোরী ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুজ্জামান বলেন, ‘কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনায় লুৎফর নামে এক ধর্ষককে আটক করা হয়েছে। নির্যাতিত কিশোরির বড় আব্বা ৬ জনের বিরুদ্ধে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন। আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।’

ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার ফারহাত আহমেদ বলেন, ‘ মেয়েটির উপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনাটি আমার নিজের মনকেও নাড়া দিয়েছে। দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া চলছে ।’

Loading...