ইয়াবা প্রেমে আসক্ত তরুন-তরুনী

Google+ Pinterest LinkedIn Tumblr +

বিডিটাইপ.কম:-নিয়ন্ত্রণহীন মাদক ইয়াবার বিস্তৃতি এখন দেশজুড়েই, ক্রমেই হয়ে উঠেছে সর্বগ্রাসী। ভয়াল মাদক তারুণ্য, মেধা, বিবেক, লেখাপড়া, মনুষ্যত্ব- সবকিছু ধ্বংস করে দিচ্ছে।
বিনষ্ট করে দিচ্ছে স্নেহ-মায়া, ভালোবাসা, পারিবারিক বন্ধন পর্যন্ত।

মাদকাসক্ত সন্তানের হাতে বাবা-মা, ঘনিষ্ঠ স্বজন নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছেন, নেশাখোর পিতা মাদক সংগ্রহে ব্যর্থ হওয়ার ক্রোধে নিজ সন্তানকে খুন করছে অবলীলায়। নেশার টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে আগুনে পুড়িয়ে মারা, মাকে জবাই করা, আদরের সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার মতো মর্মস্পর্শী
ইয়াবার এই ভয়াবহ বিস্তার যে কোনোভাবে রোধ করতে হবে।

সরকারের উচিত হবে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে সে যেই হোক না কেন।
মাদকের আরেকটি নাম হলো মরণ। মাদক সেবনের অর্থই হলো নিজেকে মৃত্যুর দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। নেশায় আসক্ত কেউ নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও একটা সময় আর নিজেকে ফেরাতে পারে না।

নেশাকে সক্রিয় রাখতে যে কোনো ধরনের অসামাজিক ক্রিয়াকলাপ চালাতে দ্বিধা করে না। নেশার প্রবণতা একদিকে যেমন নিজের ক্ষতি বয়ে আনে অন্যদিকে তা পরিবার সমাজ এমন কি সমস্ত রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। বিভিন নেশার মধ্যে ইয়াবা এখন ভয়াবহভাবে বিস্তার করেছে। আসক্ত হয়ে যাচ্ছে উঠতি বয়সি থেকে শুরু করে প্রায় সব ধরনের মানুষ। ইতোমধ্যে এর বিস্তার চারদিকে অশনিসঙ্কেত বয়ে আনছে। এখন পত্রিকার পাতা উল্টালেই দেখা যাচ্ছে চারদিকে শুধু ইয়াবা আর ইয়াবা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও বলছেন, দেশের এমন কোনো স্থান নেই যেখানে ইয়াবা ছোবল মারেনি।
জানা যায়, প্রথম দিকে ইয়াবার তেমন চাহিদা না তৈরি হলেও এখন এর বিস্তর কদর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা ধারণা করছে দেশে বর্তমানে ইয়াবা ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫০ লাখেরও বেশি।

মাদকসেবীদের কাছে ধীরে ধীরে ইয়াবা একদিকে যেমন বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে অন্যদিকে বাড়ছে বিক্রেতার সংখ্যা। প্রতিদিনই যোগ হচ্ছে নতুন নতুন ইয়াবা ব্যবসায়ীর নাম। আগে শুধু পুরুষ ব্যবসায়ীরা ছিল, এখন নারীসহ বিভিন্ন মডেল সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পেশার মানুষ যোগ হচ্ছে বিক্রেতার তালিকায়। এর কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এটি আকারে অত্যন্ত ছোট যা খুব সহজেই বহনযোগ্য এবং এই ব্যবসায় লাভের পরিমাণ অত্যন্ত বেশি। যত দিন যাচ্ছে ততই এর চাহিদা বাড়ছে পাশাপাশি জোগানও বাড়ছে। দ

েশে প্রায় ২৮টির মতো ইয়াবা কারখানার সন্ধান নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ইয়াবা সেবীর সংখ্যা যদি এইভাবে দিন কে দিন বাড়তে থাকে তবে মরণ থাবায় একদিন সব শেষ হয়ে যাবে। কেননা ইয়াবা ব্যবহারের তালিকায় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, অভিনেতা, অভিনেত্রী ক্রমাগত জড়িয়ে যাচ্ছে এই মরণজালে। উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরাও ইয়াবা ব্যবহারের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠছে। নেশাসক্ত মরণ ব্যাধিতে আচ্ছন্ন মানুষ দেশের জন্য অভিশাপ এবং সব উন্নয়নের ক্ষেত্রেও প্রতিবন্ধক।

তাই যে কোনো মূল্যে এই ব্যাধিকে প্রতিহত করতে হবে। এর জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে সরকারের আরো আন্তরিক ও সুনজর দিতে হবে। যদিও মাদক অধিদপ্তরের লোকবল অনেক কম কিন্তু তার পরও অভিযান পরিচালিত হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে ইয়াবা ব্যবসায়ীসহ প্রচুর ইয়াবা আটক করা হচ্ছে। কিন্তু দুর্ভাগ্য এটাই যে, এই ব্যবসার সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন সদস্যও জড়িয়ে পড়ছে। অভিযোগ আছে উদ্ধারকৃত ইয়াবা আবার মাদক ব্যবসায়ীদের কাছে পুলিশ পরে বিক্রি করে দেয়।

এই খবর আমাদের বাকরুদ্ধ করে দেয়!
ইয়াবার এই ভয়াবহ বিস্তার যে কোনোভাবে রোধ করতে হবে। সরকারের উচিত হবে এখনই কঠোর পদক্ষেপ নেয়া। জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে সে যেই হোক না কেন। নিশ্চিত করতে হবে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত লোক যেন তার দায়িত্ব ভুলে সিন্ডিকেটকে সহায়তা না দেয়। এর সাথে সাথে সাধারণ মানুষসহ সবাইকে সচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন পদক্ষেপকে আরো বেগবান করতে হবে। যাতে করে মাদকাসেবীরা নেশার ছোবল থেকে ধীরে ধীরে ফিরে আসে। নেশা যে কোনো মানুষের জন্য মৃত্যুর সমান। এই মরণব্যাধি যেন কোনোভাবে মাথাচাড়া দিয়ে না ওঠে তার জন্য কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে।

ফেসবুক মন্তব্য
Share.